জয় বাংলা কোনো রাজনৈতিক দলের নয়, এটি মুক্তিযোদ্ধাদের স্লোগান

বিজয় মঞ্চের আলোচনায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী

আজাদী প্রতিবেদন

বৃহস্পতিবার , ১২ ডিসেম্বর, ২০১৯ at ৫:১৩ পূর্বাহ্ণ

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, ‘জয় বাংলা’ কখনো কোনো দলীয় বা রাজনৈতিক স্লোগান ছিল না। এটা ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রাণিত হওয়ার মন্ত্র। দেশকে হানাদারমুক্ত করার মন্ত্র। একে জাতীয় স্লোগান হিসেবে ব্যবহারের যে অভিমত সম্প্রতি হাইকোর্ট দিয়েছে তা মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য গৌরবের নয়। এটা জাতীয়ভাবে শুরু থেকেই চর্চা করার প্রয়োজন ছিল, সর্বোচ্চ আদালতকে কেন বলে দিতে হবে? এই জায়গায় আমরা ব্যর্থ হয়েছি। গতকাল বুধবার চট্টগ্রামে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা পরিষদ আয়োজিত বিজয় মেলার দ্বিতীয় দিনে বিজয়মঞ্চে স্মৃতিচারণমূলক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদ্‌যাপন এ দু’টো জাতীয় অনুষ্ঠান মিলে আগামী দুই বছর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময় মুক্তিযোদ্ধারা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস আগামী প্রজন্মের নিকট তুলে ধরবেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সর্বত্র ছড়িয়ে দেবেন। তিনি বলেন, ১৯৭১ ও ৭৫ পরবর্তী ঘটনা আমরা ভুলতে বসেছি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হারিয়ে ফেলছি। এভাবে চলতে পারে না। হানাদারদের দোসর রাজাকার আলবদরদের ভুলে যাওয়া যাবে না। তাহলে মুক্তিযুদ্ধ অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।
মন্ত্রী বলেন, এতিমের টাকা চুরি করে একজন জেল খাটছেন। জেল খাটা বিষয়ে তাদের নেতারা বঙ্গবন্ধুর সাথে তুলনা করছেন, যা অত্যন্ত লজ্জার। কারণ বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য, মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলন করে জেল খেটেছেন। এ দুই জেল খাটার মধ্যে কোনো তুলনা চলে না।
চট্টগ্রামে একটি বিজয় স্তম্ভ ও মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে মুক্তিযোদ্ধাদের দাবির প্রেক্ষিতে মন্ত্রী বলেন, স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে পরামর্শ করে বিজয় স্তম্ভ ও মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হবে।
মুক্তিযোদ্ধা এম এ মনসুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের উপ প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, কেন্দ্রীয় শ্রমিক লীগের কার্যকরী সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মোল্লা আবুল কালাম আজাদ, কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক কে.এম. আযম খসরু, মহানগর আওয়ামী লীগের শ্রম সম্পাদক আবুল আহাদ, রেলওয়ে শ্রমিক লীগ, চট্টগ্রামের সভাপতি শেখ লোকমান হোসেন, শ্রমিক নেতা মাহবুবুল আলম এটলী বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা পরিষদের মহাসচিব মোহাম্মদ ইউনুছ।

x