চেঙ্গি নদীতে সাঁকো

দীর্ঘদিন পর ভোগান্তি লাঘব

সমির মল্লিক ,খাগড়াছড়ি

রবিবার , ৮ ডিসেম্বর, ২০১৯ at ৬:১৯ পূর্বাহ্ণ

খাগড়াছড়ি জেলা সদরে চেঙ্গি নদীতে ব্রিজ না থাকায় দুর্ভোগে ছিলেন উত্তর গঞ্জপাড়ার হাজারো বাসিন্দা। জেলার শহরের সাথে ওই পাড়াকে পৃথক করেছে খরস্রোতা চেঙ্গি নদী। এলাকায় কোনো সেতু না থাকায় নদী পারাপারে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে নারী, শিশু, শিক্ষার্থীদের। দীর্ঘদিন ধরে সেতুর দাবি জানালেও ব্রিজ পাননি এলাকাবাসী। এতে বর্ষায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়তে হয় তাদের। খরস্রোতা নদীর কারণে এসময় নদী পারাপার বন্ধ হয়ে যায়। তবে শুষ্ক মৌসুমে ডিঙি নৌকায় পারাপার হতে হয়। এতে মারাত্মক ঝুঁকিতে থাকেন যাত্রীরা।
জানা যায়, খাগড়াছড়ি শহরের পাশে ঘনবসতিপূর্ণ গঞ্জপাড়া এলাকা। এর উত্তর অংশের বাসিন্দারা শহরের সাথে যোগাযোগে প্রতিবছর খুবই দুর্ভোগের মধ্যে থাকেন। এখানে বর্ষায় নদী পারাপারের জন্য একটি ছোট নৌকা থাকে। নদীর পানি শুকিয়ে গেলে নৌকা দিয়ে পারাপারও কঠিন হয়ে পড়ে।
তাই বাধ্য হয়ে এলাকার মানুষ নদীর ওপর বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করেন। কিন্তু এই সাঁকো পারাপারও ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষত শিশু, নারী ও বৃদ্ধদের পারাপারে খুবই অসুবিধায় পড়তে হয়। অবস্থার পরিবর্তে এগিয়ে আসেন খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক দিদারুল আলম। বাঁশের সাঁকো সরিয়ে ওই স্থানে কাঠের ফুটব্রিজ তৈরির উদ্যোগ নেন তিনি। তাঁর উদ্যোগে সাড়া দিয়ে এলাকার মানুষও এগিয়ে আসেন। শেষ পর্যন্ত চেঙ্গি নদীর ওপর নিরাপদ একটি কাঠের সেতু নির্মাণ করা হয়।এ ব্যাপারে জানতে চাইলে দিদারুল আলম জানান, এলাকাবাসীর অসুবিধা দেখে নিজ উদ্যোগে একটি কাঠের ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নিই। আমার উদ্যোগে সহযোগিতা করেন এলাকার আরো কিছু মানুষ। ব্রিজটি প্রায় ৮০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৫ ফুট প্রস্থ। গত ২৩ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিজটি উদ্বোধন করা হয়। এতে এলাকার মানুষদের অসুবিধা কিছুটা লাঘব হয়েছে বলে আমি মনে করি। তবে স্থায়ী সমাধান নয়। এখানে জরুরি ভিত্তিতে একটি কালভার্ট প্রয়োজন।
উত্তর গঞ্জপাড়ার বাসিন্দা কামাল হোসেন ও পারভেজ মিয়া জানান, কাঠের সেতু দেয়ায় আমাদের যোগাযোগ সহজ ও নিরাপদ হয়েছে। দিদারুল আলমের এ উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই।’
বিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থীরা জানায়, ব্রিজ নির্মাণের পর আমরা স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াত করতে পারি। তবে বর্ষায় পারাপারে কষ্ট পোহাতে হয়। এখানে স্থায়ী ভিত্তিতে ব্রিজ নির্মাণ করা হলে দুর্ভোগ কমবে।

x