চুরি করতে ‘বিষাক্ত স্প্রে’ ব্যবহার?

দুই পরিবারের ৯ জন হাসপাতালে

সবুর শুভ

বুধবার , ৬ নভেম্বর, ২০১৯ at ৫:১৫ পূর্বাহ্ণ
364

চোরের ছোড়া স্প্রেতে দুই পরিবারের ৯ জন গুরুতর অসুস্থ হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ৫ জনের অবস্থা এখনো আশংকামুক্ত নয়। দুই পরিবারের রান্না ঘর ও টিউবওয়েলে বিষাক্ত স্প্রে মারার আশংকা করছেন অন্য সদস্যরা। মীরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ থানার নন্দনপুর গ্রামে সংঘটিত এ ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। জোরারগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনার পেছনে কারা জড়িত খুঁজে বের করতে তদন্ত শুরু করেছেন। এরই মধ্যে সন্দেহজনক একজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে যাচাই বাছাই করা হচ্ছে বলে জানান জোরারগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ মফিজ উদ্দিন ভুইঁয়া। চিকিৎসাধীন ৯ জন হচ্ছেন, রওশন আরা বেগম (৮০), তার ছেলে আমিনুর রহমান চৌধুরী, ছেলে আতিকুর রহমান চৌধুরীর স্ত্রী মিতু, মিতুর মেয়ে নাবিলা (৫) ও আতিকুর রহমান চৌধুরীর ১০ মাস বয়সী শফিকুর রহমান চৌধুরী। এ পাচঁজন একই পরিবারের।
অপর পরিবারের চারজনের মধ্যে রয়েছেন, আমিনুর রহমান চৌধুরীর চাচাতো ভাই রেজাউর রহমান চৌধুরী, তার স্ত্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মায়া এবং তাদের দুই সন্তান রাহাত (৬) ও মুমু (৩)। আহত আমিনুর রহমানের ভাই সাইদুর রহমান ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে বলেন, সোমবার রাত ৯টার দিকে আমার ভাই আমিনুর রহমান বলে গ্রামে চোর এসেছে। চোর ধরতে এলাকার লোকজন তৎপরতা চালাচ্ছেন বলেও জানায় আমার ভাই। গ্রামের চোর আসার সংবাদ শুনে আমরা অন্যদের মতো ঘরের বাইরে যাই। রাত পৌনে ১২টার দিকে এসে আমরা ভাত খেতে বসি রান্নাঘরে। এরপর কয়েকজন টিউবওয়েল থেকে সরাসরি পানি পান করে।
টিউবওয়েল থেকে পানি পান করার পাঁচ মিনিটের মধ্যেই আমিনুর রহমান চৌধুরী অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করেন। রান্নাঘরে রাতের খাবার খাওয়া আরো কয়েকজন একই ধরনের আাচরণ শুরু করে। শিশুরা উপর্যুপরি বমি করে। গুরুতর অসুস্থ পড়েন সকলে। এ অবস্থায় তাদেরকে স্থানীয় মোস্তাননগর স্বাস্থ্য কমপ্লেঙে নিয়ে যাওয়া হলে তাদেরকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দেন কর্তব্যরত ডাক্তাররা।
পরে সোমবার দিনগত রাত সাড়ে ৩ টার দিকে চমেক হাসপাতালে তাদেরকে ভর্তি করা হয়। ডাক্তাররা জানান, শিশুরা কয়েক দফা বমি করার কারণে পেটের ভেতরে থাকা বিষাক্ত দ্রব্য বের হয়ে গেছে।
এদিকে বয়স্করা এখনো অসংলগ্ন কথাবার্তা বলছেন।
এ বিষয়ে কথা বললে সাইদুর রহমান চৌধুরী জানান, চোর চক্র আমাদের দুই পরিবারের রান্নাঘর ও টিউবওয়েলে বিষাক্ত স্প্রে করেছে বলে ধারনা করছি। তা না হলে এ ধরনের কিভাবে হতে পারে?
স্থানীয় কোম্পানিগঞ্জ জেলার কবিরহাট এলাকার একজনকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে।
এ বিষয়ে জোরারগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ মফিজ উদ্দিন ভুইঁয়া জানান, ঘটনার বিষয়ে আমরা তদন্ত করে ব্যবস্থা নিচ্ছি। ঠিক কি কারনে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে তা খতিয়ে দেখছি।
এদিকে চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়িতে দায়িত্বরত হামিদুর রহমান বলেন, সোমবার দিনগত গভীর রাতে আহত ৯ জনকে চমেক হাসাপাতালে আনা হয়। এর মধ্যে শিশুরা আশংকামুক্ত হলেও বয়স্কদের অবস্থা এখনো স্বাভাবিক নয়।

x