জাতীয় অ্যাথলেটিক্স থেকেও চট্টগ্রামের অর্জন শূন্য

খেলোয়াড় সৃষ্টির পরিকল্পনা নেওয়ার আহ্বান ক্রীড়াঙ্গন সংশ্লিষ্টদের

ক্রীড়া প্রতিবেদক

মঙ্গলবার , ২১ জানুয়ারি, ২০২০ at ৫:৫১ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রামে শেষ হয়ে গেল জাতীয় অ্যাথলেটিক্সের ৪৩ তম আসর। বরাবরের মতই চট্টগ্রাম বেশ সফলতার সাথে আয়োজন করেছে আরো একটি জাতীয় পর্যায়ের টুর্নামেন্ট। তবে আয়োজনের দিক থেকে সফল চট্টগ্রামের প্রাপ্তির খাতাটা একেবারেই শূন্য। বরাবরের মত আরো একটি জাতীয় আসর সম্পন্ন কররেও এই আসর থেকেও কিছুই পেল না চট্টগ্রাম। কিছুদিন আগে জাতীয় পর্যায়ের সাঁতার প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিল। সে আসরেও চট্টগ্রামের প্রাপ্তির খাতা ছিল শূন্য। সাঁতারের সে আসরেও চট্টগ্রাম জেলা দলের অবস্থা ছিল একেবারে ছন্নছাড়া। হালদা সুইমিং ক্লাব নামে একটি দল সাঁতারের সে আসরে অংশ নিলেও সুইমিং পুলে খুঁজে পাওয়া যায়নি তাদের। অভিযোগ ছিল চট্টগ্রামের বাইরের বিভিন্ন ক্লাব থেকে সেবার সাঁতারু ধার করে দল গঠন করেছিল হালদা সুইমিং ক্লাব। কিন্তু প্রাপ্তির খাতায় যোগ হয়েছিল কেবলই লজ্জা। এবারে জাতীয় অ্যাথলেটিক্সেও হয়েছে একই অবস্থা। চট্টগ্রামের অ্যাথলেটরা হিটও পার হতে পারেনি। এবারের অ্যাথলেটিঙেও চট্টগ্রাম জেলা দল গঠন করা হয় বাইরের অ্যাথলেট দিয়ে। ফলে প্রাপ্তি যা যোগ হওয়ার তাই হয়েছে। অথচ চট্টগ্রামের মাঠ, চট্টগ্রামের সংগঠকদের নিরলস শ্রম, চট্টগ্রামের অর্থ সবকিছু ছিল। ছিল না শুধু চট্টগ্রামের কোন অর্জন। তবে সেদিক থেকে কিছুটা হলেও দিতে পেরেছিল জাতীয় ব্যাডমিন্টন। বাকি ইভেন্ট গুলো ছিল অনেকটা কমিউনিটি সেন্টার ভাড়া দেওয়ার মত। সবাই এলো আর খেয়ে দেয়ে বউ নিয়ে চলে গেল। আর ক্লাব ওয়ালার কাছে থাকে সেই শূন্য ক্লাবটি।
বারবার এরকম জাতীয় আসর আয়োজন তাই প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। যেখান থেকে কোন রকমনে অর্জন নেই সেব আয়োজন করে লাভ কি? তাই চট্টগ্রামের ক্রীড়াঙ্গনের সংশ্লিষ্টরা বলছেন আর এ ধরনের জাতীয় আয়োজন না করে সে সব অর্থ ক্রীড়াবিদ সৃষ্টিতে খরচ করলে সেখান থেকে আসবে প্রাপ্তি। গত কয় বছরে বেশ কয়েকটি জাতীয় আসর আয়োজন করতে গিয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কিংবা চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থা খরচ করেছে কোটি টাকার উপর। বিনিময়ে পেয়েছে হতাশা আর হতাশা। অথচ এই কোটি টাকা দিয়ে একাধিক ইভেন্টের অন্তত শতাধিক তরুণ খেলোয়াড়কে কয়েক বছর প্রশিক্ষণ দেওয়া যেতো। আর সেখান থেকে অন্তত মান রক্ষার মত ক্রীড়াবিদ বেরিয়ে আসতো। তখন হয়তো কোটি টাকা খরচ করেও এত লজ্জা কিন্তু হতোনা। গত কয় বছরে জাতীয় পর্যায়ের খেলাধুলায় চট্টগ্রামের কি দ্বৈন্যদশা বিরাজ করছে সেটা বোধহয় বলার অপেক্ষা রাখেনা। অথচ চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থা ৩০ টির মত ইভেন্ট চর্চা করে। কিন্তু তাতে লাভের লাভ কিছুই হচ্ছেনা। তাই ক্রীড়াঙ্গন সংশ্লিষ্টরা বলছেন আর এভাবে জাতীয় আসর আয়োজন না করে খেলোয়াড় সৃষ্টির দিকে মনোনিবেশ করুক চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থা।
যদিও তৃতীয় দফায় সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার পর চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারন সম্পাদক আ.জ.ম. নাছির উদ্দিন জানিয়েছেন তিনি আর খেলাধুলায় কোয়ান্টিটি নয় কোয়ালিটি চান। এখন আর অনেক গুলো ইভেন্ট নয়, যেখান থেকে খেলোয়াড় বেরিয়ে আসবে সেসব ইভেন্ট আয়োজন করতে চান। তাহলেই চেহারা পাল্টাবে চট্টগ্রামের ক্রীড়াঙ্গনের। নাহয় যে লাউ সে কদুতেই পড়ে থাকতে হবে। চট্টগ্রামে যেকোন লিগ কিংবা টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হলে সেখানে একটি কমন ডায়লগ শোনা যায় । তা হচ্ছে এই লিগ বা টুর্নামেন্ট শেষে খেলোয়াড় বাছাই করে দীর্ঘ মেয়াদী প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। কিন্তু সে প্রশিক্ষণ আর দেওয়া হয়না। সে ঘোষণাও আর আলোর মুখ দেখেনা। ফলে দিন দিন পিছিয়ে পড়ছে চট্টগ্রামের ক্রীড়াঙ্গন। অন্যরা যেখানে এগিয়ে যাচ্ছে সেখানে চট্টগ্রাম পড়ছে পিছিয়ে। তাই সময় এসেছে চট্টগ্রামে খেলোয়াড় সৃষ্টির বিষয় নিয়ে নতুন করে ভাববার। সময় এসেছে নতুন করে পথ চলার।