জয়িতারা অন্যান্য নারীদের জন্য রোল মডেল

সংবর্ধনা প্রদানে প্রতিমন্ত্রী ইন্দিরা

আজাদী প্রতিবেদন

বৃহস্পতিবার , ১৪ নভেম্বর, ২০১৯ at ২:৩৬ পূর্বাহ্ণ
171

নৈতিক শিক্ষার অভাবে তারেক রহমান (বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান) দুর্নীতি করে পলাতক আছেন বলে মন্তব্য করেছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা। তিনি বলেন, সন্তান কোথায় যাচ্ছে এবং কী করছে তার খবর মা-বাবাদের রাখতে হবে। কারণ নৈতিক শিক্ষা মা-বাবা দিয়ে থাকেন এবং স্কুল দেয় সাধারণ শিক্ষা। সজীব ওয়াজেদ জয় এখন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যোগ্য সন্তান। বিপরীতে বেগম খালেদা জিয়া দুর্নীতি করে কারাগারে আছেন। তার সন্তানও মায়ের মত দুর্নীতি করেছেন। গতকাল নগরীর ষোলশহরস্থ এলজিইডি কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত বিভাগীয় পর্যায়ে জয়িতাদের সংবর্ধনা ও সম্মাননা প্রদান (জয়িতা অন্বেষণে বাংলাদেশ) অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর বিভাগীয় পর্যায়ে জয়িতা সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা আরো বলেন, জয়িতা মানে জয়ী, বিপ্লবী, সংগ্রামী ও মাথানত না করার নারী। জয়িতারা বাংলাদেশের আলোকবর্তিকা। তারা অনেক বাধা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে সমাজে নিজের স্থান করে নিয়েছেন। জয়িতারা আমাদের দেশে নারীর ক্ষমতায়ন ও উন্নয়নের অনন্য উদাহরণ। তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকারের সহযোগিতায় দেশের নারীরা স্বাবলম্বী হচ্ছেন। নারীর ক্ষমতায়ন, নারীর সমমর্যাদা ও সমঅধিকার প্রতিষ্ঠায় জাতির জনকের কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন সারাবিশ্বে রোল মডেল।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নারীদের উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। সরকারের এ ধারা অব্যাহত থাকলে নারীদের দমিয়ে রাখা যাবে না। প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রত্যেক নারী হবেন জয়িতা। আজ যারা বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ জয়িতা হয়েছেন তারা আগামীতে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ জয়িতা নির্বাচিত হওয়ার গৌরব অর্জন করবেন এবং অন্যান্য নারীকে স্বাবলম্বী হওয়ার সাহস যোগাবেন বলে আশা করি। চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুন নাহার, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের
মহাপরিচালক বদরুন নেছা ও চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাসিনা মহিউদ্দিন। বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) মো. নুরুল আলম নিজামী ও বিভাগীয় স্থানীয় সরকার পরিচালক দীপক চক্রবর্তী।
হাসিনা মহিউদ্দীন বলেন, প্রধানমন্ত্রী একজন নারী এবং একজন মা। তিনি নারীদের কষ্ট বুঝেন। তাই নারীদের এগিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। প্রয়াত মহিউদ্দীন চৌধুরী রাজনৈতিক ব্যস্ততার কারণে সংসারে কম সময় দিতেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে গিয়ে তিনি সংসারে নজর দিতে পারেননি। সেই জায়গায় আমি কঠোরভাবে সন্তানদের পড়ালেখা করানো এবং শিক্ষিত করার চেষ্টা করেছি। আজ আমি মা হিসেবে গর্ববোধ করি। কারণ তারা পড়ালেখা শেষ করে দেশের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, আমার টুইন মেয়ে আছে। মহিউদ্দিন চৌধুরী বেঁচে থাকার সময় তারা বিবিএ পড়ছিলেন। ওই সময় তাদের বিয়ে দিয়ে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আপত্তি করেছিলাম। আমি চেয়েছিলাম, তারা লেখাপড়া শেষ করে নিজেদের পায়ের উপর দাঁড়াবেন। সেই জায়গায় বোধহয় আমি জিতে গিয়েছিলাম। কারণ তারা পড়ালেখা শেষ করে এখন প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুন নাহার বলেন, বাংলাদেশের নারীরা এগিয়ে যাচ্ছেন। নারীর অংশগ্রহণ ছাড়া বাংলাদেশ অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবে না। তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার নারী শিক্ষায় যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। নারীর প্রতি নির্যাতন, সহিংসতা ও অন্যায়-অনাচার রোধে সরকার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছেন। নারীরা স্বাবলম্বী হলে দেশ স্বাবলম্বী হবে। তাই বিভেদ ভুলে নারী-পুরুষ এক সাথে কাজ করলে দেশ অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাবে।
মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বদরুন নেছা বলেন, নারীদের এগিয়ে যেতে হলে পুরুষদের সহযোগিতা প্রয়োজন। স্বাবলম্বী হতে প্রত্যেক নারীকে তার চিন্তা-চেতনা ও কাজে-কর্মে সচেষ্ট থাকতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একজন নারী হয়ে দেশের গুরুত্বপূর্ণ দফতরগুলোতে নারীদের ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি করেছেন। নারী-পুরুষ সমতা আনায়নের লক্ষ্যে সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে নারীদের সম্পৃক্ত করেছেন।
বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মান্নান বলেন, আজকে যারা জয়িতা তারা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার এবং বেগম রোকেয়ার কাতারে যুক্ত হওয়ার মত। তিনি বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী জনগোষ্ঠীকে নিয়ে বর্তমান সরকারের অগ্রযাত্রাকে আরো ত্বরান্বিত করতে হলে নারীর সাফল্য, সংগ্রাম ও উন্নয়ন সমগ্র জাতির সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ, বান্দরবান জেলা প্রশাসক দাউদুল ইসলাম, ফেনী জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুজ্জামান, সাবেক সাংসদ সাবিহা নাহার মুসা, সাবেক সাংসদ হাসিনা মান্নান, সাত জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দিলোয়ারা ইউসুফ, সাধারণ সম্পাদক এড. বাসন্তী প্রভা পালিতসহ অনুষ্ঠানে বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের পদস্থ কর্মকর্তা, নারী নেত্রী, সমাজকর্মী, ওয়ার্ড কাউন্সিলরগণ উপস্থিত ছিলেন।

x