জেলে থেকেও শাহাদাত শক্তিশালী : খসরু

৩০ তারিখ অন্যায়ের প্রতিবাদ জানাবে জনগণ

আজাদী প্রতিবেদন

শনিবার , ২৯ ডিসেম্বর, ২০১৮ at ৪:১০ পূর্বাহ্ণ
495

জেলে থাকা চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী-বাকলিয়া) আসনের প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেনকে প্রতিপক্ষের চেয়েও ‘শক্তিশালী’ বলে দাবি করেছেন বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘শাহাদাত একজন সুশিক্ষিত, সে একজন ডাক্তার, মানুষের কাছে সে গ্রহণযোগ্য এবং জনপ্রিয় নেতা। চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতি। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাস আছে। সে ছাত্রদল থেকে ক্রমান্বয়ে উঠে এসেছে। মানুষ তাকে ভালোবাসে। জেলে থেকেও সে শক্তিশালী। আমি মনে করি, তার প্রতি যে অন্যায়, অবিচার করা হয়েছে, এই আসনের সাধারণ মানুষ আগামী ৩০ তারিখ তার প্রতিবাদ জানাবে।’
গতকাল শুক্রবার বিকেলে নগরীর বাদশা মিয়া রোডস্থ ডা. শাহাদাত হোসেনের বাসভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। আমীর খসরু আরো বলেন, ‘একটা মানুষকে (ডা. শাহাদাত হোসেন) জেলে রেখে যদি কাউকে নির্বাচন করতে হয় তাদের জন্য আমাদের দুঃখ হয়। তাদের জন্য আমার আফসোস করতে হয়।’ সংবাদ সম্মেলনে আমীর খসরু বলেন, যিনি প্রার্থী তিনি জেলে এবং পুরোটা সময় উনাকে জেল থেকে
বের করার জন্য সবধরনের চেষ্টা করা হয়েছে। একের পর এক জামিন নেয়া হয়েছে। শেষ পর্যায়ে উনি যখন ফাইনালি বের হওয়ার জন্য জামিন পেয়েছেন তখন আবার আরেকটি ‘মিথ্যা’ মামলা দিয়ে জেল থেকে বের হতে দেয়া হয় নি। আগেরগুলো সব ‘মিথ্যা মামলা’। তারপরেও আমরা ভেবেছিলাম, নির্বাচনের দুই-একদিন আগে অন্তত বের হতে পারবেন। এতে প্রার্থীর চেহারাটুকু অন্তত মানুষ দেখবে। এখন দেখা গেল, সেটাও তারা হতে দেয় নি।
আমীর খসরু বলেন, সবচেয়ে দুঃখজনক হচ্ছে, আমাদের রাজনীতিবিদ যারা এগুলোর সঙ্গে জড়িত তারা আত্মসম্মানবোধ হারিয়েছেন? আমি নির্বাচন করছি, আমার প্রতিপক্ষকে আমি জেলে ঢুকিয়ে দিলাম। তারপর তাকে জেল থেকে বেরুতে দিলাম না। তাকে জেলে রেখে নির্বাচন করার মধ্যে কি রাজনৈতিক চিন্তা থাকতে পারে?
আমীর খসরু বলেন, নির্বাচন হচ্ছে গণতন্ত্রের বাহক। গণতন্ত্র বিশ্বাস করলে চিন্তা করতে হবে প্রতিপক্ষ সমানভাবে মাঠে থাকবে। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকবে এবং দুজনই সমান সুযোগ পেয়ে এগিয়ে যাবে। জনগণ যাকে ভোট দেয় সে-ই নির্বাচিত হবে।
আমীর খসরু বলেন, প্রতিপক্ষকে জেলে ঢুকিয়ে রেখে এবং তাকে বের হতে না দেয়ার জন্য যত ধরনের সরকারি ব্যবস্থাপনা ব্যবহার করা, এরচেয়ে দুঃখের বিষয় তো আর হতে পারে না।
এসময় তিনি বলেন, আমি আগেও বলেছি, নির্বাচনটা হচ্ছে সরকার বনাম বিরোধী দল। এবং এই কারণেই শাহাদাত জেলে, জেলে থেকে নির্বাচন করতে হচ্ছে, এবং একটি মানুষকে জেলে রেখে নির্বাচনের মধ্যে তারা কোন ধরনের রাজনৈতিক স্পিরিট খুঁজে পাচ্ছে আমি বুঝতে পারছি না। দেয়ার ইজ নো পলিটিক্যাল স্পিরিট। দেয়ার ইজ নো ডেমোক্রেটিক স্পিরিট। গণতান্ত্রিক স্পিরিট নাই, রাজনৈতিক স্পিরিট নাই, কম্পিটিশনের স্পিরিট নাই। এককভাবে নির্বাচন করে, তার মধ্যে আবার ইভিএম ঢুকিয়েছে। এটা কি নির্বাচন বলা যায়? কোন প্রতিপক্ষহীন নির্বাচন। এখন কি আমরা বলব, তারা জনগণকে ভয় পাচ্ছে ? জনগণের প্রতি তাদের কোন নির্ভরশীলতা নাই। তাদের নির্ভরশীলতা হচ্ছে প্রতিপক্ষকে জেলে ঢুকিয়ে দিয়ে রাষ্ট্রীয় সব সংস্থাকে ব্যবহার করে নির্বাচনে জয়ী হওয়া। সেটা তো জয় নয়। সেটাকে জয় না বলে ‘হাইজ্যাক’ করা বলা যাবে। জনগণের ভোটটাকে কেড়ে নিয়ে যাওয়া।
আমীর খসরু বলেন, আমি এক এলাকা থেকে নির্বাচিত হতে চাইলে ওই এলাকার সাথে সম্পৃক্ততা থাকতে হবে। তাদের মতামতের প্রেক্ষিতে আমাকে রাজনীতি করতে হবে। তাদের প্রত্যাশা পূরণে আমার রাজনীতি। কিন্তু তাদের সেই প্রত্যাশা পূরণের সুযোগ যদি আমি না দিই, সেই অপশনটা না দিই, কেউ যদি এভাবে নির্বাচিত হতে চায়, তাদেরকে সংসদ সদস্য বলা যাবে না। বর্তমান সরকারকে ‘অবৈধ’ ও ‘অনির্বাচিত’ বলছি, কারণ তারা নির্বাচিতই হয় নি। একই কাজ যদি তারা আবার করে, তাহলে একই কথা জনগণ বলবে।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি বদরুল আনোয়ার, বার কাউন্সিলর সদস্য এডভোকেট দেলোয়ার হোসেন, চট্টগ্রাম বার কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নাজিম উদ্দিন, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক এডভোকেট জহুরুল ইসলাম, নগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।

x