চূড়ান্তভাবে নিষিদ্ধ হলো রেনিটিডিন

যত্রতত্র অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি বন্ধে নির্দেশনা আসছে

আজাদী ডেস্ক

শুক্রবার , ১৫ নভেম্বর, ২০১৯ at ২:৫৯ পূর্বাহ্ণ
173

মানবদেহে ক্যানসার উৎপাদনকারী উপাদানের আধিক্য পাওয়ায় ভারতের মেসার্স সারাকা ও মেসার্স এসএমএস লাইফসায়েন্স নামে দু’টি কোম্পানি থেকে আমদানি করা রেনিটিডিনের কাঁচামাল দিয়ে তৈরি রেনিটিডিন জাতীয় ওষুধ উৎপাদন, বিক্রি, বিতরণ ও রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করলো ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর। গতকাল বৃহস্পতিবার ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে চলতি বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর বিশ্ববাজারে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে রেনিটিডিন নিষিদ্ধ করা হলে বাংলাদেশেও এর উৎপাদন ও বিপণন নিষিদ্ধ করা হয়। এরপর ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের ব্যবস্থাপনায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চূড়ান্তভাবে এ ওষুধের উৎপাদন, বিক্রয়, বিতরণ ও রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলো।
গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভারতের মেসার্স সারাকা ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড ও এসএমএস লাইফসায়েন্স থেকে আমদানি করা রেনিটিডিন হাইড্রোক্লোরাইড কাঁচামাল এবং এই কাঁচামাল থেকে উৎপাদিত ফিনিস প্রোডাক্টের নমুনা ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের ব্যবস্থাপনায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অ্যাক্রিডিটেড ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা ও বিশ্লেষণ করা হয়। পরীক্ষার ফলাফলে কাঁচামাল ও ফিনিশ প্রোডাক্টে এমডিএমএ ইনপিউরিটি প্রয়োজনের তুলনায় অনেক অতিরিক্ত পরিমাণে পাওয়া গেছে। যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এই পরিপ্রেক্ষিতে জনস্বার্থে দেশের সব রেনিটিডিন জাতীয় ওষুধ উৎপাদন, বিক্রয়, বিতরণ ও রপ্তানি স্থগিত করা হলো। খবর বাংলানিউজের।
যত্রতত্র অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি বন্ধে নির্দেশনা আসছে : এদিকে জাতীয় সংসদে বিএনপির সাংসদ রুমিন ফারহানার এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার রোধে যত্রতত্র এর বিক্রি বন্ধ করতে সরকার অল্পদিনের মধ্যেই নির্দেশনা জারি করবে। ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, আমাদের দেশের ফার্মেসিগুলো কোনো রকম প্রেসক্রিপশন ছাড়া বা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি করে। যে কারণে আমাদের অ্যান্টিবায়োটিক রেজিসটেন্স তৈরি হচ্ছে। সুপারবাথ তৈরি হচ্ছে। এতে অসুখ নিয়ন্ত্রণ করতে পারছি না। ডাক্তারের যথাযথ পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি বন্ধ করতে সরকার কী ব্যবস্থা নিয়েছে? পরে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, অ্যান্টিবায়োটিকের যত্রতত্র ব্যবহারের কারণে রেজিসটেন্স তৈরি হচ্ছে। এটি সরকারের পক্ষ থেকে অত্যন্ত সুবিবেচনায় রেখেছি, কীভাবে অ্যান্টিবায়োটিকের যত্রতত্র ব্যবহারটা রোধ করা যায়। আমরা দেখছি, রোগীরা কয়েকটি অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের পর রেজিসটেন্স তৈরি হওয়ায় চিকিৎসা নিতে না পেরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। কতগুলো ওষুধ আছে, যেগুলো লিগ্যাল প্রেসক্রিসশন ছাড়া ডিসপেনসারির দেওয়ার কথা না। যেমন ঘুমের ওষুধ প্রেসক্রিপশন ছাড়া দেওয়ার কথা না। ইতোমধ্যে আলোচনায় এসেছে, কেউ যথাযথ প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি করলে কঠোরতা জারি করা হবে। মানুষ কথায় কথায় অ্যান্টিবায়োটিক খাচ্ছে। যার জন্য যেটি প্রযোজ্য না, সেটিও খাচ্ছে। এতে নিজেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমি আশা করছি অল্পদিনের মধ্যেই ওষুধ বিক্রেতাদের জন্য এ রকম একটি নির্দেশনা করা হবে।

x