জোরালো মনিটরিংয়ের আওতায় চট্টগ্রামসহ তিন অঞ্চলের মাধ্যমিক স্কুল

মাউশির আলাদা কর্মপরিকল্পনা কার্যকর ১ জানুয়ারি থেকে

রতন বড়ুয়া

বুধবার , ৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ at ৫:২২ পূর্বাহ্ণ

জোরালো মনিটরিংয়ের আওতায় আসছে চট্টগ্রামসহ তিন অঞ্চলের মাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুলগুলো। এ লক্ষ্যে আলাদা কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর। এর আওতায় চট্টগ্রাম, ঢাকা ও সিলেট অঞ্চলের মাধ্যমিক স্কুলগুলোর (সরকারি-বেসরকারি) একাডেমিক সুপারভিশন ও মনিটরিং কার্যক্রম জোরদারকরণে অধীনস্থ দফতরগুলোকে এক বছরের কর্মপরিকল্পনা (বার্ষিক পরিদর্শন ক্যালেন্ডার) প্রস্তুতের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ নির্দেশনা/কার্যক্রম বাস্তবায়নে অঞ্চলগুলোর মাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুলগুলোকে ৫টি (এ, বি, সি, ডি ও ই) ক্যাটাগরিতে বিভক্ত করেছে মাউশি। বেশক’টি মানদণ্ডের ভিত্তিতে প্রাপ্ত পয়েন্ট (রেটিং) বিবেচনায় স্কুলগুলোর এ ক্যাটাগরি নির্ধারণ করা হয়েছে। ১০০ নম্বরের রেটিংয়ে ৯০ থেকে ১০০ প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো ‘এ’ ক্যাটাগরি, ৮০-৯০ প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান ‘বি’ ক্যাটাগরি, ৭০-৮০ প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান ‘সি’ ক্যাটাগরি, ৫০-৭০ প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো ‘ডি’ ক্যাটাগরি এবং ৫০ রেটিংয়ের কম প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে ‘ই’ ক্যাটাগরিতে ফেলা হয়েছে। মহাপরিচালক প্রফেসর ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুকের স্বাক্ষরে গত ২১ নভেম্বর এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করেছে মাউশি।
মাউশির তথ্যমতে, মাধ্যমিক পর্যায়ে ৭টি জেলা (চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, ফেনী ও নোয়াখালী) নিয়ে চট্টগ্রাম অঞ্চল। এ অঞ্চলে সরকারি-বেসরকারি মাধ্যমিক স্কুলের সংখ্যা ১ হাজার ৫৬৫টি। এর মধ্যে সরকারি মাধ্যমিক স্কুল ৫২টি (সদ্য জাতীয়করণকৃত বাদ দিয়ে)।
চট্টগ্রাম অঞ্চলের স্কুলগুলোর মধ্যে মাউশি নির্ধারিত ‘এ’ ক্যাটাগরিতে ২১৪টি, ‘বি’ ক্যাটাগরিতে ৮৫৫টি, ‘সি’ ক্যাটাগরিতে ৪৩২টি, ‘ডি’ ক্যাটাগরিতে ৬০টি এবং ‘ই’ ক্যাটাগরিতে ৪টি স্কুল রয়েছে। মাউশির নির্দেশনা অনুযায়ী ‘এ’ ক্যাটাগরির স্কুলগুলো সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বছরে অন্তত ৪ বার (প্রতি ৩ মাসে একবার) পরিদর্শন করতে হবে। ‘বি’ ক্যাটাগরির স্কুলগুলো বছরে ৬ বার (প্রতি ২ মাসে একবার), ‘সি’ ক্যাটাগরির স্কুলগুলো বছরে ৮ বার (৪৫ দিনে একবার) এবং ‘ডি’ ও ‘ই’ ক্যাটাগরির স্কুলগুলো প্রতি মাসে একবার করে বছরে অন্তত ১২ বার পরিদর্শন করতে হবে।
সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, সহকারী জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, সহকারী পরিদর্শক, থানা/উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, সহকারী থানা/উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও একাডেমিক সুপারভাইজারগণ পরিদর্শন কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন। পরিদর্শনকারী কর্মকর্তার স্বল্পতা সাপেক্ষে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা প্রয়োজনবোধে গবেষণা কর্মকর্তাকে তার নির্ধারিত দায়িত্ব পালন সাপেক্ষে পরিদর্শনের দায়িত্ব প্রদান করতে পারবেন। তবে জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাগণকে মাসে ন্যূনতম ৫টি স্কুল পরিদর্শন করতে হবে। সেটি বিবেচনায় রেখেই বার্ষিক ক্যালেন্ডার প্রণয়নের নির্দেশনা দিয়েছে মাউশি।
পরিদর্শনকালে একাডেমিক সুপারভিশন ও মনিটরিংয়ের জন্য নির্ধারিত ছক সাথে করে নিয়ে যাবেন পরিদর্শনকারী কর্মকর্তা। স্কুলে বসে সবক’টি ছক পূরণপূর্বক পরিদর্শন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে। সংশ্লিষ্ট জেলার একাডেমিক সুপারভিশন ও মনিটরিং পরিদর্শন প্রতিবেদনসমূহ সংশ্লিষ্ট জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার নিকট জমা হবে। পরিদর্শন প্রতিবেদনে প্রাপ্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ সংশ্লিষ্ট জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মাউশির আঞ্চলিক কার্যালয় ও মাউশি অধিদফতরে পাঠাবেন। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সুপারিশের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
এদিকে, এই মনিটরিং কার্যক্রম বাস্তবায়নে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে এক বছরের কর্মপরিকল্পনা বা বার্ষিক ক্যালেন্ডার প্রণয়ন করতে হবে। জেলাধীন সকল থানা/উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, সহকারী থানা/উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, একাডেমিক সুপারভাইজার ও অন্যান্য পরিদর্শনকারী কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি সমন্বয় সভায় এক বছরের এই কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুত করতে হবে। মাউশির আঞ্চলিক পরিচালক প্রধান অতিথি এবং উপ-পরিচালক বিশেষ অতিথি হিসেবে এ সমন্বয় সভায় উপস্থিত থাকবেন। সভায় ক্লাস্টার ভিত্তিতে স্কুলগুলো পরিদর্শনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্ব বণ্টন করতে হবে। ৫ ডিসেম্বরের মধ্যে অঞ্চলগুলোর প্রতিটি জেলায় এই সমন্বয় সভা শেষ করার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে মাউশি। সমন্বয় সভায় প্রণীত বার্ষিক ক্যালেন্ডার বা কর্মপরিকল্পনার সার-সংক্ষেপ (কার্যবিবরণীসহ) ১২ ডিসেম্বরের মধ্যে মাউশির পরিচালক (মনিটরিং অ্যান্ড ইভালুয়েশন উইং) বরাবর পাঠাতে বলা হয়েছে। প্রণীত কর্মপরিকল্পনা/ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এ কার্যক্রম কার্যকর করার নির্দেশনা দিয়েছে মাউশি।
মনিটরিং কার্যক্রম জোরদারকরণে মাউশির নির্দেশনার তথ্য নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন আজাদীকে বলেন, চট্টগ্রাম জেলায় মোট ৬৭৬টি মাধ্যমিক স্কুলে (মাদ্রাসা ও কলেজ বাদ দিয়ে) আমরা এ কার্যক্রম পরিচালনা করব। ৪২ জন কর্মকর্তা এ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত থাকবেন। এ নিয়ে বিশেষ সমন্বয় সভা আহ্বান করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, মহামান্য রাষ্ট্রপতির চট্টগ্রাম সফরের কারণে সমন্বয় সভা ৫ ডিসেম্বরের পরিবর্তে ১০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। সভায় পুরো বছরের বার্ষিক প্ল্যান প্রস্তুত করা হবে।
অন্যদিকে, এ নিয়ে গত ২৮ নভেম্বর কঙবাজারে বিশেষ সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে জানিয়ে মাউশি চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক হোসনে আরা বলেন, ১০ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম জেলা এবং ১২ ডিসেম্বর খাগড়াছড়ি জেলার সমন্বয় সভার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অঞ্চলের সবক’টি জেলায় এই বিশেষ সমন্বয় সভা আয়োজনের মাধ্যমে মনিটরিং ও পরিদর্শনের বার্ষিক প্ল্যান প্রস্তুত করে মাউশিতে পাঠানো হবে। বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন হলে সুফল পাওয়া যাবে।

x