ছয় দিনেও চালু হয়নি বান্দরবানের সড়ক যোগাযোগ (ভিডিও সহ)

লামায় পাহাড় ধসে ১ নারীর মৃত্যু, আহত ২

বান্দরবান প্রতিনিধি

রবিবার , ১৪ জুলাই, ২০১৯ at ৫:৫৮ অপরাহ্ণ
112

অবিরাম বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে প্রধান সড়ক প্লাবিত হওয়ায় বান্দরবানের সঙ্গে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ ছয় দিনেও চালু হয়নি।

বৃষ্টিতে লামা উপজেলার মধুঝিরিতে পাহাড় ধসে বসতবাড়ির নিচে চাপা পড়ে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।

সাঙ্গু নদীর পানি এখনো বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বন্যায় জেলা সদর, রুমা, থানচি, রোয়াংছড়ি, লামা এবং আলীকদম উপজেলায় পঞ্চাশ হাজারের বেশি মানুষের ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে। রুমা-থানচি-রোয়াংছড়ি এবং বান্দরবান-রাঙ্গামাটি অভ্যন্তরিন সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থাও বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, অবিরাম ভারী বর্ষণে বান্দরবানের সাতটি উপজেলায় অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে।

বৃষ্টিতে পাহাড় ধসে সদরের কালাঘাটা, হাফেজঘোনা, ইসলামপুর, বনরুপা পাড়াসহ আশপাশের এলাকাগুলোতে পাহাড় ধসে বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পাহাড় ধসে লামা উপজেলার মধুঝিরি এলাকায় বসতবাড়িতে পাহাড় ধসে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। নিহত নারীর নাম নূর জাহান (৬৫)। তিনি স্থানীয় বাসিন্দা নূর হোসেনের স্ত্রী। এসময় পাহাড় ধসে নিহতের পুত্র মোহাম্মদ ইরান এবং পুত্রবধূ ফাতেমা বেগম নামে আরও ২ জন আহত হয়েছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে হতাহতদের উদ্ধার করেছে। আহতদের লামা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে লামার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আপেলা রাজু নাহা জানান, ঝুঁকিপূর্ণ বসতি থেকে পাহাড় ধসে হতাহতদের আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে আনা হয়েছিল কিন্তু রবিবার (১৪ জুলাই) সকালে তারা আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে পালিয়ে বসতবাড়িতে ফিরে গেলে পাহাড় ধসে প্রাণহানির ঘটনাটি ঘটে।

বন্যায় বান্দরবান-কেরানীহাট প্রধান সড়ক প্লাবিত হওয়ায় রবিবার ষষ্ঠদিনের মতো সারাদেশের সঙ্গে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জেলা বান্দরবানের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। তবে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় রবিবার দুপুরের পর বন্যায় প্লাবিত অভ্যন্তরীণ সড়কগুলো থেকে পানি নেমে যায়। কিন্তু প্লাবিত এলাকাগুলোর অধিকাংশ বসতবাড়ি এখনো বন্যার পানিতে তলিয়ে আছে।

যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের সংকট দেখা দিয়েছে স্থানীয় হাট-বাজারগুলোতে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফায়দা নিয়ে ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজ, রসুন, মোমবাতি, বৈজ্য তেল, ডিম, শাক-সবজি এবং মাছ-মাংস-মুরগীর দাম বাড়িয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ করেছে ক্রেতারা।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, অবিরাম ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে পার্বত্য জেলা বান্দরবানের সাতটি উপজেলায় অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে।

বৃষ্টিতে পাহাড় ধসে সদরের কালাঘাটা, হাফেজঘোনা, ইসলামপুর, বনরুপা পাড়া’সহ আশপাশের এলাকাগুলোতে পাহাড় ধসে বেশকিছু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

এদিকে গত ৬ জুলাই থেকে অব্যাহত ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে জেলার রুমা, থানচি, রোয়াংছড়ি, লামা, আলীকদম এবং সদর উপজেলায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

ছয়টি উপজেলা এবং দু’টি পৌরসভায় কমপক্ষে অর্ধলক্ষাধিক মানুষ বন্যায় ক্ষতির শিকার হয়েছেন। বন্যায় পুলিশ সুপারের বাংলো, ডিসিবাংলো, জজকোর্ট, নির্বাচন অফিস, ইউএনও অফিস, রোয়াংছড়ি-লামা থানা, পুলিশ লাইনস, বনবিভাগ, পার্বত্য জেলা পরিষদের রেস্টহাউজ, ক্যান্ট. পাবলিক স্কুল ও কলেজ, অরুনসার্কি টাউনহল, ফায়ারসার্ভিস অফিস, ক্রীড়া অফিস, সেনাবাহিনীর এমডিএস এলাকা, অফিসার্স ক্লাব, মহিলা ক্লাব সবগুলো প্লাবিত হয়েছে।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আবাসিক হোটেল হিলভিউ, হিলটন, রিভারভিউ, পূরবী এবং বাজারের বেশকিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

রুমা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শৈমং মারমা বলেন, ‘১৯৯৭ সালের পর বিগত বাইশ বছরে এতটা বড় বন্যা আর হয়নি। রুমা বাজার সহ আশপাশের এলাকাগুলো বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। সড়ক-ব্রিজ ডুবে যাওয়ায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থাও। বন্যা ও পাহাড় ধসে রাস্তাঘাট-ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।’

থানচি সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাংসার ম্রো বলেন, ‘সাঙ্গু নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় থানচি বাজার সহ আশপাশের এলাকাগুলো বন্যায় প্লাবিত হয়। নদী তীরবর্তী অসংখ্য ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অভ্যন্তরীণ সড়কের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।’

রোয়াংছড়ি সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান চহ্লামং মারমা বলেন, ‘রোয়াংছড়িতে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যা হয়েছে এবার। রোয়াংছড়ি ইউএনও অফিস, থানা, এলজিইডি অফিস এবং বাজার এলাকার সবগুলো সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান-ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে বন্যার পানিতে। রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এখনো বিচ্ছিন্ন রয়েছে সড়ক যোগাযোগ।’

বান্দরবান পৌরসভার মেয়র মো. ইসলাম বেবী এবং লামা পৌরসভার মেয়র জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘অবিরাম বর্ষণে বন্যা-পাহাড় ধসে পৌরসভার রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অনেক স্থানে ধসে গেছে সড়ক। বন্যা-পাহাড় ধসে পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে লোকজনের ঘরবাড়ি। প্লাবিত অঞ্চলের মানুষজন আশ্রয় নিয়েছে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে। খাদ্য-বাসস্থান সবকিছুর সংকট তৈরি হয়েছে এবারের বন্যায়। তবে প্লাবিত এলাকাগুলো থেকে বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে।’

আলাউদ্দিন শাহরিয়ার-এর ধারণ করা বান্দরবানের বন্যার ভিডিওটি দেখতে ক্লিক করুন: https://www.facebook.com/DainikAzadi/videos/348396552520873/

x