(জাগ্রত হোক মানুষের বিবেক)

মীর নাজমিন

রবিবার , ২৫ আগস্ট, ২০১৯ at ১০:২৩ পূর্বাহ্ণ

বিশ্ব জুড়ে হিংস্রতা,নৃশংসতা,ধর্ষণ, খুন সহ বিভিন্ন অপকর্ম যে হারে বেড়ে চলেছে অবলীলায় আমরা যেকেউ এটা স্বীকার করে নেবো যে, পৃথিবীতে ভালো মানুষের সংখ্যা নেহায়েতই কমে আসছে।শুধু কমে আসছে বললেও ভুল হবে। পৃথিবীতে এখন ভালো মানুষ খুঁজে পাওয়াই দুষ্কর।দিনকে দিন মানুষের চেয়ে ভারী হয়ে উঠছে অমানুষের দল।মানুষের চেয়ে বেশি সেসব পশুদের অভয়ারণ্য হয়ে উঠছে আমাদের এই পৃথিবী। কিন্তু অত্যন্ত আশ্চযের্র বিষয় হচ্ছে, খুব সহজে আমরা কেউই একথা স্বীকার করিনা যে,আমার বাবা,আমার মা,আমার ভাই বা আমার বোন একজন জঘন্য খারাপ মানুষ।তার বা তাদের দ্বারা প্রতিনিয়ত মানবতা বিরোধী, সমাজ বিরোধী, দেশ বিরোধী অনেক জঘন্য কাজ বা কুকর্ম সম্পাদন হচ্ছে অথবা হয়। সে বা তারা এই সমাজের শত্রু,এইদেশের শত্রু,বিশ্ব মানবতার শত্রু।তাদের চিন্তাভাবনাটা অনেকটা এরকম, এই পৃথিবীতে অসংখ্য খারাপ লোক আছে সেটা অতিশয় সত্যকথা।কিন্তু একটাও খারাপ বাবা, খারাপ মা,খারাপ ভাই,খারাপ বোন বা সন্তান নেই। তবে একথা সত্য যে,সব নিয়মেরই দু একটা ব্যতিক্রম অবশ্যই আছে বা থাকে।তাই একদম কেউই যে এই চরম সত্যটা স্বীকার করেননা তাও কিন্তু নয়।(তবে আগেই বলেছি পৃথিবীতে ভালো মানুষ খুঁজে পাওয়া এখন দুষ্কর।) কিছু কিছু জাগ্রত বিবেক সবসময়ই অন্যায়কে অন্যায় বলে স্বীকার করে এবং সেই অন্যায়ের প্রতিবাদও করেন বা করার চেষ্টা করেন।এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে অনেকেই আপন ছেলে-মেয়ের কাছে,ভাইয়ের কাছে, বাবা বা বোনের কাছে অনেক হেনস্থার শিকার হয়েছেন।এমনকি জীবন পর্যন্ত খুঁইয়েছেন কেউ কেউ।হোকনা সেই অন্যায়কারী তার আপন বাবা,মা,ভাই,সন্তান বা ঘনিষ্ঠ কেউ।আর যিনি বা যারা স্ব জাগ্রত বিবেকের তাড়নায় এই চরম সত্যটাকে স্বীকার করে নিয়ে দুঃসাহসিকতার পরিচয় দেন তিনি বা তারাই হয়তো ভালো মানুষের দলে।তবে অতীব দুঃখের বিষয় হলো,প্রত্যেকটা মানুষ যদি এই সত্যটাকে সহজে স্বীকার করে নিয়ে এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে বজ্রকঠিন অবস্থান নিয়ে অন্যায়গুলোকে অঙ্কুরে বিনষ্ট করার চেষ্টা করতেন ,তাহলে হয়তো এসব অপকর্মের শিকড়গুলো আরো অনেকদূর পর্যন্ত প্রসারিত হওয়ার সুযোগটা পেতো না।জাগ্রত হোক মানুষের বিবেক।

x