চেয়ার ছোড়াছুড়িতে পরিবেশ হালকা গরম

সবুর শুভ

রবিবার , ৮ ডিসেম্বর, ২০১৯ at ৪:১৫ পূর্বাহ্ণ

উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিল বলে কথা। লালদিঘি ময়দানে সাজসাজ রব। পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুনে সরব মাঠের ভেতরে বাইরে। কাউন্সিলর ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের দৃষ্টি থামানোর প্রতিযোগিতা ব্যানারে ফেস্টুনে। অনেকে রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন সেবামূলক কর্মকাণ্ডও তুলে ধরেন। অনেকে আবার বর্তমান সরকারে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের উপাত্ত তুলে ধরেছেন ছোটবড় ব্যানারে। নেতাদের ছবি সংবলিত গেঞ্জিও শোভা পায় কর্মীদের গায়ে। পুলিশ সতর্ক কাউন্সিলে যেকোন ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে। এরপরও মূল অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার আগেই ঘটে যায় দুই নেতার সমর্থকদের মধ্যে চেয়ার মারামারির ঘটনা। সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন শেষ হওয়া অব্দি দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত সার্বিক শৃঙ্খলার গায়ে আর কোন আঁচ লাগেনি। বিকেলে কাজীর দেউড়িস্থ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় অধিবেশন চলাকালে ভেতরে বাইরে পরিবেশ ছিল শক্ত শৃংখলায় আবদ্ধ। তৎপর পুলিশের সামনে কোন ধরনের অনাকাংখিত ঘটনার সাহস দেখায়নি কেউ। অবশ্য অধিবেশন সুশৃংখল রাখার জন্য স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতাদের কড়া নির্দেশনা ছিল সকলের। দুই পর্বে বিভক্ত পুরো সম্মেলন চলাকালে নানা বিষয় দৃষ্টিতে আসে মানুষের।
সম্মেলন শুরুর আগে চেয়ার ছোঁড়া শুরু: সম্মেলনে মীরসরাই উপজেলার দুই দাপুটে নেতা, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দীন ও মিরসরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আতাউর রহমানের অনুসারীদের মধ্যে ‘পরিবেশ গরম করা’ বাক্য বিনিময় ও চেয়ার মারামারির ঘটনা ঘটে। সকাল সোয়া ১০টার দিকেই মাঠের ভেতরে সংঘটিত এ ঘটনা সমর্থকদের মাঝে শ্লোগান ও পাল্টা শ্লোগান এবং পোস্টার ব্যানার প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে ঘটে। সরেজমিনে দেখা গেছে, সম্মেলন উপলক্ষে সকাল থেকেই বিভিন্ন স্থান থেকে আসতে থাকেন নেতাকর্মীরা। অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্ব শুরুর আগেই উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি গিয়াস উদ্দীনের অনুসারী নেতাকর্মীরা মাঠে অবস্থান নেন নেতার পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন সহকারে। সকাল ১০টার দিকে মিছিল নিয়ে মাঠে প্রবেশ করেন সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী আতাউর রহমানের অনুসারীরা। এরপর শুরু হয় উত্তেজনা।
প্রথমে শ্লোগান পাল্টা শ্লোগান। এরপর চেয়ার ছোঁড়াছুড়ি ও মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা। এসময় মঞ্চ থেকে জ্যেষ্ঠ নেতারা বারবার নেতাকর্মীদের শান্ত থাকার অনুরোধ করেন। ১০ থেকে ১৫ মিনিট সংঘর্ষ চলার পর পুলিশ মাঠে ঢুকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। অবশ্য এ সময় কেন্দ্রীয় নেতারা মাঠে উপস্থিত হননি। তবে অনুষ্ঠান শুরুর পর শেষ পর্যন্ত আর কোন গন্ডগোল সম্মেলনের শ্রীহানী করতে পারেনি। এ বিষয়ে নগর পুলিশের উপ কমিশনার (দক্ষিণ) এস এস মেহেদী হাসান জানান, দুইপক্ষের মধ্যে সম্মেলনের শুরুর সময় ছোটখাট ঘটনা ঘটেছে। আমরা দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করি। ঘটনায় জড়িতদের বিষয়ে সিসিটিভির ফুটেজ দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।
দৃষ্টি আকর্ষণে পোস্টার ব্যানার: সম্মেলনে কাউন্সিলর ও কেন্দ্রীয় নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণে লালদিঘী ময়দানের ভেতরে বাইরে সাঁটানো হয়েছে পোস্টার ব্যানার ও ফেস্টুন। এতে প্রধানমন্ত্রীর ছবিসহ বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের উপাত্ত যেমন ছিল তেমনি ছিল রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন সেবামূল কর্মকাণ্ডের বর্ণনা। আওয়ামী লীগের নেতাদের নামে পোস্টার ও গেঞ্জি পরিহিত সমর্থকও দেখা যায় অনুষ্ঠানে। পোস্টারের আধিক্য ছিল মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটনের।
পোস্টারে গিয়াস, শেষে হতাশ: লালদীঘি ও কাজীর দেউড়িস্থ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারের বাইরে সবচেয়ে বেশি দৃষ্টি আকর্ষণ করে মীরসরাই উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিনের পোস্টার ও ব্যানার। লালদীঘি মাঠের ভেতরে ও বাইরে শোভা পাওয়া তাঁর পোস্টার ব্যানারের মধ্যে বিগত বন্যায় কোমর পানি মাড়িয়ে দুর্গতদের সহায়তা করা এবং বিভিন্ন বর্বর হামলায় গুরুতর আহত নেতাকর্মীদের হাসাপাতালে চিকিৎসা সেবার খোঁজ খবর নেয়ার বেশ কিছু ছবি সংবলিত পোস্টার সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি কাড়ে। এসময় নেতাকর্মীরাও হেঁেট হেঁটে এগুলো দেখেন। তবে কাউন্সিলরদের ভোটাভোটিতে তিনি হেরে যাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েন সর্মথক নেতাকর্মীরা।
কাউন্সিলরদের ভোটের ফল বাইরে নেতাকর্মীরা উচ্ছল: কাউন্সিলরদের ভোটাভুটির পর ফলাফল বাইরে অপেক্ষমান নেতাকর্মীদের কানে বাজতেই আনন্দ বেদনায় মিশেল এক অন্যরকম পরিবেশের সৃষ্টি হয়। নতুন নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর তাদের সমর্থকরা উচ্ছ্বাস-আনন্দে মেতে উঠেন। এসময় আনন্দ প্রকাশ করতে মুহুর্মুহু আতশবাজি ফুটে। তবে নিজেদের সমর্থিত নেতারা নির্বাচিত না হওয়ায় অনেকে আবার হতাশও হয়েছেন। তাদের এ হতাশার পেছনে খানিক বেদনা লুকানো থাকলেও সার্বিকভাবে সম্মেলনের মাধ্যমে কাউন্সিলর ও তৃণমূলের মতামতেরই প্রতিফলন হল বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি ও সাংবাদিককেও আটকাল পুলিশ: বিকেল ৪টার দিকে ভিআইপি টাওয়ারের বাসিন্দা একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন পরিবারের কয়েকজন সদস্যসহ পুলিশ বেস্টনীতে পড়েন। এসময় সহকারী পুলিশ কমিশনার (কোতোয়ালি) পঙ্কজ বড়ুয়ার কাছে পরিচয় দেয়ার পরও তাঁকে খানিকক্ষণ আটকে থাকতে হয়। পরে অবশ্য কর্তব্যরত সাংবাদিকদের অনুরোধে তাকে ভিআইপি টাওয়ারের বাসায় যেতে দেওয়া হয়। এ অবস্থায় ভিআইপি টাওয়ারের বাসিন্দা ও স্কুল-কলেজের (টাওয়ারে থাকা) শিক্ষার্থীরা আটকে থাকে কয়েকঘন্টা। এ্যাপোলো শপিং সেন্টার বন্ধ করে দেয়া হয়।

x