জাগো আমার মন

আনন্দময়ী মজুমদার

শনিবার , ১৯ অক্টোবর, ২০১৯ at ৩:৫৩ পূর্বাহ্ণ
22

১) এমন কিছু ব্যাপার না হলেও তথ্যের জন্য বলা, চব্বিশ বছরে পিএইচডি করতে যাই আমেরিকায়। আমার মা-বাবা ভাই সব দেশেই ছিলেন। ছাত্রাবস্থায় আমি সেখানে নিজের ইনকাম নিজেই করেছি। প্রতিদিন ডাকবাক্সে সহজ টাকা উপার্জনের (লটারি টাইপের) অনেক লিফলেট বিলি হত। প্রথম দিকে তাকাতাম কৌতূহলবশত, পরে ফেলে দিতাম।
প্রথম ডায়েরি লিখতাম। ডায়েরির পাতায় লিখেছিলাম, ‘এখানে এসে একটা জিনিসের সঙ্গে সবসময় লড়াই করতে হচ্ছে। সেটা লোভ।’
লোভ নিয়ে সচেতন হতে বলেছিল রবীন্দ্রনাথ। ততদিন তার ‘পুনশ্চ’ পড়ে কানের কাছে মৌমাছির মত তাড়া করছে একটা লেখা,
‘ভয় করো না/ লোভ করো না/ ক্ষোভ করো না/ জাগো আমার মন/
গান জাগিয়ে চলো সমুখ-পথে/ যেখানে ওই কাশের চামর দোলে/ নবসূর্যোদয়ের দিকে।’
বালিকার কাছে এইসব পিউরিটান বাণীর খোসা ছড়ানো তখনো হয়নি। অভিজ্ঞতা বাকি ছিল।
২) ক্ষোভের সঙ্গে কাটাকুটি খেলা শুরু হয় বয়েস ত্রিশের পরে। ক্ষোভ মানে রিজেন্টমেন্ট। বিষাক্ত জিনিস।
ক্ষোভ মনের মধ্যে রেখে যারা দুনিয়ায় তাবদ সাম্য শান্তি ন্যায়ের কথা বলেন, তাদের আলোকিত মনে হলো না।
আমার জানতে ইচ্ছে করল যারা অন্যদের আলোকিত করতে চায় তারা টর্চ নিজের বুকের মধ্যে ধরে দেখে কিনা।
৩) লোভের বশে বড়লোকের সঙ্গে সখ্যতা পাতাইনি। শক্তিশালীর সঙ্গে সম্পর্ক রাখিনি। তদবির করে এগিয়ে যেতে চাইনি। দলের ছাউনি খুঁজিনি। মন রাখা মিথ্যে ফাঁদিনি। মায়াকান্না কাঁদিনি। নিজের সমস্যা হজম করে ঘুমাতে গেছি।
আবার সেই পিউরিটান বড়ো হবার ফল আর কি।
এতোদিনে বুঝে গেছি ছেঁড়া কাপড়ে শুতে গেলেও ঘুমটা হালকা হওয়া দরকার।
৪) তবে রমাদির মতো একটা কথা আমিও জানি। বেঁচে থাকার লোভটা তো ফেলে দিতে পারি না।

x