ঝুলন্ত পার্লামেন্টের পথে ইতালি

বুধবার , ৭ মার্চ, ২০১৮ at ৪:৫৭ পূর্বাহ্ণ
65

এবারের সাধারণ নির্বাচনে কোন দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় ঝুলন্ত পার্লামেন্টের দিকে যাচ্ছে ইতালি। নির্বাচনে বেশি ভোট পড়েছে ডানপন্থীদের ঝুলিতে। ক্ষমতাসীন মধ্যবামপন্থী দল তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। অসাধারণ সাফল্য দেখিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ফাইভ স্টার মুভমেন্ট। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ক্ষমতাবৃদ্ধির বিপক্ষে থাকা প্রতিষ্ঠানবিরোধী এ দল এক তৃতীয়াংশ ভোট পেয়েছে। একক দল হিসেবে তাদের ঝুলিতে সব চেয়ে বেশি ভোট। (এককভাবে প্রথম)

সাবেক প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বারলুসকোনির ডানপন্থী জোট সরকারের নেতৃত্ব দেবে বলে আপাতত ধারণা করা হচ্ছে। তবে কে হবেন পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী এ নিয়ে চলছে জোর আলোচনা। সিলভিও বারলুসকোনির জোট জয় পেয়ে গেলেও কর কেলেঙ্কারিতে দোষী সাব্যস্ত ৮১ বছরের বারলুসকোনি আগামী বছরের আগে ক্ষমতা গ্রহণ করতে পারবেন না। ইতালির ভোটের ফল ইঙ্গিত দিচ্ছে অন্য আশঙ্কার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে দুঃস্বপ্নই বয়ে আনতে চলেছে এই জোট।

পূর্বতন শাসক দল (পিডি) মধ্যবামপন্থীরা জমি হারিয়েছে মাত্র ১৮.% ভোট পেয়ে। সব মিলিয়ে আমেরিকায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতায় আসা বা ব্রেক্সিটের সঙ্গেই তুলনা করা হচ্ছে ইতালির পরিস্থিতিকে। ২০০৯ সালে তৈরি হওয়া ফাইভ স্টারের নেতৃত্বে রয়েছেন লুইগি দি মাইয়ো। প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি, আর্থিক দুর্দশা ও অভিবাসনবিরোধী প্রচার চালিয়ে দক্ষিণ ইতালির দরিদ্র জনতার নয়া ভোটারদের কাছে জনপ্রিয় হয় ফাইভ স্টার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শাসক দল গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে এই সব বিষয়গুলিতেই।

২০১৩ থেকে লিবিয়া থেকে অন্তত ছয় লক্ষ অভিবাসী ঢুকেছেন ইতালিতে। যা নিয়ে দেশের মানুষ ক্ষুব্ধ। ফাইভ স্টার জানিয়ে রেখেছে, জোর দিতে হবে ইতালিতে তৈরি (‘মেড ইন ইতালি’) পণ্যের উপরে। যেমনটা প্রচারের সময় শুনিয়েছিলেন ফরাসি অতিদক্ষিণ দলের নেত্রী মারিন ল্য পেন। ফ্রান্সে অতিদক্ষিণ হাওয়া ঠেকানো গেলেও জার্মানিতে বিরোধী আসন পেয়ে পার্লামেন্টে ঢুকেছে অতি দক্ষিণ দল। অস্ট্রিয়াতেও একই ভাবে চ্যান্সেলর সেবাস্টিয়ান কুর্জকে অতি দক্ষিণ দলের সঙ্গে জোট বেঁধেই সরকারে আসতে হয়েছে। ইতালিও এ বার সে পথে। নির্বাচন পরবর্তী বক্তব্যে ডানপন্থী জোট নেতা লেগা নর্দের সাধারণ সম্পাদক মাত্তেও সালভিনি বলেন, আমাদের জোট সরকার গঠনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। অবৈধ অভিবাসী কমাতে কঠিন ব্যবস্থা আরোপের পক্ষে তিনি আবারও মত প্রকাশ করেন। ক্ষমতাসীন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাত্তেও রেনজি নির্বাচনে দলের পরাজয়ের দায় স্বীকার করে বলেন, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসলে তিনি তার পদ থেকে সরে দাঁড়াবেন।

x