জন্টুর বাবা মন্টু

সাইমুন পাশা মামুন

বুধবার , ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ at ১১:০৪ পূর্বাহ্ণ
34

মন্টুর বয়স পাঁচ পেরিয়ে এবার ছয় বছরে। মন্টুর বাবা-মা, মন্টুকে একটা স্কুলে ভর্তি করে দিল। প্রথম কয়েকদিন মন্টুর ভালোই লেগেছে। মন্টু ভাবে, এটা আবার কেমন স্কুল! প্রতিদিন যেতে হয়! মন্টু বাবাকে বলে, বাবা ও বাবা, আমাদের স্কুলটা না পচা। মন্টুর বাবা বলেন, কীভাবে তোমার স্কুলটা আবার পচলো?
মন্টু বলে, প্রতিদিন প্রতিদিন যেতে হয়। মন্টুর বাবা মন্টুকে বুঝিয়ে বলে, সব স্কুল এমনই। প্রতিদিন প্রতিদিন যেতে হয়। জীবনে বড় হতে হলে, প্রতিদিন প্রতিদিন স্কুলে যেতে হয়। ভালো করে পড়া-লেখা করতে হয়।
মন্টু ভাবে, বাবার থেকে না হয় স্কুলের কথা জানা গেল। কিন্তু মা এর কী হল! মা তো এমন ছিলো না। মন্টুর মাথায় একটা কথা মোটেও ঢুকছে না, মাকে এসব কে শিখিয়েছে! এই মন্টু রোদে যাসনে। এই মন্টু এখন খাবি আয়! এখন ঘুমাবি! এসব হাবি-জাবি শিখানোর কী দরকার ছিল! যে শিখিয়েছে একবার পেলে দুটা কটু কথা শুনিয়ে দেব। কিন্তু, মা আসু স্যার, বাসু স্যারের গল্প শুনিয়েছে। এসব স্যারেরা কেউ গণিত কেউবা ইংরেজি শিখিয়েছে। এসব কথা ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়ে মন্টু।
ঘুমের মধ্যে মন্টু স্বপ্নে দেখে হঠাৎ কে যেন মন্টুকে ছুঁয়ে দিয়ে গেল। মন্টু বড় হয়ে গেল। দাড়ি-গোফ গজালো মন্টুর। বড় চাকরি হলো। সকলে মন্টুকে মন্টুসাহেব ডাকতে শুরু করল। আর কি! এরি মধ্যে চক্‌্‌ চকে বাড়ি, টুকটুকে বউ, এমনকি ফুটফুটে একটা বাবু পর্যন্ত হয়ে গেল মন্টুর।বাবার নামের সাথে মিলিয়ে বাবুটির নাম রাখা হলো জন্টু। অর্থাৎ মন্টুর ছেলে জন্টু বা জন্টুর বাবা মন্টু। বড়ো আদর আর ভালোবাসায় জন্টু বড় হতে লাগল।
এদিকে জন্টুকে স্কুলে ভর্তি করানো হয়েছে। সে আর এক যুদ্ধ। পড়া-লেখা কি আর করতে চায়! সবার আদরে আদরে একেবারে মাথায় উঠে বসেছে যেন। কি দুষ্টুরে বাবা! সেদিন মন্টু সাহেব অফিস থেকে একটু আগে বাসায় ফিরলেন। ভাবলেন ছেলেটাকে নিয়ে নদীর পাড়া থেকে একটু ঘুরে আসি।
যেই মন্টু জন্টুকে নিয়ে নদীর পাড়ে গেলেন, জন্টুর সে কি দুষ্টুমিরে বাবা! এদিকে দৌড়! ওদিকে দৌড়! মন্টু সাহেব জন্টুর পেছনে দৌড়ে হাপাতে হাপাতে বলে, এমন করোনা বাপ! বাবা বলছিলনা দাঁড়া! একটু দাঁড়া বাপ! আর পারছি না যে বাপ! ওবাপ! কে শুনে কার কথা!
পরে অনেক কষ্ট করে জন্টুকে ধরে বাসায় আনেন মন্টু সাহেব। জন্টুর বাবাকে হাঁপাতে দেখে জন্টুর মা, জন্টুর বাবাকে বলে , তোমাকে এমন দেখাচ্ছে কেন? কী হয়েছে তোমার? এবার জন্টুরমাকে জন্টুর বাবা রেগে বলে, সব তোমার জন্য! জন্টুরমা বলে, আমি আবার কি করলাম! জন্টুর বাবা বলে, আদর দিয়ে দিয়ে ছেলেটাকে একেবারে মাথায় তুলেছ! বাপ্‌রে বাপ! এমন দুষ্টুমি বাপের জন্মে দেখিনি! জন্টু বাবার কথা গুলো মা এর ওড়নার আঁচলে লুকিয়ে লুকিয়ে শুনছিল।
পরের দিন সকাল বেলার কথা। কোট পরে বেসিনের আয়না দেখে টাই বাঁধতে বাঁধতে মন্টু সাহেব ভাবলেন, অফিসে যাওয়ার সময় জন্টুকে স্কুলে নামিয়ে দিয়ে অফিসে চলে যাবেন। এসময় জন্টুর দিকে তাকিয়ে দেখেন, জন্টু এখনও ঘুমাচ্ছে! এই জন্টু এখনও ঘুমাচ্ছিস! বলে মন্টু সাহেব যেইনা ধমক দিলেন, ওমনিই মন্টুর ঘুম ভেঙে গেল।
মন্টু একদিকে তাকিয়ে দেখে দিদিমা দাঁড়িয়ে আছে, অপর পাশে মা টেবিলে নাস্তা সাজাচ্ছে। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখে, ক্লাস বসতে আর কয়েক মিনিট মাত্র বাকি। নিজের দিকে চেয়ে দেখে এতক্ষণের গড়াগড়িতে গায়ের কাঁথা দূরের কথা, পরনে প্যান্টও নেই! মন্টু উঠে ভোঁ দৌড় বাথরুমে। তাড়া-তাড়ি দাঁত ব্রাশ করে, কোন রকম গোসল সেরে, আজ মন্টু নিজে নিজে স্কুল ড্রেস পরে নাস্তার টেবিলে বসল।
মন্টু মাকে বলে, মা তাড়াতাড়ি করো, ক্লাস বসতে বেশি দেরি নেই! প্রথমেই জুছি মিসের ঘন্টা। আজ মা ও দিদিমা তো অবাক! দিদিমা মনে মনে বলে, আজ আমার মন্টু ভাইকে কোন লক্ষ্মী ছুঁয়ে দিয়ে গেল! এর মধ্যে মন্টু মাকে নিয়ে স্কুলের উদ্দেশে বেরিয়ে গেল। স্কুলে যাওয়ার সময় দিদিমার দিকে একটু তাকিয়ে দিদিমার সাথে হাসি বিনিময় করল মন্টু।