জন্মদিনে সোনার পদক ফাতেমার ভারোত্তোলনে আরেকটি স্বর্ণ জিয়ারুলের

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার , ৮ ডিসেম্বর, ২০১৯ at ৫:৩৩ পূর্বাহ্ণ

এবারই প্রথম দক্ষিণ এশিয়ান গেমসে অন্তুর্ভুক্ত হয়েছে ফেন্সিং। আর তাতেই বাজিমাত করলেন বাংলাদেশের ফাতেমা। বাংলাদেশকে আরেকটি সোনার পদক উপহার দিয়েছেন এই ফাতেমা মুজিব। ফেন্সিংয়ে মেয়েদের সেইবার এককে সেরা হয়েছেন এই অ্যাথলেট। কাঠমান্ডুর নয়াবাজার কৃতিপুরে শনিবার এককে ফাতেমাও পেলেন প্রথম সোনা জয়ের স্বাদ। ফাইনালে স্বাগতিক নেপালের রাবিনা থাপাকে ১৫-১০ পয়েন্টে হারান ফাতেমা। সেমি-ফাইনালে ভারতের দিয়ানা দেবীকে ১৫-১১ ব্যবধানে হারিয়েছিলেন তিনি। প্রতিযোগিতাটির ত্রয়োদশ আসরে এ নিয়ে সাতটি সোনার পদক জিতল বাংলাদেশ।
৭ ডিসেম্বর, এদিন ছিল ফাতেমার জন্মদিন। আর ফাতেমা সে দিনটিকে সোনা দিয়ে মোড়ালেন। এতদিন ছিল কেবল জন্মদিনের শুভেচ্ছায় ভেসে যাওয়ার দিন ফাতেমা। এবার সেটিতে নতুন রঙ দিলেন ফাতেমা মুজিব। দক্ষিণ এশিয়ান গেমসে গলায় পরলেন সোনার পদক। নিজের নামটিকে লিখে রাখলেন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ফেন্সিংয়ে প্রথম সোনাজয়ী বাংলাদেশি হিসেবে। এবার প্রতিযোগিতার আগেই পণ করেছিলেন ফাতেমা; সোনার পদক জিতলেই উদযাপন করবেন জন্মদিন। নয়তো নয়। এমনকি সতীর্থদের জানাবেনও না। ‘আজ আমার জন্মদিন। কিন্তু এ কথা কাউকে জানাইনি। ভেবে রেখেছিলাম যখন জিতব, তখন জানাব সবাইকে। জন্মদিনে সোনার পদক জিততে পেরে খুবই ভালো লাগছে।’ ‘ফেন্সিং রাজকীয় খেলা। খুব ড্রেস পরা থাকে। এটা দেখে খুব ভালো লাগে আমার। ভাইয়ের মাধ্যমে ২০১৩ সালে এই খেলায় আসি। ঘরোয়াতে ৪টি সোনা জিতেছি। দলগততে ৭টি। আত্মবিশ্বাস ছিল এখানে পারব। যদিও এখানকার কন্ডিশন খুব ভালো ছিল না।’ ‘প্রথমে লিগ পর্বে খেলেছি। শ্রীলংকা, ভারতের প্রতিপক্ষকে হারানোর পর নেপালের প্রতিপক্ষকে ফাইনালে হারালাম। আত্মবিশ্বাস ভালো ছিল। প্রথম বিদেশে এসে সোনা জিতলাম। খুব ভালো অনুভূতি হচ্ছে।’ আনন্দ, উচ্ছ্বাসের মধ্যে কিছুটা বিষাদও জেকে ধরেছে ফাতেমাকে। এমন সাফল্য যে দেখতে পারলেন না ২০০১ সালে না ফেরার দেখে চলে যাওয়া মা হাসিনা বেগম। ‘২০০১ সালে মা স্ট্রোক করে মারা গেছেন। মার কথা মনে পড়ছে।’
এদিকে দক্ষিণ এশিয়ান গেমসের ভারোত্তোলনে দারুণ কীর্তি গড়ল বাংলাদেশ। মাবিয়া আক্তার সীমান্তের পর এবার সোনার হাসি উপহার দিলেন জিয়ারুল ইসলাম। আগের ১২ আসরে কখনই এই ইভেন্ট থেকে একটার বেশি সোনার পদক জয়ের গল্প যে ছিল না! পোখারায় শনিবার ছেলেদের ৯৬ কেজি ওজন শ্রেণিতে স্ন্যাচ (১২০ কেজি) ও ক্লিন অ্যান্ড জার্ক (১৪২ কেজি) মিলিয়ে ২৬২ কেজি তুলে সেরা হন জিয়ারুল। নেপালের বিশাল সিং সব মিলিয়ে ২৪৭ কেজি তুলে রুপা এবং ভুটানের কিনলে গাইয়েলতসেন ১৭০ কেজি তুলে ব্রোঞ্জ পেয়েছেন। অনুশীলনে কষ্ট করার ফল নেপালে পাওয়ায় খুশি জিয়ারুল। ‘আল্লাহ যার কপালে যা লিখে রেখেছে, সে সেটা পাবে। আমি কষ্টও করেছি। আর কষ্ট করলে কেষ্টো মেলে। কোচ আমাদের অনেক কষ্ট করিয়েছেন। এজন্য আমরা সফল হয়েছি।’ জিয়ারুলের আগে মেয়েদের ভারোত্তোলনের ৭৬ কেজি ওজন শ্রেণিতে সোনা জিতেন মাবিয়া।

x