টেকনাফে আত্মসমর্পণকারী ১০১ ইয়াবা কারবারির বিরুদ্ধে চার্জশিট

কক্সবাজার প্রতিনিধি

মঙ্গলবার , ২১ জানুয়ারি, ২০২০ at ৫:২৯ পূর্বাহ্ণ

টেকনাফ হাই স্কুল মাঠে আত্মসমর্পণকারী ১০২ ইয়াবা কারবারির বিরুদ্ধে দায়ের করা দুটি মামলায় ১০১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার বেলা ১টার দিকে কক্সবাজারের ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক তামান্না ফারাহর আদালতে পুলিশ এ চার্জশিট জমা দেয়। আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে একজনের মৃত্যু হওয়ায় চার্জশিট থেকে তার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) টেকনাফ মডেল থানার ওসি (তদন্ত) এবিএম এস দোহা জানান, গত বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি ১০২ ইয়াবা কারবারি আত্মসমর্পণ করেছিলেন। তাদের মধ্যে কারাগারে থাকা ১০১ জনের বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র আইনে দায়ের করা দুটি মামলায় পুলিশ আদালতে চার্জশিট জমা দিয়েছে। কারা হাজতে থাকাকালীন সময়ে টেকনাফ সাবরাং ইউনিয়নের মুন্ডারডেইল এলাকার ফজল আহমদের ছেলে মোহাম্মদ রাসেলের মৃত্যু হওয়ায় তাকে চার্জশিট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। আইও আরো জানান, ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন এর ৩৬/১ এর (১০) ধারায় এবং অস্ত্র আইনে পরস্পর যোগসাজশ করে নিজ নিজ দায়িত্বে অবৈধভাবে ইয়াবা ও অস্ত্র রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে আসামিদের বিরুদ্ধে।
যাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে তারা হলেন- টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের মোয়াজ্জেম হোসেন ওরফে দানু মেম্বার, শাহপরীর দ্বীপের রেজাউল করিম মেম্বার, সামশু মেম্বার, সাহেদ রহমান নিপু, সাহেদ কামাল, নুরুল আমিন, আলী আহমদ, মৌলভী বশির, হোসেন আহমদ, শওকত আলম, রাসেল, ডেইল পাড়ার নুরুল আমিন, মুন্ডার ডেইল এলাকার মনজুর, আলীর ডেইলের জাফর আহমদ, আবদুল হামিদ, শামীম, দক্ষিণ নয়াপাড়ার নূর মোহাম্মদ, আলমগীর ফয়সাল, ডেইল পাড়ার মো. সাকের মিয়া, নয়াপাড়ার মো. তৈয়ব, টেকনাফ পৌর এলাকা ও সদর ইউনিয়নের আবদু শুক্কুর, আমিনুর রহমান ওরফে আবদুল আমিন, দিদার মিয়া, আবদুল আমিন, নুরুল আমিন, শফিকুল ইসলাম সফিক, ফয়সাল রহমান, আবদুর রহমান, জিয়াউর রহমান, পৌর কাউন্সিলর নুরুল বশর ওরফে নুরশাদ, দক্ষিণ জালিয়াপাড়ার ইমাম হোসেন, বড় হাবিব পাড়ার ছিদ্দিক, পুরনো পল্লানপাড়ার শাহ আলম, অলিয়াবাদের মারুফ বিন খলিল বাবু, মৌলভী পাড়ার একরাম হোসেন, মধ্যম ডেইল পাড়ার মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, চৌধুরী পাড়ার মংমং ছেং ওরফে মমচি ও দক্ষিণ জালিয়া পাড়ার জুবাইর হোসেন, মধ্যম জালিয়া পাড়ার মোজাম্মেল হক, ডেইল পাড়ার আবদুল আমিন, নাজির পাড়ার এনামুল হক মেম্বার, ভুট্টোর ভাগিনা আফসার, আবদুর রহমান, সৈয়দ হোসেন, মো. রফিক, মো. হেলাল, জামাল হোসেন, মৌলভী পাড়ার মো. আলী, নাইটং পাড়ার মো. ইউনুস, উত্তর লম্বরীর আবদুল করিম ওরফে করিম মাঝি, সদর কচুবনিয়ার বদিউর রহমান, রাজার ছড়ার আবদুল কুদ্দুস, জাহালিয়া পাড়ার মো. সিরাজ, নতুন পল্লানপাড়ার মো. সেলিম, নাইট্যং পাড়ার মো. রহিম উল্লাহ, চৌধুরী পাড়ার মোহাম্মদ আলম, তুলাতলীর নুরুল বশর, হাতিয়ার ঘোনার দিল মোহাম্মদ, মোহাম্মদ হাছন, রাজার ছড়ার হোসেন আলী, উত্তর জালিয়াপাড়ার নুরুল বশর মিজি, আবদুল গনি, জালিয়া পাড়ার মো. হাশেম, পুরান পল্লান পাড়ার ইসমাইল, নাইট্যংপাড়ার আইয়ুব, নুর হাবিব, মাঠপাড়ার কামাল, শিলবনিয়াপাড়ার আয়ুব, জালিয়াপাড়ার আলম, নুরুল আলম, বাহারছড়া ইউনিয়নের জাহাজ পুরার নুরুল আলম, শামলাপুর জুমপাড়ার শফি উল্লাহ, ছৈয়দ আলম, উত্তর শীলখালীর মো. আবু ছৈয়দ, হ্নীলা ইউনিয়নের হ্নীলা পশ্চিম লেদার নুরুল হুদা মেম্বার, আলী খালীর জামাল মেম্বার, শাহ আজম, পশ্চিম সিকদারপাড়ার ছৈয়দ আহমদ, রশিদ আহমদ, পশ্চিম লেদার নুরুল কবীর, পূর্ব লেদার জাহাঙ্গীর আলম, জাদিমোরার মোহাম্মদ হাসান আবদুল্লাহ, লেদার ফরিদ আলম, মো. হোছন, জহুর আলম, আবু তাহের, বোরহান, হামিদ, রবিউল আলম, আলীখালীর হারুন, হ্নীলা পশ্চিম সিকদার পাড়ার মাহাবুব, বাজারপাড়ার মো. শাহ, পূর্ব পানখালীর নজরুল ইসলাম, পশ্চিম পানখালীর নুরুল আবছার, ফুলের ডেইলের রুস্তম আলী, আলী নেওয়াজ, আবু তৈয়ব ও রমজান ও কঙবাজারের শাহজাহান আনসারী।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি টেকনাফ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এমপি ও আইজিপি ড. জাবেদ পাটোয়ারী উপস্থিতিতে কঙবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন বিপিএম (বার) এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে ১০২ জন তালিকাভুক্ত ইয়াবা কারবারি আত্মসমর্পণ করেন। অনুষ্ঠান শেষে ওই দিনই দুটি মামলায় আটক দেখিয়ে আত্মসমর্পণকারীদের কঙবাজার কারাগারে পাঠানো হয়। ১০২ ইয়াবা ব্যবসায়ীর মধ্যে একজন ছাড়া বাকি সবাই টেকনাফের বাসিন্দা।