জাবির দুর্নীতির প্রমাণ দিতে হবে অন্যথায় ব্যবস্থা : প্রধানমন্ত্রী

আন্দোলনের নামে ভাঙচুর, ক্লাস বন্ধ বরদাশত করা হবে না

আজাদী ডেস্ক

শুক্রবার , ৮ নভেম্বর, ২০১৯ at ৪:২৮ পূর্বাহ্ণ
190

যারা উপাচার্যদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে তাদের অভিযোগ প্রমাণ করতে হবে, অন্যথায়, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার নিজের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই হুঁশিয়ারি দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা প্রায়শই দুর্নীতির অভিযোগে ভাইস চ্যান্সেলরদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছেন, তাদেরকে অবশ্যই অভিযোগ প্রমাণ করতে হবে। যদি, তারা তা প্রমাণ করতে পারে তবে, উপাচার্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। অন্যথায়, অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে দুর্নীতর অভিযোগে সৃষ্ট অশান্ত পরিস্থিতির পটভূমিতে এ মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোনো রকম আইনগত ভিত্তি ছাড়া আন্দোলনের নামে ক্লাস বন্ধ, ভিসিদের বাসভবন ও কার্যালয়ে হামলা বরদাশত করা হবে না। কোনো উন্নয়ন প্রকল্প নেয়া হলে সচরাচর দুর্নীতির অভিযোগ উঠে ৯ম পৃষ্ঠার ৭ম কলাম
একথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ ঠিকভাবে বণ্টন না হলে অভিযোগ উঠতে পারে বলে শোনা যায়।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বুয়েটের শিক্ষার্থীরা একজন ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় আন্দোলন করছে। এই হত্যার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং মামলা দায়েরের পর এই আন্দোলন অব্যাহত রাখার কোনো যুক্তি আমি দেখি না।
প্রধানমন্ত্রী কিশোর আলোর অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে স্কুলছাত্র নাঈমুল আবরার রাহাতের মৃত্যুর ঘটনায় আয়োজকদের অবহেলাকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, প্রথম আলো এই ধরনের একটা ঘটনা কিভাবে ঘটায়, আর এত অবহেলা তারা কিভাবে করতে পারে। তাদের কি কোনো দায়বদ্ধতা নেই? তারা কি দেখবে না যে কাদেরকে দিয়ে তারা কাজ কারাচ্ছে। এগুলো ঠিক মতো হচ্ছে কি না? তারা এতটা নেগলেট করেছে যে এই বাচ্চাটা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছে। খবর বাসস ও বাংলানিউজের।
তিনি প্রথম আলো কর্তৃপক্ষের সমালোচনা করে বলেন, বোঝা উচিৎ ছিল যে ছোট ছোট বাচ্চারাও এখানে পড়াশোনা করছে। সেই দিকে তো কোনো খেয়ালই নেই। এটাও তো একটা গর্হিত অপরাধ। এভাবে একটা বাচ্চা মারা যাবে, এটা তো কখনও বরদাশত করা যায় না। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার পর রাহাতকে কাছের হাসপাতাল বাদ দিয়ে দূরের হাসপাতালে নেওয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। শেখ হাসিনা বলেন, ধানমণ্ডি এলাকায় এত হাসপাতাল। রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল পার হয়ে এগিয়ে গেলেই সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল, জেনারেল হাসপাতাল। তারপাশে নিউরো হাসপাতাল, তারপাশে ট্রমা সেন্টার। এত হাসপাতাল থাকার পরও ওখানে সেখানে না নিয়ে কোথায় মহাখালীর একটি প্রাইভেট হাসপাতালে বাচ্চাটাকে নিয়ে গেছে এবং তার নাম ঠিকানাও নেই। ডাক্তার যখন কাপড়ে মনোগ্রামটা দেখেছে, তখন প্রিন্সিপালকে ফোন করেছে। বারবার রিপোর্ট করা সত্ত্বেও কেউ ওদিকে দৃষ্টিই দেয়নি।

x