টাইগার পাস, কালুরঘাট, পতেঙ্গা চকবাজারে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

একইদিনে চার সংস্থার ভিন্ন ভিন্ন অভিযান

আজাদী প্রতিবেদন

বৃহস্পতিবার , ২৩ জানুয়ারি, ২০২০ at ১০:১২ পূর্বাহ্ণ
1641

নগরীর বিভিন্নস্থানে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে প্রশাসনের বিভিন্ন সংস্থা। এ সময় রাস্তার উপর নির্মিত অবৈধ দোকান, ফুটপাতের ওপর নির্মিত স্থাপনাও উচ্ছেদ করা হয়। টাইগার পাস কলোনিতে রেলওয়ে, কালুরঘাট বিসিক শিল্প এলাকায় জেলা প্রশাসন, পতেঙ্গায় সিএমপির ট্রাফিক বিভাগ এবং চকবাজারে সিটি কর্পোরেশনের ভ্রাম্যমান আদালত এসব অভিযান পরিচালনা করে।
টাইগারপাস কলোনিতে দিনব্যাপী উচ্ছেদ অভিযান : রেলওয়ে পুর্বাঞ্চালের এস্টেট বিভাগের অধীনে টাইগারপাস কলোনিতে দিনব্যাপী উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে সাড়ে ৭শ’ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে ৪ দশমিক ৫৪ একর ভূমি। গতকাল বুধবার সকাল ১০টা থেকে খুলশী থানাধীন টাইগারপাস কলোনির আশপাশ এলাকায় জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আশিকুর রহমানের নেতৃত্বে রেলওয়ে এস্টেট বিভাগের অধীনে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চালের প্রধান ভূ সম্পত্তি কর্মকর্তা ইশরাত রেজা, বিভাগীয় ভূ সম্পত্তি কর্মকর্তা মাহাবুব উল করিম। এ ব্যাপারে বিভাগীয় ভূ সম্পত্তি কর্মকর্তা মাহাবুব উল করিম আজাদীকে জানান, সকাল ১০টা বিকাল ৫টা পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযান চলে। অভিযানে রেলের প্রায় ৪ দশমিক ৫৪ একর ভূমি উদ্ধার করা হয়। রেলের জমি থেকে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ না হওয়া পর্যন্ত এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। ইতোমধ্যে আমরা অনেক অবৈধ স্থাপনা অবৈধ দখলদার কাছ থেকে উদ্ধার করেছি। এই বিশাল জমিটি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখলদাররা বস্তি করে বসবাস করছিল। উচ্ছেদ অভিযানে সিএমপি, আরএনবি ও জিআরপি থানার প্রায় ৯০জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
গত তিনমাসেরও বেশি সময় ধরে রেলওয়ে বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি বিভাগের অধীনে পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন জায়গায় রেলের জমি অবৈধ ভাবে দখল করে রাখা অবৈধ দখলদারদের আস্তানায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানা গেছে।
কালুরঘাট বিসিক শিল্প এলাকায় অভিযান : নগরীর কালুরঘাট বিসিক শিল্প এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৪০টি অবৈধ দোকান ও সেমিপাকা ঘর উচ্ছেদ করেছে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালত। গতকাল দুপুরে প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শিরিন আক্তার এই অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে কয়েক কোটি টাকার সরকারি সম্পদ অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে মুক্ত করা হয়। দীর্ঘদিন এসব সম্পত্তি অবৈধ দখলদারেরা নিয়ন্ত্রণ করতেন। জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে কালুরঘাট বিসিক শিল্প এলাকার অবৈধ দখলে থাকা প্রায় ৪০টি দোকান সেমি পাকা ঘর গুড়িয়ে দিয়ে তা অবৈধ দখলমুক্ত করা হয়েছে।
পতেঙ্গায় ৫০ অবৈধ ভাসমান দোকান স্থাপনা উচ্ছেদ : নগরীর পতেঙ্গা থানার স্টিল মিল বাজারে সড়কের পাশে ফুটপাত দখল করে তৈরি করা হয়েছিল বিভিন্ন ভাসমান দোকান। গতকাল বুধবার সকালে এসব দোকান উচ্ছেদ করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের বন্দর ট্রাফিক বিভাগ। পতেঙ্গা ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) মঞ্জুর হোসেইন জানান, পতেঙ্গার কাটগড় মোড় থেকে শুরু করে স্টিল মিল বাজার পর্যন্ত গড়ে ওঠা বিভিন্ন বিভিন্ন দোকান ও স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। অভিযানে ৩টি অবৈধ ভ্যান গাড়ি জব্দ করা হয় এবং ৫০টির অধিক ভাসমান দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছে। এখন সড়কে যানচলাচল ও ফুটপাতে পথচারীরা নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবে। এই ধরণের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।
চকবাজারে সগক ও ফুটপাতের দুই পাশে উচ্ছেদ : নগরীর চকবাজারের হাসমত উল্লাহ মুন্সেফ লেইন ও কেবি আমান আলী সড়কের কাঁচাবাজার মোড় থেকে ফুলতলা পর্যন্ত সড়ক ও ফুটপাতের উভয় পাশ থেকে প্রায় দুইশ অবৈধ দোকান-পাট উচ্ছেদ করা হয়েছে। গতকাল সকালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়। চসিকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আফিয়া আখতার এবং স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট (যুগ্ম জেলা জজ) জাহানারা ফেরদৌস অভিযানে নেতৃত্ব দেন।
এসময় রাস্তা ও ফুটপাতের উপর দোকানের অংশ বৃদ্ধি করা এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পণ্যসামগ্রী স্তুপ করে পথচারীদের চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি করায় ছয় জন দোকানদারকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এর মধ্যে ছগির স্টোরকে ২০ হাজার টাকা এবং আনোয়ারা কাঠ বিতানকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া মো. জাহাঙ্গীর, মো. ইসমাইল, মো. রবিউল ও মো. জহির নামে আরো চারজন মুরগি ও মাংস বিক্রেতাকে ১০ হাজার টাকা করে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।