জয়নীলের অর্থ-সাশ্রয়ী পরিবেশ বান্ধব পাকা ঘর

মীর আসলাম : রাউজান

সোমবার , ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ at ৫:৪৯ পূর্বাহ্ণ
80

চলুন আমরা পরিবেশ দূষণ সৃষ্টি করে এমন ইটের ব্যবহার কমিয়ে আনি। পাকা ঘর তৈরী করি অর্থ সাশ্রয়ী পরিবেশ বান্ধব উপায়ে। এই পদ্ধতিতে তৈরি ঘর শীতকালে থাকবে গরম আর গ্রীষ্মে ঠাণ্ডা। অনেকটা সাশ্রয়ী খরচে তৈরি করা যাবে সুন্দর পাকা ঘর। এই আহ্বান ওমান থেকে দেশে ফিরে আসা এক প্রবাসী পরিবেশ বান্ধব ঘরের কারিগর। দীর্ঘ সময় ধরে ওমানে পাকা ঘর তৈরির কারিগর ছিলেন জয়নীল বড়ুয়া ও তার এক পুত্র। তিনি দেখেছেন মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় দেশগুলোর অনেক বাসিন্দা এমন ঘর পছন্দ করেন। তারা বাপ-বেটা মিলে সেখানে অনেক ঘর নির্মাণ করেছেন। এখন তারা দেশে এসে নিজেদের ঘর করছেন এই প্রযুক্তিতে।
রাউজান উপজেলার পশ্চিম বিনাজুরী ইউনিয়নের ইদুলপুর গ্রামের বাসিন্দা জয়নীল বড়ুয়া ওমান থেকে দেশে ফিরে এসেছেন বিগত কয়েক বছর আগে। দেশে আসার পর থেকে তিনি রাঙ্গুনিয়ায় এরকম তিনটি বাড়ি নির্মাণ করে দিয়েছেন। এখন মনোনিবেশ করেছেন নিজের বাড়ি তৈরিতে। ইতিমধ্যে তার স্বপ্নের বাড়িটি মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে।
তিনি বাড়িটি তৈরি করতে অন্যান্য পাকা ভবনের মত মাটির নিচে মজবুত ভিত্তির উপর লোহা, সিমেন্ট,বালু আর কংক্রিট দিয়ে পিলার করেছেন। তবে ভবনের দেয়ালের গাঁথুনীতে ইটের পরিবর্তে ব্যবহার করছেন সিমেন্ট বালুর সাথে কিছু কংক্রীট দিয়ে তৈরি করা ব্লক। দেখা গেছে জয়নীলের হাতে তৈরি করা ব্লকের ভিতরে ফাঁকা। সাইজের দিক থেকে স্বাভাবিক ভাবে তৈরি করা ইটের চাইতে তিনগুণ বড়। নিজের পাকা ঘর তৈরির কাজে নিয়োজিত জয়নীল কাজের ফাঁকে ফাঁকে কথা বলছিলেন দৈনিক আজাদীর এই প্রতিনিধির সাথে। বললেন, আমাদের দেশের প্রতিটি মানুষ পরিবেশ দূষণের শিকার। বিশেষ করে সারা দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ইটভাটার কালো ধোঁয়ায় মানুষ রোগ বালাইয়ে আক্রান্ত হচ্ছে। এসব ভাটা থেকে নির্গত ধোঁয়া পরিবেশকে দূষিত করছে। পরিবেশ দূষণের প্রভাবে ফলদ গাছের ফলন কমে যাচ্ছে, মানুষের মাঝে শ্বাস কষ্ট দেখা দিচ্ছে, বায়ু দুষণের শিকার মানুষের আয়ু কমে যাচ্ছে।
প্রবাস ফেরত এই কারিগর দুঃখ ও আক্ষেপ করে বলেন আমাদের দেশে খ্যাতিমান পরিবেশবিদ আছে, মেধাবী প্রকৌশলী আছে, বিশ্ব স্বীকৃত বহু স্থপতিও রয়েছে। এরপরও পরিবেশ বান্ধব বাড়ি তৈরিতে আমরা বহুদূর পিছিয়ে আছি। আমরা কেউ এব্যাপারে দেশের মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে করছি না। ইটের ব্যবহার কমিয়ে ব্লক দিয়ে তৈরি করা বাড়ির সুযোগ সুবিধার রয়েছে অনেক। ব্লক ব্যবহার করে তৈরি করা ঘরে ভিতর শীতের মৌসুমে থাকে গরম, গরমের মৌসুমে পাওয়া যায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের মত শীতল পরশ। এছাড়া ইট দিয়ে বাড়ি তৈরি করতে যে পরিমাণ টাকা খরচ হয়, তুলনামূলক ভাবে ব্লক দিয়ে বাড়ি তৈরিতে খরচ কমে আসবে অন্তত ২৫ শতাংশ। তিনি বলেন পরিবেশ বান্ধব বাড়ি তৈরিতে সরকারি ভাবে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। সরকারি অবকাঠামো নির্মাণে এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে সাধারণ মানুষও এই ধরনের বাড়িতে আগ্রহী হবে। ইটের ব্যবহার কমে আসলে পরিবেশ দূষণের মাত্রাও কমবে। জয়নীল বড়ুয়া জানায় তিনি দেশে ফিরে আসার পর নিজের হাতে রাঙ্গুনিয়ায় তিনটি বাড়ি নির্মাণ করেছেন। এখন নিজের বাড়ি তৈরির কাজে হাত দিয়েছেন। জয়নীলে বাড়ি পরিদর্শন করতে গিয়ে দেখা যায়, পরিবেশ বান্ধব বাড়িটি নির্মাণে তার সাথে কাজ করছেন স্ত্রী ও প্রবাসী পুত্র। পরিবেশ সচেতন জয়নীল বলেছেন এমন বাড়ি তৈরি করতে কেউ আগ্রহী হলে তিনি সহযোগিতা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন।
পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, আগামী ২০২৫ সালের মধ্যে পরিবেশ বন্ধব ইট তৈরি করার সরকারি নির্দেশনা আছে। ‘সরকারের নীতি কৌশল হচ্ছে পরিবেশ বান্ধব ইট তৈরি ও ব্যবহার করা।