জয় দিয়ে লিগ শেষ করল আবাহনী এবং ব্রাদার্স ইউনিয়ন

ক্রীড়া প্রতিবেদক

শনিবার , ২৭ এপ্রিল, ২০১৯ at ১১:০৮ পূর্বাহ্ণ
30

শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে দল গঠন করলেও এবারের প্রিমিয়ার লিগে শুরুটা ভাল করতে পারেনি আবাহনী মোটেও। যার খেসারতটা দিতে হয়েছে তাদের বেশ চড়া দামে। বিপুল অর্থ ব্যয়ে দল গঠন করেও শেষ পর্যন্ত শিরোপা জেতা হলোনা জনপ্রিয় এই দলটির। গতকাল লিগের এবারের আসর শেষ করেছে আবাহনী জয় দিয়ে। যেখানে লিগের ১১ রাউন্ড শেষে তাদের নামের পাশে ৮টি জয় লেখা রয়েছে। হেরেছে তিনটি ম্যাচে। যেখানে অপ্রত্যাশিতভাবে হেরেছে একাধিক ম্যাচ। ফলে আরো একবার শিরোপা বঞ্চিত থাকতে হলো দলটিকে। যাকে বলে পচা শামুকে পা কেটে শিরোপা জয় থেকে ছিটকে গেল আবাহনী। গতকাল লিগে নিজেদের শেষ ম্যাচে শহীদ শাহজাহান সংঘকে ৫ উইকেটে হারিয়ে লিগ শেষ করেছে আবাহনী। অপরদিকে লিগের আরেক শিরোপা প্রত্যাশি দল ব্রাদার্স ইউনিয়নকেও হতাশ হয়ে শেষ করতে হলো এবারের লিগ। শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে দল গড়েও খালি হাতে থাকতে হলো ব্রাদার্সকে আরো একটি বছর। গতকাল লিগের এবারের আসরের নিজেদের শেষ ম্যাচে ব্রাদার্স ইউনিয়ন ৯২ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্রকে। তবে শহীদ শাহজাহান সংঘ অনেক বড় চমক দেখিয়েছে এবারের লিগে। টানা চার ম্যাচে হারের পর যখন রেলিগেশন শংকা পেয়ে বসেছিল দলটিকে ঠিক তখনই ঘুরে দাড়ায় শাহজাহান সংঘ। আর সেই যে, ম্যাচ জেতা শুরু করে আর পেছনে ফিরে তাকায়নি। টানা ছয় ম্যাচে জিতে নিজেদের প্রিমিয়ারে থাকাটা নিশ্চিত করে শাহজাহান সংঘ। মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্র লাল ও শেষ পর্যন্ত নিজেদের প্রিমিয়ারে থাকাটা নিশ্চিত করেছে। যদিও দুটি দলই তাদের লিগ শেষ করল হার দিয়ে।
গতকাল এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে টসে হেরে ব্যাট করতে নামে শহীদ শাহজাহান সংঘ। দুই ওপেনার মিনহাজ এবং রাসেল ভাল শুরু করলেও নিজেদের ইনিংসকে বড় করতে পারেনি। ৪৩ রানে বিচ্ছিন্ন হন দুজন। এরপর আবাহনীর দুই বোলার সাজ্জাদ এবং কামরুলের নিয়ন্ত্রিত বোলিং এর মুখে পড়ে কোমর সোজা করে দাঁড়াতে পারেনি শাহজাহান সসংঘের পরের ব্যাটসম্যানরা। ফলে ভাল শুরুর পরও ১৬০ রানে অল আউট হয় শাহজাহান সংঘ। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৭ রান করেন রাসেল। এছাড়া মিনহাজ ২৩, মুস্তাকিম ১৮, আফসারুল ১৭ এবং অধিনায়ক হাসান মুরাদ করেন ১৪ রান। দলের বাকি কেউই দুই অংকের ঘরে যেতে পারেনি। মাত্র ২০ রানে শেষ ৫ উইকেট হারায় শাহজাহান সংঘ। আবাহনীর পক্ষে ৩টি করে উইকেট নিয়েছেন সাজ্জাদ হোসেন এবং কামরুল ইসলাম। ২টি উইকেট নিয়েছেন শামসুদ্দিন বাপ্পা। একটি করে উইকেট নিয়েছেণ আবু বক্কর এবং মিনহাজ।
১৬১ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নামা আবাহনীর দুই ওপেনার যেন ঝড় তুলতে নামেন। কিন্তু ৪৭ রানে গিয়ে বিচ্ছিন্ন হন মিরাজ এবং সাজ্জাদ। ১২ বলে ১৮ রান করে ফিরেন সাজ্জাদ। এরপরও ঝড় অব্যাহত থাকে মিরাজের ব্যাটে। দলকে ৬৬ রানে রেখে ফিরেন মিরাজও। ফিরে আসার আগে ৩৯ বলে ৬টি চার এবং একটি ছক্কার সাহায্যে ৪০ রান করেন এই ওপেনার। তবে শামসুদ্দিন বাপ্পা যেন ঝড় তুলেই যাচ্ছিলেন। ১৩ বলে একটি চার এবং ৪টি ছক্কার সাহায্যে ৩৪ রান করে ফিরেন বাপ্পা। শেষ পর্যন্ত অধিনায়ক কামরুলের ব্যাটে চড়ে জয় নিশ্চিত করে আবাহনী মাত্র ২৩.১ ওভারে। ৪০ বলে ৬টি চার এবং একটি ছক্কার সাহায্যে ৪২ রান করে অপরাজিত থাকেন কামরুল। ২০ বলে ২৪ রান করে অপরাজিত ছিলেণ সাব্বির। শহীদ শাহজাহান সংঘের পক্ষে ২৭ রানে ২টি উইকেট নিয়েছেন জুলহাজ সাগর। একটি করে উইকেট নিয়েছেন মাহতাফ, সাকিব এবং মহিউল ইসলাম।
জহুর আহমদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে সাবেক জাতীয় তারকা ধীমান ঘোষের ব্যাটে বড় জয় পেয়েছে ব্রাদার্স ইউনিয়ন। দারুণ এক সেঞ্চুরি করে দলের মান রক্ষা করেছেন ধীমান। টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে ব্রাদার্স ইউনিয়ন। এক পর্যায়ে ১১৪ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে বড় লজ্জার জন্য অপেক্ষা করছিল ব্যাদার্স। ঠিক তখনই দলের হাল ধরেন ধীমান ঘোষ। একাই দলকে টেনে নিয়ে যান। তবে তাকে বেশ ভাল সহায়তা দেন ১০ নম্বরে ব্যাট করতে নামা সুদিপ্ত দেব। ধীমানের সেঞ্চুরি এবং সুদিপ্তর হাফ সেঞ্চুরির উপর ভর করে খাদের কিনারা থেকে ব্রাদার্স গিয়ে পৌছে পাহাড় চুড়ায়। ২৬৭ রানে থামে ব্রাদার্সের ইনিংস। ধীমান ১২৮ বলে ১৪টি চারের সাহায্যে ১০৮ রান করেন। আর সুদিপ্ত করেন মাত্র ৩৮ বলে ৫টি চার এবং ২টি ছক্কার সাহায্যে ৫১ রান। এছাড়া ফারদিন ১৫, রাব্বি ১১, সোহরাওয়ার্দি শুভ ১৪ এবং শহীদ করেন ২৬ রান। মুক্তিযোদ্ধার পক্ষে ৫৬ রানে ৩টি উইকেট নেন তানভীর। ২টি করে উইকেট নিয়েছেন রোমেল এবং সোহেল। একটি করে উইকেট নিয়েছেন নওশাদ এবং সুমন। ২৬৮ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দলের খাতায় কোন রান যোগ হওয়ার আগেই উইকেট হারায় মুক্তিযোদ্ধা। তবে পুরো লিগে দলকে টেনে নেওয়া রোকন ছিলেন যথারীতি আগ্রাসী। একপ্রান্ত ধরে রেখে দলকে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তৃতীয় উইকেটে জুয়েলকে নিয়ে ৬৬ রান যোগ করে ফিরেন রোকন। ফিরে আসার আগে ৬৭ বলে ৭টি চারের সাহায্যে ৫৪ রান করেন রোকন। তবে শেষ পর্যন্ত জয়ের কাছাকাছিও যেতে পারেনি মুক্তিযোদ্ধা। ১৭৫ রানে থামে তাদের ইনিংস। দলের পক্ষে অন্যান্যের মধ্যে জুয়েল ৪০, তানভীর ১৮, সুমন ১৬ এবং পারভেজ করেন ২৫ রান। ব্রাদার্স ইউনিয়নের পক্ষে ২টি করে উইকেট নেন সোহরাওয়ার্দি শুভ এবং মনিরুল ইসলাম। একটি করে উইকেট নিয়েছেন নাকিব, শহীদ, ওমর ফারুক এব সুদিপ্ত। শিরোপা হাতছাড়া করা বড় দুই দল আবাহণী এবং ব্রাদার্স ইউনিয়নকে এখন অপেক্ষা করতে হবে পরের মৌসুমের জন্য।