জিডিপিতে নেতিবাচক প্রভাবের শঙ্কা

করোনা ভাইরাস

সোমবার , ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ at ৫:৫৪ পূর্বাহ্ণ
26

করোনা ভাইরাসের কারণে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা করছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। গতকাল রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে বিশ্বব্যাংকের উদ্যোগে আয়োজিত ব্যবসা-বাণিজ্যে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো বিষয়ক এক গোলটেবিল বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এমন আশঙ্কা কথা জানান তিনি। নারী উদ্যোক্তাদের নিয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বিভিন্ন ধরনের ব্যবসায়িক সম্পর্ক থাকায় চলমান অর্থবছরে জিডিপির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হতে পারে। তবে ভাইরাসটির কারণে এ পর্যন্ত কি পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হয়েছে তা এখনো নিরুপণ করা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, এ বিষয়ে সোমবার (১০ ফেরুয়ারি) ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এছাড়া ব্যবসায় নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে কাজ করছে সরকার। খবর বাংলানিউজের।
তিনি আরও বলেন, নারী উদ্যোক্তারা এগিয়ে যাচ্ছেন। তবে এ হার এখনো সন্তোষজনক অবস্থানে নেই। এখানে নারীদের মানসিকতার সমস্যা রয়েছে। সরকার নারী উন্নয়নে শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন এনেছে। সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতি বদলাচ্ছে তবে নারীদের ব্যবসা ক্ষেত্র এখনো বদলায়নি। এখনো অনেকদূর যেতে হবে। এ জন্য নারী উদ্যোক্তাদের নিয়ে বিশেষ নীতির চিন্তা করছে সরকার। মন্ত্রী বলেন, গত বৃহস্পতিবার করোনা ভাইরাস সমস্যা মোকাবিলায় বাণিজ্য সংক্রান্ত বিভিন্ন মন্ত্রণালয়কে ডেকে ছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। আগামী তিনদিনের মধ্যে তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা কি হবে তা জানাতে বলা হয়েছে। সরকারের বড় চিন্তা রয়েছে পোশাক খাতের ম্যাটেরিয়াল নিয়ে। তবে সরকার সতর্ক রয়েছে। মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কর্মাস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট নিহাদ কবির বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সুনিশ্চিত করতে প্রয়োজন মানসিকতার পরিবর্তন। পাশাপাশি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারীর বৃহত্তর অংশগ্রহণ ও সমতা নিশ্চিত করতে হবে। বাজার ব্যবস্থাকে নারীবান্ধব করে গড়ে তুলতে হবে। নারীদের মধ্যে উদ্যোক্তা হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। এ প্রতিবন্ধকতা দূর করতে নিরাপদ ও নারীবান্ধব বাজার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে দেশে নারী উদ্যোক্তা বাড়বে। দেশে ৫৫ হাজারেরও বেশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প রয়েছে যেগুলো পরিচালনা করে আসছেন নারীরা। যা এ খাতের মোট বাণিজ্যের সাত দশমিক ২১ শতাংশ। বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি) বাংলাদেশ এর কান্ট্রি ম্যানেজার ওয়েন্ডি ওয়ার্নার প্রমুখ। প্রসঙ্গত, ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রস্তাবিত বাজেট মোট ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার। আর চলতি অর্থবছরে জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার ধরা হয়েছে ৮ দশমিক ২০ শতাংশ।