ছেলেধরা সন্দেহে বাঁশখালীতে ৪ জন গণপিটুনির শিকার

ছাগল কিনতে এসে বাহারছড়ায়-মন্দির দেখতে এসে বাণীগ্রামে

বাঁশখালী প্রতিনিধি

সোমবার , ২২ জুলাই, ২০১৯ at ১০:০৪ অপরাহ্ণ
343

বাঁশখালীতে ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে ৪ জন আহত হয়েছেন।

আজ সোমবার (২২ জুলাই) দুপুরে বাঁশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নের বশিরউল্লাহ বাজার এলাকায় ও সাধনপুর ইউনিয়নের বাণীগ্রাম এলাকায় এ ঘটনাগুলো ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, সোমবার দুপুরে বাহারছড়া এলাকার বশির উল্লাহ বাজার এলাকায় ছাগল কিনতে এসে ঘোরাফেরা করতে দেখে ৩ জনকে স্থানীদের সন্দেহ হলে ছেলেধরা ভেবে লোকজন জড়ো হয়ে তাদের পিটুনি দিয়ে গুরুতরভাবে আহত করে থানা পুলিশকে খবর দেয়।

তাদেরকে বাঁশখালী থানা পুলিশ উদ্ধার করে বাঁশখালী উপজেলা হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে থানা হেফাজতে নিয়ে যাওয়া হয়।

আহতরা হলেন পটিয়া থানার বরনিয়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের শফিক আহমদের পুত্র মো. হৃদয় (১৮), বোয়ালখালী থানার শাকপুরা ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের চেরাং বাড়ী এলাকার শাহাব মিয়ার পুত্র মো. জনি (২৮), পটিয়া থানা বরনিয়া ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ওখাইন নারা এলাকার নবাব মিয়ার পুত্র মো. সোহেল (২৫)।

অপরদিকে সাধনপুর বাণীগ্রাম এলাকায় মন্দির দেখতে এসে ছেলেধরা ভেবে হামলার শিকার হন সাতকানিয়া কালিয়াইশ ইউনিয়নের তপন বিশ্বাসের পুত্র শান্ত বিশ্বাস (৩২)। এসময় জনতার কবল থেকে শান্তকে উদ্ধার করতে গিয়ে হামলার শিকার হন বাণীগ্রামের অবস্থানরত চট্টগ্রাম চান্দগাঁও থানার বলির হাট এলাকার নুরুল আজিমের পুত্র আব্দুর রহিম (৩৯) ।

ঘটনার ব্যাপারে বাহারছড়া ৭নং ওয়ার্ড়ের ইউপি সদস্য কামরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘যাদের গনপিটুনি দেয়া হয়েছে তারা সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ে চাপাছড়ি আসে। সেখানকার জনগণ তাদেরকে সন্দেহ করলে তারা অটোরিকশা নিয়ে আসার পথে ধাওয়া করলে হামিদ কাজী পাড়া ক্লাবে নিয়ে মারধর শুরু করলে সেখানে গিয়ে পুলিশকে অবহিত করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়। তারা ছেলে ধরা নয় তা নিশ্চিত কিন্তু তারা সামনের কোরবানকে লক্ষ্য করে ছাগলের জন্য এসেছে বলে জানা যায়।’

বাহারছড়া ৯নং ওয়ার্ড়ের ইউপি সদস্য নাছির উদ্দিন বলেন, ‘ছেলেধরা ধরা পড়েছে এখবর পাওয়ার পর হামিদ কাজী পাড়া ক্লাবে গিয়ে দেখি তাদের বেঁধে প্রচণ্ড মারধর করা হচ্ছে এবং অনেক লোক জড়ো হয়েছে। পরে পুলিশ এলে তাদের হাতে তুলে দিলে ও কার ছেলে ধরেছে অথবা এ ধরনের কোনো কাজ করেছে কিনা তা কেউ নিশ্চিত করেনি।’

এদিকে বাঁশখালী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা আহত মো. জনি বলেন, “আমরা আগামী কোরবান উপলক্ষে ছাগল কিনতে বাঁশখালী বশিরউল্লাহ মিয়াজীর বাজারে আসি। এক পর্যায়ে কিছুসংখ্যক লোক জড়ো হয়ে কোনো কথাবার্তা না শুনে ‘ছেলেধরা’ বলে মারধর শুরু করে। এরপর আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হয়। একপর্যায়ে সবাই মিলে আমাদের মারধর করে। পরে বাঁশখালী থানা পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আমাদেরকে মারাত্মক জখম ও রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে বাঁশখালী হাসপাতালে হাসপাতালে ভর্তি করে।’

বাঁশখালী হাসপাতালে জরুরি বিভাগে কর্মরত চিকিৎসক ডা. মনিরা ইয়াছমিন বলেন, ‘ছেলেধরা সন্দেহে গনপিটুনীতে আহত ৫ জনকে বাঁশখালী থানা পুলিশ হাসপাতালে নিয়ে আসে। আমরা চিকিৎসা সেবা প্রদান করি। পরবর্তীতে থানা পুলিশ তাদেরকে নিয়ে যায়।’

ঘটনার ব্যাপারে বাঁশখালী থানার এসআই মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘খবর পেয়ে থানা পুলিশ দুই স্থান থেকে তাদের উদ্ধার করে বর্তমানে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং জিঞ্জাসাবাদ করা হচ্ছে।’

বাহারছড়া থেকে উদ্ধার করা লোকজন ছাগল কেনার জন্য বাহারছড়া এবং বাণীগ্রামের শান্ত মন্দির দেখার জন্য আসে বলে জানান তিনি। তারপ তাদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

অপরদিকে অফিসের কাজে শহরে থাকা বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম মজুমদার বলেন, ‘ছেলেধরা সন্দেহে গনপিটুনীতে আহতদের উদ্ধার করে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছে ছাগল কিনতে যাওয়ার জন্য তারা বাজারের দিকে যাচ্ছিল। সন্দেহজনকভাবে এলাকাবাসী তাদেরকে মারধর করে। অপরদিকে সাধনপুরের বাণীগ্রাম এলাকায় তাও সন্দেহজনকভাবে এলাকাবাসী আরেকজনকে গণপিটুনী দেয়।’ তবে তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ঘটনার ব্যাপারে বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোমেনা আক্তার বলেন, ‘এখন অপরিচিত লোক দেখলেই ছেলেধরা সন্দেহ করে হামলা করছে এটা ঠিক না। এধরনের সন্দেহ হলে তাদের পুলিশের হাতে তুলে দিলে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নিবে। অথচ নিজেরা মারধর করে ক্ষমতার অপব্যবহার করছে। অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ নানাভাবে নাজেহাল হচ্ছে।’ এ ব্যাপারে তিনি সবাইকে সতর্ক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

x