জয়ী হলেন মোছলেম

নৌকা : ৮৭,২৪৬ ভোট, ধানের শীষ : ১৭,৯৩৫ ব্যবধান ৬৯,৩১১, ভোট পড়েছে ২২ দশমিক ৯৪ শতাংশ ।। 'কালুরঘাট সেতু নিয়ে মানুষের আশা পূর্ণ করব'

শুকলাল দাশ

মঙ্গলবার , ১৪ জানুয়ারি, ২০২০ at ৫:১১ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম-৮ আসনের উপ-নির্বাচনে ৮৭ হাজার ২৪৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন নৌকার প্রার্থী মোছলেম উদ্দিন আহমদ। এর মধ্যে তিনি বোয়ালখালীতে পেয়েছেন ৫১ হাজার ১৭ ভোট এবং নগরীর ৫ ওয়ার্ডে পেয়েছেন ৩৬ হাজার ২২৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষের প্রার্থী আবু সুফিয়ান পেয়েছেন ১৭ হাজার ৯৩৫ ভোট। দুজনের ভোটের ব্যবধান ৬৯ হাজার ৩১১। ভোটগ্রহণ শেষে গতকাল রাত ৮টায় নগরীর এমএ আজিজ স্টেডিয়ামস্থ জিমনেশিয়ামে স্থাপিত কন্ট্রোল রুম থেকে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাসানুজ্জামান ফলাফল ঘোষণা করেন। এসময় তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নৌকার প্রার্থী মোছলেম উদ্দিন আহমদকে বেসরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষণা করেন। এর আগে গতকাল সোমবার সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত একটানা ১৭০টি কেন্দ্রে ইভিএমে ভোট গ্রহণ চলে।
ঘোষিত ফলাফলে বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ) চেয়ারম্যান এস এম আবুল কালাম আজাদ টেলিভিশন প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ১৮৫ ভোট, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের সৈয়দ মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন চেয়ার প্রতীকে পেয়েছেন ৯৯২ ভোট, ন্যাপের বাপন দাশগুপ্ত কুঁড়েঘর প্রতীকে পেয়েছেন ৬৫৬ ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ এমদাদুল হক আপেল প্রতীকে পেয়েছেন ৫৬৭ ভোট।
বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষিত হওয়ার পর মোছলেম উদ্দিন বলেন, চান্দগাঁও-বোয়ালখালীবাসীর কাছে আমি কৃতজ্ঞ। তারা মনে করেছেন আমাকে নির্বাচিত করলে এই এলাকার উন্নয়ন হবে, বহুল কাঙ্খিত কালুরঘাট সেতু বাস্তবায়ন হবে। তাই তারা আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন। আমি চান্দগাঁও-বোয়ালখালীবাসীর সেই আশা পূর্ণ করতে সর্বোতভাবে চেষ্টা করবো। এক বছরের মধ্যে কালুরঘাট সেতু নির্মাণের কাজ দৃশ্যমান হবে। এ সময় মোছলেম উদ্দিনের সঙ্গে ছিলেন সিটি মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন। তিনি বলেন, এ বিজয়কে আওয়ামী লীগের বিজয় হিসেবে দেখছি। জনগণের রায়ের প্রতিফলন হয়েছে এ নির্বাচনে। ইভিএম নিয়ে বিএনপি যে মিথ্যাচার করেছিল তা ভুল প্রমাণিত হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলার সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ মুনীর হোসাইন খান আজাদীকে জানান, চট্টগ্রাম ৮ আসন সিটি কর্পোরেশনের ৩, ৪, ৫, ৬ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ড এবং বোয়ালখালী উপজেলার কধুরখীল, পশ্চিম গোমদন্ডী, পূর্ব গোমদণ্ডী, শাকপুরা, সারোয়াতলী, পোপাদিয়া, চরনদ্বীপ, আমুচিয়া ও আহলা করলডেঙ্গা ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। মোট ১৭০টি কেন্দ্রে ৪ লাখ ৭৪ হাজার ৪৮৫ ভোটার ছিলেন। কিন্তু সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্রতিটি কেন্দ্রে ইভিএমে ভোট প্রদান করেছেন ১ লাখ ৮ হাজার ৫৮১ ভোটার। যা মোট ভোটের ২২ দশমিক ৯৪ শতাংশ।
দীর্ঘ ৪৭ বছর পর চট্টগ্রাম-৮ আসন থেকে আওয়ামীলীগের প্রার্থী জয়লাভ করায় কর্মী-সমর্থকরা উল্লাসে ফেটে পড়েন। প্রবীন আওয়ামীলীগ নেতা ও বোয়ালখালী উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুল আলম আজাদীকে জানান, এই আসনে ১৯৭৩ সালে আওয়ামীলীগ থেকে কফিল উদ্দিন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এরপর থেকে আওয়ামীলীগের কোন প্রার্থী এই আসনে জয়লাভ করতে পারেননি। ২০০৮ সালের পর থেকে তিনটি নির্বাচনে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা মহাজোট প্রার্থী জাসদের প্রয়াত সাংসদ মইনুদ্দিন খান বাদলকে জয়ী করেছিলেন। এবার দলের নেতাকর্মীরা সবাই নৌকার প্রার্থী মোছলেম উদ্দিনকে জয়ী করার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। তার জয়লাভের মধ্য দিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রাণ ফিরে এসেছে।
এদিকে বোয়ালখালী উপজেলা আওয়ামীলীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক মো. ওয়াসীম মুরাদ জানান, বোয়ালখালীর সর্বস্তরের মানুষ মনে করেছেন আওয়ামীলীগের প্রার্থী ছাড়া কালুরঘাট সেতুসহ বোয়ালখালীবাসীর ভাগ্যের পরিবর্তন হবেনা। তাই সকাল থেকে দল-মত নির্বিশেষে সকলেই নৌকায় ভোট দিয়ে মোছলেম উদ্দিন আহমদকে জয়ী করেছেন। বোয়ালখালী উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৬২ হাজার ৮৯৩ জন। এরমধ্যে ভোট প্রদান করেছেন ৫৯ হাজার ৫২২ জন। এর মধ্যে নৌকা প্রতীক পেয়েছে ৫১ হাজার ১৭ ভোট ও ধানের শীষ পেয়েছে ৬ হাজার ৫০৪ ভোট।

x