ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করা এবং সামাজিক অবক্ষয় প্রসংগে

শনিবার , ২৫ নভেম্বর, ২০১৭ at ৫:২০ পূর্বাহ্ণ
173

চকরিয়ার স্কুল কলেজ পড়ুয়া ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত ও ইভটিজিং করার দায়ে শহীদুল ইসলাম (৩২) নামে এক বখাটে যুবককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরুদ্দীন মো. শিবলী নোমান। আমাদের মাঝে এ অপরাধটি যেমন অপ্রতিরোধ্য তেমনি এর শাস্তিও তেমন সৃষ্টি গোচর নয়। ফলে সংকট বাড়ছে অপরাধীরা দুর্দমনীয় হয়ে উঠছে। দেখা যায় কিছু বেকার বখাটে ইভটিজ করে বেড়ায়। আমাদের দেশের নারীরা রাস্তাঘাটে চলতে গিয়ে ইভটিজিংয়ের শিকার হচ্ছে। বখাটে ছেলেরা সারাক্ষণ রাস্তাঘাটে, দোকান পাটে বসে থাকে। মেয়েদের দেখলে অশ্লীল ভাষায় কথা বলে। রাস্তাঘাটে উত্ত্যক্ত করে। বখাটেরা অন্যায় করা সত্ত্বেও সমাজে বুক ফুলিয়ে চলে। ছেলেদের হাতে মেয়েদের নিগ্রহ শুধুই শারীরিক কারণে নয়। সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক প্রভাবও এখানে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। ছেলে শিশুরা যে পরিবেশে বেড়ে ওঠে, পরিবার মাবাবার কাছে সের্ শিক্ষা বা মূল্যবোধ অর্জন করেন। সেটিও কম প্রভাব ফেলে না তাদের মনোজগতে। অতএব, বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে ভাবতে হবে। আমাদের প্রধান সংকট হচ্ছে যে আইন আছে তারও তেমন যথাযথ প্রয়োগ নেই। অন্যদিকে আইনের ফাঁকফোকর ছাড়াও প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপ এ ধরনের অপরাধীদের বিচার প্রহসনে পরিণত হয়। অনেক সময় মেয়ে নিগ্রহকারীরা রাজনৈতিক দল বা ক্ষমতার কারণে সঠিকভাবে কাজ করতে পারে না। গত কয়েক বছর আগে এক শ্রেণীর এই অপরাধের কারণে ৫০ জন তরুণীর আত্মহত্যার খবর বেরিয়েছিল পত্র পত্রিকায়। এ সময় সারা দেশে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৫০০ বখাটে। কিন্তু প্রকৃত অপরাধীর বেশির ভাগেরই শাস্তি হয় না। একদিকে আইনগত কাঠামোর কারণে অন্যদিকে সমাজের প্রতিষ্ঠিত অধিষ্ঠিত শক্তিধরদের হাতে অপরাধীরা পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করেন বলে আমাদের মেয়েরা ছেলেদের চেয়ে এখনো অনেক পিছিয়ে। যদিও তারা জনসংখ্যার অধিক কিংবা তারও বেশি, তবু তারা পিছিয়ে আছে। জীবনের নানা ক্ষেত্রে শিক্ষা দীক্ষা করে নানা পেশায় প্রবেশ করে মেয়েরা ঘর থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে। পুরুষের মতোই জীবনের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করছে। এ চ্যালেঞ্জে অনেকেই সফল। ঠিক এ মুহূর্তে প্রবল মহামারির মতো তাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে এক শ্রেণীর বখাটেরা। যার মূল উৎপাটন জরুরি। বহু সংখ্যক মেয়ে বখাটেদের উৎপাতে তাদের লেখাপড়া ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। বহু সংখ্যক মেয়ে লজ্জা ও যন্ত্রণায় আত্মাহুতি দিয়েছে। অনেক শিক্ষক, অভিভাবক প্রতিবাদ করায় নিগৃহীত হয়েছেন। এদের কেউ কেউ জীবন দিয়েছেন। কিন্তু কতজন তাদের অপরাধের শাস্তি পেয়েছে। তা কি আমরা বলতে পারব? পারব না। কারণ একটি ঘটনা ঘটার পর তাৎক্ষণিক যে প্রতিক্রিয়া হয় আমরা তাতেই আশ্বস্ত হই নতুন ঘটনা না ঘটা পর্যন্ত। এ প্রবণতা শুভ নয়। রোধ করতেই হবে।

এম. . গফুর, বলুয়ার দীঘিরদক্ষিণ পশ্চিম পাড়, কোরবানী গঞ্জ, চট্টগ্রাম।

x