জেলার সোহেল রানা বিশ্বাসকে জেলেই থাকতে হচ্ছে

মঙ্গলবার , ৩০ এপ্রিল, ২০১৯ at ৬:৪৩ পূর্বাহ্ণ
41

চট্টগ্রাম কারাগারের বরখাস্ত তত্ত্বাবধায়ক সোহেল রানা বিশ্বাসের জামিন প্রশ্নে জারি করা রুল খারিজ করে দিয়েছে হাই কোর্ট। বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের হাই কোর্ট বেঞ্চ রুল খারিজ করে রায় দেয়। এর ফলে কারাগার থেকে আপাতত আর মুক্তি মিলছে না অর্থপাচার ও মাদক আইনের আসামি সোহেল রানার। আদালতে রানার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. আদনান রফিক। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক। দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এ কে এম ফজলুল হক। পরে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনরেল আমিন উদ্দিন মানিক সাংবাদিকদের বলেন, গত ৯ জানুয়ারি আদালত সোহেল রানার জামিন প্রশ্নে চার সপ্তাহের রুল জারি করেছিল। তার আইনজীবী শুনানি শেষে মামলাটি আর চালাবেন না বলে আদালতকে জানান। এরপর আদালত রুল খারিজ করে দেয়। খবর বিডিনিউজের।
গত বছরের ২৭ অক্টোবর ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনে ময়মনসিংহগামী বিজয় এঙপ্রেসের একটি বগি থেকে সোহেল রানাকে একটি ব্যাগসহ আটক করে রেল পুলিশ। পরে ওই ব্যাগ তল্লাশি করে ৪৪ লাখ ৪৩ হাজার টাকা, আড়াই কোটি টাকার তিনটি এফডিআরের কাগজ, এক কোটি ৩০ লাখ টাকার তিনটি ব্যাংক চেক, পাঁচটি চেক বই ও ১২ বোতল ফেনসিডিল পাওয়া যায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সোহেল পুলিশকে বলেছিলেন, ওই টাকার মধ্যে পাঁচ লাখ তার নিজের; বাকি টাকা অন্যদের। পরে সোহেলের বিরুদ্ধে ভৈরব রেলওয়ে থানায় অর্থপাচার ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দুটি মামলা করেন রেল পুলিশের উপপরিদর্শক আশরাফ। আর কারা কর্তৃপক্ষ এই জেলারকে সাময়িক বরখাস্ত করে। এর মধ্যে অর্থপাচার আইনের মামলায় গত ৫ জানুয়ারি হাই কোর্টে জামিনের আবেদন করেছিলেন রানা। আদালত সেদিন তাকে জামিন না দিয়ে জামিন প্রশ্নে চার সপ্তাহের রুল জারি করেছিল। সোমবার তা খারিজ হয়ে গেল। সোহেল রানা বিশ্বাসের বাসা ময়মনসিংহ শহরে। তিনি ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার পেড়াগন্ধালিয়া গ্রামের জিন্নত আলী বিশ্বাসের ছেলে। কর্তব্যে অবহেলা ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগে ২০১০ সালেও একবার তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। পরে বিভাগীয় আপিল করে তিনি চাকরি ফিরে পান। বর্তমানে তাকে কিশোরগঞ্জ কারাগারে রাখা হয়েছে বলে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক জানান।

x