জাতীয়করণ হওয়া দুই কলেজও এমপিওর তালিকায়!

রতন বড়ুয়া

সোমবার , ২৮ অক্টোবর, ২০১৯ at ৫:১১ পূর্বাহ্ণ
267

শিক্ষক-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সারাদেশের ২ হাজার ৭৩০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে নতুন করে এমপিওভুক্ত (মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার) করেছে সরকার। গত ২৩ অক্টোবর গণভবনে এমপিওভুক্ত এসব প্রতিষ্ঠানের তালিকা ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দীর্ঘ সময় পর এমপিওভুক্তির এ ঘোষণা আসলেও এ তালিকায় কিছু অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। গত বছর জাতীয়করণকৃত বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামও ওঠে এসেছে এমপিওর তালিকায়। বৃহত্তর চট্টগ্রামেও এমন (জাতীয়করণকৃত) দুটি কলেজ সদ্য জারিকৃত এমপিওর তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে।
কলেজ দুটি হল, খাগড়াছড়ির পানছড়ি কলেজ এবং বান্দরবানের লামা উপজেলার মাতামুহুরী কলেজ। গত ২৩ অক্টোবর জারিকৃত স্নাতক (পাস) পর্যায়ে এমপিওভুক্তির তালিকায় উঠে এসেছে এই দুটি কলেজের নাম। অথচ ২০১৮ সালের ১২ আগস্ট এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জাতীয়করণকৃত ২৭১ কলেজের তালিকায়ও রয়েছে এই দুটি কলেজ। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপ সচিব নাছিমা খানম স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে ৮ আগস্ট থেকে জাতীয়করণের ওই আদেশ কার্যকরের কথা বলা হয়। ওই প্রজ্ঞাপনে বৃহত্তর চট্টগ্রামের মোট ২৮টি কলেজ জাতীয়করণ করা হয়। এর মধ্যে চট্টগ্রাম জেলায় ১০টি, কঙবাজারে ৫টি, রাঙ্গামাটিতে ৪টি, খাগড়াছড়িতে (পানছড়ি কলেজসহ) ৬টি এবং বান্দরবানে (মাতামুহুরী কলেজসহ) ৩টি কলেজকে জাতীয়করণ করা হয়।
গত ২৩ অক্টোবর জারিকৃত এমপিওভুক্তির তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, স্নাতক (পাস) পর্যায়ে সারাদেশে মোট ৫৬টি কলেজকে এমপিওভুক্ত করা হয়েছে এবার। এর মধ্যে বৃহত্তর চট্টগ্রামের তিনটি কলেজ এই তালিকায় ঠাঁই পেয়েছে। কলেজগুলো হল, কঙবাজারের মহেশখালী ডিগ্রি কলেজ, খাগড়াছড়ির পানছড়ি কলেজ এবং বান্দরবানের লামা উপজেলার মাতামুহুরী কলেজ। স্নাতক পর্যায়ে নতুন এমপিওভুক্ত হওয়া বৃহত্তর চট্টগ্রামের এই তিনটি কলেজের মধ্যে শেষ দুটি কলেজই গতবছর জাতীয়করণ করে সরকার। জাতীয়করণের পর একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ফের এমপিওর তালিকায় ওঠে আসার বিষয়ে ধোঁয়াশায় রয়েছেন খোদ শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তারাও।
জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) চট্টগ্রামের আঞ্চলিক পরিচালক প্রফেসর প্রদীপ চক্রবর্তী বলেন, এমপিওর জন্য কলেজগুলো হয়তো আগে থেকেই আবেদন করে রেখেছিল। যার কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে। নয়তো এমন হওয়ার কথা নয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দুটি কলেজেরই উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত এতদিন এমপিওভুক্ত ছিল। উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত এমপিওভুক্ত থাকাকালীনই গতবছর এ দুটি কলেজ জাতীয়করণ হয়। গতবছরের ১২ আগস্ট জারিকৃত এক প্রজ্ঞাপনে জাতীয়করণকৃত কলেজের তালিকা প্রকাশ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। জাতীয়করণের প্রজ্ঞাপন জারির মাত্র ১১ দিন আগেই (২০১৮ সালের ১ আগস্ট) এমপিওভুক্তির আবেদন আহ্বান করে মন্ত্রণালয় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের বেসরকারি মাধ্যমিক শাখার উপসচিব মো. কামরুল হাসানের স্বাক্ষরে জারিকৃত বিজ্ঞপ্তিতে ৫ আগস্ট থেকে ২০ আগস্টের মধ্যে এমপিওবিহীন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (স্কুল ও কলেজ) এর এমপিওভুক্তির জন্য অনলাইনে আবেদন গ্রহণ করার কথা বলা হয়।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, জাতীয়করণের প্রজ্ঞাপন জারি হয় গত বছরের ১২ আগস্ট। আর এমপিওভুক্তির আবেদনের সময়সীমা শেষ হয় ২০ আগস্ট। সেক্ষেত্রে জাতীয়করণের তালিকায় নাম নিশ্চিত হওয়ার পর পুনরায় এমপিওভুক্তির আবেদন করার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। যদিও বহু আগে থেকেই এমপিওভুক্তির চেষ্টা চলছিল বলে দাবি করেন লামা উপজেলার মাতামুহুরী কলেজের অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম। তবে জাতীয়করণের পর এমপিওর তালিকায়ও নাম আসায় এখন করণীয় নিয়েও দ্বিধায় রয়েছেন এই অধ্যক্ষ।
তিনি বলেন, কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষকগণ এমপিওভুক্ত থাকলেও স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষকরা কিন্তু এমপিওবিহীন। জাতীয়করণের ক্ষেত্রে যদি নন-এমপিও শিক্ষকদের চাকরিও জাতীয়করণ করা হয় তবে নতুন করে এমপিওভুক্তির প্রয়োজন নেই। কিন্তু শুধু এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণ করা হলে সেক্ষেত্রে নন-এমপিও (স্নাতক পর্যায়ের) শিক্ষকদের নতুন করে এমপিওর আবেদন করতে হতে পারে। তবে বিষয়টি নিয়ে এখনো অস্পষ্টতায় রয়েছেন বলেও জানান তিনি।
এদিকে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির বিষয়ে গতকাল রোববার গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন শিক্ষা মন্ত্রী ডা. দীপু মনি। গতকাল বিকেলে রাজধানীর বাংলাদেশ শিক্ষা, তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) ভবনে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। সরকারিকরণ বা জাতীয়করণ হওয়া কলেজও এমপিওভুক্ত হওয়ার বিষয়ে মতবিনিময় সভায় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে কেউ রিপোর্ট না করায় এমন বিভ্রান্তি হয়েছে। তবে জাতীয়করণের কারণে স্বাভাবিকভাবেই এই প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তির কোনো প্রয়োজন হবে না। ফলে এমপিওভুক্তির আদেশ এই প্রতিষ্ঠানের জন্য কার্যকর হবে না।

x