জালনোট পাচারকারী চক্রের তৎপরতা

সহজ টার্গেট শ্রমজীবী সাধারণ মানুষ

কক্সবাজার প্রতিনিধি

বুধবার , ২২ মে, ২০১৯ at ৩:৫৯ পূর্বাহ্ণ
29

ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে কক্সবাজারের বিভিন্ন হাটবাজারে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে ১০০০, ৫০০ ও ১০০ টাকার জাল নোট। সম্প্রতি জেলার বিভিন্ন হাটবাজারে প্রায় প্রতিদিনই জালনোট ধরা পড়ায় জালনোট পাচারকারী চক্র জেলায় ফের সক্রিয় হয়েছে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের। এর ফলে আসল-নকল বুঝতে না পেরে সাধারণ মানুষ প্রতারিত হচ্ছেন প্রতিনিয়ত।
কক্সবাজার শহরের বাহারছড়া বাজারে গত কয়েকদিন আগে দুইটি মুরগি বিক্রি করতে আসেন সদর উপজেলার লিংকরোড এলাকার বৃদ্ধ সলিম উদ্দিন (৬১)। এক যুবক তার কাছ থেকে ৮০০ টাকায় মুরগি ২টি কিনে ১০০০ টাকার একটি নতুন নোট দিয়ে ২০০ টাকা ফেরত নেন। বৃদ্ধ ১০০০ টাকার নোটটি নিয়ে শহরের হকার মার্কেটে পরিবারের শিশুদের জন্য ঈদের পোশাক কিনতে গিয়ে জানতে পারেন নোটটি জাল। এতে দরিদ্র বৃদ্ধটির মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। সদরের ঝিলংজা ইউনিয়নের পশ্চিম লারপাড়া এলাকার হাবিবের পুত্র রহিম বৈদ্য অসহায় দিনমজুর ও তরকারি ব্যবসায়ী মোবারক আলীর সাথে জাল টাকা দিয়ে প্রতারণা করেছেন। প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগও দেন ভুক্তভোগী। গত ১৬ মে রামু উপজেলার চৌমুহনীতে কেনাকাটা করতে এসে চারটি জাল ১০০০ টাকার নোটসহ এক যুবক ধরা পড়ে। স্থানীয় লোকজন তাকে পুলিশে দেয়ার চেষ্টা করলে সুযোগ বুঝে সটকে পড়ে সে। শহরের পান বাজার রোড এলাকার তৈরি পোশাক ব্যবসায়ী আবদুর রহমান বলেন, গত ১৫ মে এক ব্যক্তি এক হাজার ৭৫০ টাকার কাপড় কিনে তিনটি ৫০০ টাকার নোটসহ আরও ২৫০ টাকা দিয়ে চলে যায়। পরে টাকা গুণতে গিয়ে একটি ৫০০ টাকার জাল ধরা পড়ে। পরে ঝামেলা এড়াতে নিজেই ওই জাল নোটটি পুড়িয়ে ফেলেছি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শহরের নিউ মার্কেট, পান বাজার সড়ক, পৌরসভা মার্কেট, বাজারঘাটাসহ বিভিন্ন বিপণিকেন্দ্রে প্রায় প্রতিদিনই জাল নোট নিয়ে কেনাকাটা করতে এসে কেউ না কেউ ধরা পড়ে। কিন্তু তাদের কাছে এক বা দুটি নোট পাওয়া যায় বলে ভুক্তভোগীরা উঠকো ঝামেলা এড়াতে পুলিশের স্মরাণাপন্ন হন না। কক্সবাজার বণিক সমিতির সহ-সভাপতি বকুল হোসেন বলেন, ঈদকে সামনে রেখে সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র বাজারে ১০০০, ৫০০ ও ১০০ টাকার জাল নোট ছড়াচ্ছে। বেকার যুবক ও নারীরা এ চক্রের সঙ্গে জড়িত হয়ে ক্রেতা সেজে এসব জাল নোট বাজারে ছড়িয়ে দিচ্ছে। কিন্তু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে জাল নোট শনাক্ত করার কোনো মেশিন না থাকায় এর সুযোগ নিচ্ছে প্রতারক চক্র। ক্রেতা-বিক্রেতা দুই পক্ষই প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।
কক্সবাজার জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির বলেন, বাজারে জাল নোট প্রতারক চক্রসহ যে কোনো ধরনের অপরাধমূলক কার্যক্রম ঠেকাতে গোয়েন্দা পুলিশের সার্বক্ষণিক ফোর্স তৎপর রয়েছে। কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদ উদ্দিন খন্দকার বলেন, ঈদকে সামনে রেখে ইয়াবা ও জাল নোট ব্যবসায়ীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এখন বিপণিকেন্দ্রগুলোতে পুলিশের নজরদারি বাড়িয়ে জাল নোট পাচারকারীদের ধরার চেষ্টা চলছে। জালনোট পাচার বন্ধে আগামী কোরবানির পশুরহাটে জাল নোট শনাক্তের যন্ত্র বসানো হবে।

x