ছয় দলের লক্ষ্য যেখানে একই

ক্রীড়া প্রতিবেদক

শনিবার , ১৯ অক্টোবর, ২০১৯ at ৩:৫০ পূর্বাহ্ণ
82

শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের পর্দা উঠছে আজ। এরই মধ্যে টুর্নামেন্টের ছয় দল চট্টগ্রামে এসে পৌঁছেছে। ভারতের আই লিগ চ্যাম্পিয়ন চেন্নাই এফ সি আসবে কাল। আর কেরালা এফসি এসে পৌঁছানোর কথা আজ। গতকাল বাকি ছয় দল জানিয়ে দিয়েছে তাদের লক্ষ্যের কথা। যেখানে ছয় দলেরই লক্ষ্য একটাই। আর তা হচ্ছে শিরোপা জেতা। গত দুই আসরের দুই চ্যাম্পিয়ন মালদ্বীপের টিসি স্পোর্টস ক্লাব এবং প্রথম আসরের চ্যাম্পিয়ন স্বাগতিক চট্টগ্রাম আবাহনীর মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে মাঠে গড়াবে এই টুর্নামেন্ট। আর সে ম্যাচে জয় চায় আবাহনী এবং টিসি স্পোর্টস দু’দলই। যেখানে আবাহনীর লক্ষ্য শিরোপা উদ্ধার করা সেখানে টিসি স্পোর্টসের লক্ষ্য শিরোপা ধরে রাখা। কাজেই টুর্নামেন্টের শুরুটা হচ্ছে বড় একটি ম্যাচ দিয়ে সেটা বলাই যায়। গতকাল সন্ধ্যায় সিজেকেএস মিলনায়তনে ছয় দলের অধিনায়ক এবং কোচ হাজির হয়েছিলেন সাংবাদিকদের সামনে। সেখানে প্রতিটা দলই তাদের লক্ষ্যের কথা জানিয়ে দিয়েছেন। যদিও সবার লক্ষ্য এক এবং অভিন্ন।
চট্টগ্রাম আবাহনীর কোচ মারুফুল হক এবং অধিনায়ক জামাল ভুইয়া দু’জনই জানিয়েছেন তারা শিরোপা পুনরুদ্ধার করতে চায়। যদিও দলটির পাঁচজন জাতীয় দলের খেলোয়াড় ক্যাম্পে যোগ দিয়েছেন একদিন আগে। বাকিদের নিয়ে তিন সপ্তাহ অনুশীলন করেছে কোচ। আর পুরো দল নিয়ে গতকালই অনুশীলন করেছে। তারপরও তার লক্ষ্য শিরোপা জেতা। তিনি বলেন দলের সবাই পেশাদার ফুটবলার কাজেই এখানে মানিয়ে নেওয়াটা মোটেও কঠিন কোন কাজ নয়। দলে যে কয়জন বিদেশী ফুটবলার রয়েছে তাদের মধ্যে তিন জনের রয়েছে ইউরোপা লিগ খেলার অভিজ্ঞতা। আর একজনের রয়েছে বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতা। তবে এটা ঠিক তারা যদি আগের সে সোনালী সময়ে থাকতো তাহলেতো আমাদের দেশে খেলতে আসতোনা। তারপরও তারা ভাল মানের বিদেশী ফুটবলার। কাজেই তাদের উপর আস্থা রাখা যায়। দলের অধিনায়ক এবং বাংলাদেশ জাতীয় দলের অধিনায়ক জামাল ভুইয়া বলেন তারা শিরোপা জিততে চায়। স্বাগতিক হিসেবে একটা চাপ থাকে। তবে সেটা তেমন বড় কোন সমস্যা হবেনা বলেও মনে করেন তিনি। মাঠে সবাই শতভাগ দিতে পারলেই শিরোপা জেতা সম্ভব। যদিও তাদের প্রথম টার্গেট সেমিফাইনাল। তারপরও শিরোপা জেতা। দলের কোচ মারুফুল হকও দায়িত্ব নিয়েছেন এই টুর্নামেন্টের জন্য। দলের অনেক ফুটবলার এসেছে বিভিন্ন দল থেকে। তারপরও কোচের আশা ভাল খেলা সম্ভব। তিনি বলেন আমি প্রতিপক্ষ দলের খেলা দেখেছি। তাদের সম্পর্কে ধারনা পেয়েছি কিছুটা হলেও। তবে সবচাইতে বড় কথা হচ্ছে মাঠে কেমন খেলতে পারে খেলোয়াড়রা।
এই ম্যাচে আবাহনীর প্রতিপক্ষ মালদ্বীপের টিসি স্পোর্টস দলের কোচ এবং ম্যানেজার দু জনই বললেন তারা শিরোপা ধরে রাখতে এসেছে। তার দলের সবাই খেলার মধ্যে রয়েছে। যেহেতু তার দেশে লিগ চলছে এখন। তারা বলেন তারা প্রস্তুত হয়েই এসেছে। দলে রয়েছে দুজন সে দেশের জাতীয় দলের ফুটবলার এবং একজন বিদেশী। তারা বলেন আমরা জানি স্বাগতিক দল বেশ শক্তিশালী। তারপরও আমরা আমাদের লক্ষ্য নির্ধারণ করেই এসেছি। আর লক্ষ্যের দিয়ে এগিয়ে যেতে চাই প্রতিটা ম্যাচকে টার্গেট করে।
এবারের শেখ কামাল টুর্নামেন্টে দুটি দল বেশ আলোচিত। আর সে দুটি দল হচ্ছে বাংলাদেশের লিগ চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংস এবং ভারতের মোহনবাগান অ্যাথলেটিক ক্লাব। এই দুই দলই চায় শিরোপা জিততে। বিপিএলে প্রথম আসরে খেলতে এসেই চমক সৃষ্টি করেছে বসুন্ধরা কিংস। আর সে চমক অব্যাহত রাখতে চায় এখানেও। কোচ অস্কার গ্রোজেন এবং অধিনায়ক ডেনিয়েল দুজনের কন্ঠেই একই সুর। দলে দেশি তারকা ফুটবলার যেমন রয়েছে তেমনি রয়েছে বিদেশী ফুটবলারও। কাজেই তারা এএফসি কাপের মত বড় আসরকে টার্গেট করে এই টুর্নামেন্টে খেলতে এসেছে। কাজেই তাদের লক্ষ্য কি সেটা বোধ হয় আর না বুঝার কোন কারন নেই। বাংলাদেশের সেরা এই দলটির কোচ বলেন তাদের প্রতিপক্ষ দলের একটি ভারতের লিগ চ্যাম্পিয়ন। কাজেই তাদের কঠিন লক্ষ্য পাড়ি দিতে হবে। যদিও দলে রয়েছে বেশ কয়েকজন বিদেশী ফুটবলার তারপরও দেশি ফুটবলারদেরও উপরও আস্থা রয়েছে বসুন্ধরা কোচের। তিনি বলেন এই উপমহাদেশের ফুটবলের দিকে তাকালে দেখবেন অনেক বিদেশীর ভিড়ে কিন্তু দেশী ফুটবলাররা ভাল করে থাকে। কাজেই দেশি এবং বিদেশী মিলে দলের সবাইকে এক করে দেখতে চান বসুন্ধরা কোচ।
মোহনবাগানের স্পেনিশ কোচ ভিকোনা এসেছেন দলে পাঁচজন স্পেনিশ ফুটবলার নিয়ে। দলটি মোহনবাগানের সেরা দল হিসেবে উল্লেখ করেছেন কোচ। তিনি বলেন তারা বেশ প্রস্তুতি নিয়েই এসেছেন। নিজেদের সেরাটা দিয়ে ট্রফি জিততে চান এই স্পেনিশ কোচ। তিনি এটাও জানেন এই টুর্নামেন্টে বেশ ভাল চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে তাদের। কারন এই টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া প্রতিটি দলই বেশ ভাল দল। এখানে ভাল প্রতিদ্বন্দ্বীতা হবে। আর সেটা উৎরে গিয়েই শিরোপা জিততে হবে। আর সে জন্য প্রস্তুতি নিয়েই এসেছে কলকাতার ঐতিহ্যবাহী এই ক্লাবটি। মোহনবাগানকে খেলতে হবে টুর্নামেন্টের দুই চ্যাম্পিয়ন দলের সাথে। তবে সেটা নিয়ে তারা ভাবতে নারাজ। প্রতিপক্ষ নয় নিজেদের সেরাটা দিয়ে ম্যাচ জিততে এসেছে কলকাতার দলটি সেটাই জানিয়ে দিলেন দলটির কোচ।
এবারে প্রথমবারের মত শেখ কামাল ক্লাব কাপে খেলতে এসেছে লাওসের দল নিউ এলিপেন্ট ফুটবল ক্লাব। শুধু তাই নয় দেশের বাইরে কোন আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপে এই প্রথম খেলবে দলটি। যদিও লাওস এখন এশিয়ার ফুটবলে বেশ উদীয়মান শক্তি। তাই তাদের লক্ষ্য ভাল খেলে শেষের দিকে যাওয়া। দলটিতে রয়েছে চারজন জাতীয় দলের ফুটবলার। তবে নেই কোন বিদেশী ফুটবলার। কারন তাদের লিগে কোন বিদেশী ফুটবলার খেলে না। প্রথমবারের মত খেলতে এসে শিরোপা জেতার আশা করাটা কতটা যৌক্তিক। দলটির কোচ জানালেন এটা ফুটবল। এখানে সবকিছু হতে পারে। কাজেই কোন দলকে খাটো করে দেখার কোন সুযোগ নাই।
মালয়েশিয়ার তেরেঙ্গানো ফুটবল ক্লাবের কোচ নাফুসি জেন এবং অধিনায়ক লিটা জানালেন তারা প্রথমবারের মত এই টুর্নামেন্টে খেলতে এসে দারুন উচ্ছ্বসিত তাদের কাছে এই টুর্নামেন্টের মর্যাদাটাই আলাদা। তাই ভাল খেলার প্রত্যয় নিয়েই এসেছে তারা। দলটির কোচ বলেন এখানে যে দলগুলো এসেছে তারা সবাই বেশ ভাল দল। তাদের সম্পর্কে জানা রয়েছে আমাদের। তবে আমরাও বেশ প্রস্তুত হয়ে এসেছি। আমরা জানি এখানে কেমন প্রতিপক্ষের সামনে পড়তে হবে। সেটা ভেবেই এসেছি আমরা। দলের সবাই নিজেদের সেরাটা দিতে প্রস্তুত। আর গ্রুপ পর্বে প্রতিপক্ষও বেশ কঠিন। তবে মাঠে দেখা যাবে আমরা কেমন খেলি। টুর্নামেন্টের বাকি দুই দলও নিশ্চয় শিরোপা জেতার লক্‌্যষ নিয়ে আসবে। যেখানে একটি দল হচ্ছে ভারতের আই লিগ চ্যাম্পিয়ন চেন্নাই সিটি এফসি। আর অপরটি কেরালা এফসি। দুটি দলই ভারতের বেশ শক্তিশালী দল। কাজেই তারা ও চাইবে শিরোপা জিততে। কাজেই এ কথা বলেই দেওয়া যায় এবারের শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের সব দলের চাওয়া যেখানে একই সেখানে এই টুর্নামেন্ট এবারে বেশ আকর্ষনীয় এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ন হবে। এখন দেখার বিষয় মাঠে আসল পরীক্ষায় কেমন করে দলগুলো।

x