টেক্সাসের ডায়েরি

সুমনা চিসিম

মঙ্গলবার , ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ at ১০:২৯ পূর্বাহ্ণ
52

(পূর্ব প্রকাশিতের পর)
(শেষ পর্ব)
Thanksgiving এবং Black Friday এর পর পরই Christmas শুরু হয়ে গেল পুরো দেশ জুড়ে। টেক্সাসের এ বার্লেসন সিটিতেও তাই। চারিদিকে। ঘরে বাইরে সর্বত্র উৎসব উৎসব।
বাসা থেকে বের হলেই দেখা যায় ঘরের দরজা ও আঙ্গিনায় নানারকমের সাজ। এখানকার রেওয়াজই যেন এমন। নিজ নিজ আঙ্গিনা ও ঘরের ভিতর খৃষ্টমাস ট্রি দিয়ে সাজানো। এদিকে ছোট বড় শপিং মলগুলোয় খৃষ্টমাস সাজানোর হরেকরকম অর্নামেন্টস-এর ছড়াছড়ি । হুড়মুড় করে কিনছে সবাই । আমরাও কয়েকদিন ধরেই এখানে ওখানে ঘুরে দেখছি। অল্পস্বল্প সাজাবো বলে টুকটাক কিনছিও। তবে এদেশের মানুষজনের ঘর সাজানোর অর্নামেন্টস কেনা দেখে অবাকই হচ্ছি! বোঝা যায় সকলে ঘর সাজাতে খুব ভালবাসে। সাজাচ্ছেও ভালোই। তাই যে-যার মত কিনছে। তা যত দামেই হোক।
আবার রাতেরবেলায় খৃষ্টমাস সাজানোর আরেক রূপ্ত! সারি সারি বাড়ির আঙ্গিনাগুলো আলোয় আলোয় ভরে গেছে। এটা সারা সিটি জুড়েই । ডিসেম্বর মাসের ১ তারিখ থেকেই এ আলোকসজ্জার শুরু। প্রায় প্রতিটি বাড়ি বাহারি আলোকসজ্জায় সজ্জিত ! একেকজন একেক রকমের ও ভিন্ন ভিন্ন রঙের সাজে সাজিয়েছে। লাল সবুজ সাদা কমলা নীলসহ কত রঙের লাইট দিয়ে ভরিয়ে দিয়েছে। রাতেরবেলা অপরূপ এ-আলোকসজ্জা দেখতে দেখতে মনে হচ্ছিল আরও আরও দেখি ! তাই এ-রাস্তা সে-রাস্তা চক্কর দিয়ে বেড়িয়েছি। ছবি তুলতে তুলতে আর কত তোলা যেতে পারে তার শেষ কোথায় তা বুঝতে পাচ্ছিলাম না ! শেষ হচ্ছিল না। খালি মনে হচ্ছিল ভালো ক্যামেরা না হলেই নয়। সে যাক।
ক্যামেরায় বন্দি করতে না পারলেও দু’চোখ তো ভরবে আলোর এ রূপে। আরেকদিন ঘুরে দেখতে হবে অন্য এলাকা! এখানকার মানুষের রীতি রেওয়াজটা আসলে আমাদের থেকে অনেক অনেক আলাদা। তাঁরা নিজেরা খুব সাজে বলে মনে হলো না। হাটে বাজারে কাউকে দেখিনি সেজেগুজে বের হতে। ঘরবাড়ি সাজানোতেই মশগুল যেন।

উপহার কেনারও ধুম লেগে গেছে! চুপিসারে কেনার একটা আলাদা মজাই বলা চলে। সবাই সবাইকে সারপ্রাইজ দিতে চুপচাপ উপহার কিনে। সে যে বয়সেরই হোক না কেন। পরিবার থেকে শুরু করে বন্ধু বান্ধব, ওল্ড হোম, শিশু, হোমলেস এরকম অনেকের জন্য উপহার কিনে তাঁরা। তাই প্রতিদিন শপিং মলগুলোতে মানুষজনের ভিড় -বাড়ছে -বৈ কমছে না।
এখনও খৃষ্টমাসের দু’সপ্তাহ দেরি। এ ক’দিন অপেক্ষায় অপেক্ষায় থাকি না হয়। আমরা বাংলাদেশের কয়েক পরিবার আছি বার্লেসন সিটিতে । আমাদের মত না হোক, তাঁদের মত করে তাঁদের সাথে উৎসবে সামিল হবো এই আশায় রইলাম!
টেক্সাসের ডাইরি -৯
পাতাবিহীন গাছেরও এক অন্যরকম সৌন্দর্য হয় তা নিজের চোখে না দেখলে বোঝা ও উপলব্ধি করা সহজ ছিলো না। অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ থেকে পাতা ঝরা শুরু। প্রায় সব গাছের পাতাই ঝরে এখানে। শুধু Oak গাছ শীত উপেক্ষা করে দিব্যি ঘন সবুজ পাতা নিয়ে ঠাই দাঁড়িয়ে থাকে। শীতের সাথে লড়াই করে টিকে থাকার ক্ষমতা রাখে এ Oak গাছ।
এখানকার শীত এমনই তা পাতা ঝরতে বাধ্য। Oak গাছ ছাড়া প্রায় সব গাছেরই উপায় নেই পাতা সমেত টিকে থাকা। হয়তো কোন এক নতুন পাতার অপেক্ষায় এই ত্যাগ তিতিক্ষা তাদের। তিন কি চার মাস পাতা ছাড়াই জীবন জীবিকা এসব গাছের। ভাবা যায় না!
এটা শুধু ভাবি প্রকৃতির কি খেয়াল! সময় সময় আমরা মানুষ নিজের প্রয়োজনে এদিক-সেদিক ছুটে বেড়াই্ত! প্রকৃতির এ পরিবর্তন উপলব্ধি করার মত সময় পাই তো দেখতে পাই না বা দেখতে পাই তো সময় পাই না। অনেকেই বলে এটা স্বাভাবিক। এরকমই হয় শীত মৌসুমে। আর এ-সময় পরিবেশটা রুক্ষ রুক্ষ পাতাবিহীন মরুভূমির মতো আবহাওয়া তৈরি হয়! মৌসুমে যেই পরিবেশই হোক না কেন সৃষ্টির রহস্যের কাছে আমরা কত অসহায়! কারও এমন কোন শক্তি নেই, ক্ষমতা নেই তা দমন করা । শুধু ভাবি কীভাবে বেঁচে থাকে এ গাছগুলো! দেখলে মনে হয় সব মরা গাছ। হঠাৎ কেউ এসে দেখলে ভাববে মরা গাছ কেন এমন করে রাখে ? কেটে ফেলে না কেন? অথবা এসব মরা গাছের প্রতিকারের কোনো ব্যবস্থা নেয় না কেন ইত্যাদি ইত্যাদি নানান চিন্তা মাথায় ঘুরপাক খেয়ে বসবে…।
সে যাক! আসলে সময়ে সময়ে কতবার কত কি পরিবর্তন প্রকৃতির! প্রথম প্রথম এসে দেখেছি কোন কোন গাছের পাতা ঝরার আগ মুহূর্তে লালচে-হলুদের প্রলেপে ভরে গেছে! মনে হয় কোন এক মহা শিল্পীর ছোঁয়ায় পাতাগুলো এমন অপরূপা হয়ে উঠল। আবার কোন কোনটায় হলদে-সোনালি রঙে ছেয়ে গেলো যেন। এবং এরপর ঝরতে ঝরতে সব ন্যাড়া হয়ে যায়। পাতা থাকলে গাছের ডাল-পালা দেখতে কেমন তা বোঝা যেতো না তেমন। এখন ডাল-পালা পরিষ্কার স্পষ্ট দেখতে পাই। এক ধরনের বা ভিন্ন জাতের ক্যাকটাস ক্যাকটাস মনে হয়। পাতা ঝরা প্রায় শেষ বলা যায়। বর্তমানে যেদিকে চোখ যায় সবখানে পাতাবিহীন গাছই দেখা যায়।

নতুন পাতা আসতে নাকি মার্চ পর্যন্ত সবুর করা লাগবে! এতদিন এভাবেই দিন যাবে । ২০১৯-এ কোন পাতা দেখার সম্ভাবনা নেই আর! আগামী বছর। অর্থাৎ ২০২০ সাল। নতুন বছর। তাই নতুন বছরে নতুন পাতার অপেক্ষায় দিনক্ষণ গুনতে হবে সবারই । মার্চে দেখা মিলবে আরও এক নতুন প্রকৃতির রূপ। আমাদের দেশের বসন্ত কালের মতো কিনা তা ঠিক বলতে পারবো না। তবে তা নিজের চোখে দেখলে মিলিয়ে দেখা যাবে। এ সুযোগ যেন হয়। তার অপেক্ষায় রইলাম।
টেক্সাসের ডাইরি ১০
পুরো ডিসেম্বর মাস জুড়েই খৃষ্টমাস আর খৃষ্টমাস। এ সময় উপহার কেনার ধূম যেমন পড়ে যায়, তেমনি আলোক সজ্জাকরণেও হিড়িক লেগে যায়। চারিপাশ আলোর ঝলমল রঙে রঙিন হয় আর এক অপরূপ সৌন্দর্য সৃষ্টি করে।
এ ধরনের আলোকসজ্জা দেখার ইচ্ছা জাগে বৈকি! আমাদের দেশেও আলোকসজ্জা হয়। কিন্তু খৃষ্টমাসে এক মাস জুড়ে হয় বলে আমার জানা বা দেখা নাই। যা হোক সুযোগটা এসে গেলো। গতকাল টগরী আমাকে নিতে আসছিল রাতে আলোকসজ্জা দেখাবে বলে। টগরী ও ডেনি তারা আমার জন্য নামীদামী এক রেস্টুরেন্টে ডিনারও খাওয়ালো। নাম Chilli, মেক্সিকান খাবার। খুব স্বাদের খাবার ছিল তা এক কথায় বলা যায় ।
খাওয়াদাওয়া সেরে আমরা তিনজন গেলাম আলোক সজ্জার জায়গায়। এটা ছিল Forth Warth এলাকায়। দেখতে দেখতে অন্ধকার হয়ে গেল । এটাই চাওয়া ছিল। রাত যেন তাড়াতাড়িই নামে। যতই রাত নামে ততই আলোর সৌন্দর্যও ফুটে উঠে। দূর থেকেই আলোর ঝলমলে দেখতে পাচ্ছিলাম। মন নেচে উঠলো যেন!
গাড়ি থেকে নামতেই প্রচন্ড ঠান্ডা অনুভব করলাম। আলোর ঝলকানিতে ঠান্ডা সব ভুলে এগিয়ে গেলাম সামনের দিকে । Daystar ছিল এ আলোক সজ্জার আয়োজনে। দেখলাম অনেক লোকজনের সমাগম। ছোট ছোট ছেলে-মেয়ে, যুবক-যুবতী, বয়স্ক মানে সব বয়সের মানুষ এসে ভীড় করেছে। অনেক বড় জায়গা জুড়ে এ আলোক সজ্জা। নানান রঙে রঙ মিশিয়ে সাজিয়েছে। পুরো গাছ আলোয় আলোয় ভরে গেছে। সে কত রকমের রঙ। সাদা রঙে গাছগুলো সারি সারি। দেখতে অপূর্ব লাগছিল। মানুষজন এ আলোর রঙ উপভোগ করছে তা বুঝা যায়। কত জনে কতভাবে ছবি তুলছে। আমরাও তুলছি আর ঘুরে ঘুরে দেখছি! ঘুরতে ঘুরতে রাত বেড়েই যাচ্ছিল সেদিকে খেয়াল ছিলো না আমাদের। অবশেষে ইচ্ছা না হলেও ফিরে আসতে হলো। রাস্তার আশেপাশের বাড়িগুলোর আলোকসজ্জা দেখতে দেখতে টগরীর বাসায় ফিরে এসে রাতও কাটিয়ে দিলাম। আর ফিরতে পারলাম না। টগরী ডেনি তোমাদেরকে অসংখ্য ধন্যবাদ এত সুন্দর আলোকসজ্জা উপহার দেওয়ার জন্য সাথে ডিনারের জন্যও।
১১
৩১ ডিসেম্বর ২০১৯ সাল। বছরের শেষ দিন শেষ রাত। Mckinny- ভ্রমণ করে বিদায় জানালাম ২০১৯ সালকে। অন্যরকম বিদায় বলা যায়। Mckinny টেক্সাসের আরেক শহর। উত্তর দিকে। বার্লেসন শহর থেকে প্রায় ১১৫ কিলোমিটার দূর। গাড়িতে সময় লাগে ১ ঘন্টা বা তারও একটু বেশি। ডালাস হয়ে আরেকটু যেতে হয়। সাইমন রেমা, নির্ঝনি ও তাঁদের দু’মেয়ে নিথুরি ও সেংমি। সকাল সোয়া দশটায় রওনা দিলাম বার্লেসন থেকে। নিথুরি গাড়ি চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছে আমাদের। মাঝপথে সেংমিকে তাঁর গ্যাস স্টেশন থেকে পিকআপ করতে হলো। আমি জানালা দিয়ে দেখছি আর দেখছি। বাইরে বের হলে পুরো রাস্তার দিকেই চোখ যায় আমার। আর ভাবি কীভাবে এত সুন্দর রাস্তাঘাট নির্মাণ করলো এ দেশের প্রকৌশলিরা। গাড়িগুলো আপনাআপনি চলছে যেন! কোন হর্ণ নেই। মাঝে মাঝে মনে হয় কেউ হয়তো রিমোট দিয়ে এ গাড়িগুলো চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এজন্যই নিয়মের কোন হেরফের হচ্ছে না। এসব ভাবতে ভাবতেই পৌঁছে গেলাম গন্তব্যে কখন টেরই পেলাম না।
আমরা দুপুরের আহারের আমন্ত্রণ পেয়েছিলাম বেবর্লি দিও-র পরিবার থেকে। বেবর্লির স্বামী বিপ্লব গোমেজ। দীর্ঘদিন থেকেই এইখানে বসবাস করছে। এক মেয়ে সন্তান তাঁদের। বিপ্লবের বাড়ি ঢাকার আঠারো গ্রামে। আর বেবর্লি ময়মনসিংহ জেলার ধনভাঙ্গা গ্রামের। আমাদের আসকিপাড়া গ্রামের পার্শ্ববতী গ্রাম। বলতে গেলে আমাদের প্রতিবেশী। আমাকে মাসি বলেই ডাকে। Mckinny-তে দু’তলার বাড়ি তাঁদের। এক কথায় খুব সুন্দর বাড়ি। বিপ্লব প্রায় ৪০টি দেশ ভ্রমণ করেছে। তাই নানা দেশের নানান শৈল্পিক Souvenir গুলো দেয়ালে, টেবিলে বা শোকেসে শোভা পাচ্ছিল। শৈল্পিক মনের না হলে এমন শৈল্পিক জিনিশ কেউ বয়ে আনে! ভীষণ এবং ভীষণ ভাল লাগলো আমার।
কিছুক্ষণ ঘুরে ঘুরে দেখলাম প্রতিটি রুম। প্রায় রুমেই এসব Souvenir গুলো সাজিয়ে রেখেছে সুন্দর করে। চোখ আটকে যায়। দু’একটির কথা বলতে পারি। যেমন কাঠের স্টাচু ক্যাম্বদিয়া থেকে আনা। বেলজিয়াম থেকে অন্যরকম এক মারিয়ার সাথে শিশু যীশুর পোট্রেট। রূপালী রঙের। এরকম বালি থেকে আনা এক জেলের জাল মারার বড়সড় মূর্তি, নেপাল, ইন্দিয়া, মেক্সিকো, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা বা আরও কত দেশ থেকে আনা নানান জিনিশ!
এদিকে বাড়ির বাইরে লাউ, ঢেঁড়স, পিঁয়াজ, গাব গাছ, মালটা, কমলা এসব লাগিয়েছে। এখন শীতে সব মরে গেলেও মালটা আর কমলা গাছ বেঁচে আছে এখনও। তবে আশ্চর্যের বিষয় এই মরা লাউ গাছে ফং (গারোদের মদ ও পানি খাওয়ার জন্য ব্যবহৃত বিশেষ)- এর মত লাউ দেখতে পাব তা কল্পনায় ছিল না। তাঁদের নজরে ছিল না এতদিন। আমি এ গাছ দেখতে গিয়ে দেখলাম। আসলে ফং-এর মত কি এটা! গাছ মরে যাওয়াতে বুঝতে পারছিলাম না। বিপ্লব বলল লাউ। মরে গেছে ঠান্ডায়। আমরা সবাই বললাম এটাতো ফং। আসলে লাউ-ই তবে ফং-এর মত আকৃতি হয়েছে। পথে যেতে যেতে কতকিছুর এমনই দেখা মেলে তা বলে বা লিখে প্রকাশ করা যায় না তেমন। সামনাসামনি দেখার মধ্যে একটা আলাদা আনন্দ জড়িয়ে থাকে।
ঘুরে দেখা প্রায় শেষ। এবার খাওয়া দাওয়ার পালা। রান্নাও হয়েছে বেশ স্বাদের। বাঙালি খাবার। পোলাউ, ভাজা রুই মাছ সাথে ভাজা পিঁয়াজ ও ভাজা শুকনো মরিচ, হালকা ভাজা সবজি, পনির, কোপতা, খাসি ও সালাদ। শেষে মিষ্টি আর দুই। আলাপে আলাপে অনেক খাওয়া হয়ে গেল। খাওয়ার পর বিশ্রাম নিলাম গল্পে গল্পে। আর জানতে পারলাম এই এলাকার সাপ, বাঘ বা আরও কিছু জংলি পশুপাখির কথা। বাড়ির আশেপাশেই সাপগুলো ঘুরে বেড়ায়। সামারে নাকি বেশি আসে। ছোট ছোট সাপ। এ-ধরনের সাপকে তাঁরা বলে গার্ডেন স্নেক। এলাকার চারপাশে জঙ্গল। ছোট বাঘ বিড়ালের মত দেখতে। এরা সুযোগ পেলে নাকি মানুষকে কামড়ে দেয়। আমাদের দেশে এসব বাঘকে মেছো মাঘ বলে। গল্প আর শেষ হয় না। পরে চা-য়ের আসর আরও জমলো যেন। সাথে পিঠা, কেক, স্যান্ডউইচ। কি ভালোই দিন পেলাম আমরা। সকলে মিলে ৩১ ডিসেম্বর কাটাচ্ছি। দিনটাও ভালো। রোদ ছিল। তবে ঠান্ডা। তারপরও ঘরে বসে থাকার চেয়ে বাইরে Adriatica গ্রাম ঘুরে আসার জন্য বলাতে আমরা এক বাক্যে রাজি হয়ে গেলাম। বাসা থেকে গাড়িতে ৪-৫ মিনিট।
টেক্সাসে Adriatica গ্রাম। ইউরোপের ক্রোয়েশিয়ার শহর Supetar আদলে Mckinny, টেক্সাসে এমন সুন্দর গ্রাম। Supetar-এর অর্থ হল সেন্ট পিটার। এই গ্রাম করার পিছনে অনেক জনের অবদান। তা শুনতে শুনতে দেখার আগ্রহটা আরও বেশি বাড়িয়ে দিল। শুরু করেছিলেন Jeffory D. Blackard ও ক্রোয়েশিয়ার কয়েকজন বন্ধুবান্ধব। ক্রোয়েশিয়ার আদলে ঈযধঢ়বষ, ফোয়ারা, বেল টাওয়ার, St. Paul’s Square, পাথরের বাড়ি, পাথরের রাস্তা, পাথরের ব্রীজ ও অনেক বড় লেক। এ লেকে বড় বড় মাছেরও বিচরণ। ফান বা মজা করার জন্য বড়শিতে মাছ ধরতে পারলেও ছেড়ে দিতে হয়। বাড়িতে নিয়ে আসা বারণ। লেকের পানি স্বচ্ছ নীল। আকাশের নীল রঙের সাথে পানির নীল রঙ যেন লুকোচুরি খেলে। নয়ন জুড়ে যায়। অনেকক্ষণ বসে থাকতে ইচ্ছে করছিল। কিন্তু এমনই ঠান্ডা বসে থাকা কষ্টকর। তারপরও আমরা হেঁটে হেঁটে ঘুরে দেখেছি। এ গ্রামের বাড়িগুলির ডিজাইন প্রায় একই আবার বাইরের ল্যাম্বগুলিও একই রকম।
লেকের কিনারে Bella Donna Chapel যা ক্রোয়েশিয়ার গীর্জার আদলে নির্মাণ করা হয়েছে। এই Chapel-এ অনেকে বিয়ে করতে আসে। বিয়ে করতে আসা এক কনেকেও দেখলাম। এটা আমাদের সৌভাগ্য বলা যায়। আরেকটি টাওয়ারের কথা না বললেই নয়। সেটা হল Bell Tower এবং অপূর্ব দেখতে। দূর থেকেই দেখা যাচ্ছিল। আরও বেশি দেখার ইচ্ছে ছিল। কিন্তু সূর্য ডোবার আগে আগেই আমাদের ফিরতে হল। আরও এক ঘন্টার পথ পাড়ি দিতে হবে। রাত হবে ফিরতে ফিরতে। বাসায় এসেই বের্বালি ও বিপ্লবকে বিদায় জানিয়ে বেড়িয়ে পড়লাম। বিদায় Mckinny ! বিদায় Adriatica গ্রাম! বিদায় ২০১৯!