চিকেন পক্স বা জলবসন্ত

ছোঁয়াচে চর্মরোগ

ডাঃ প্রীতীশ বড়ুয়া

শনিবার , ১৬ মার্চ, ২০১৯ at ১০:৪৯ পূর্বাহ্ণ
229

সাধারণত বছরের এই সময়টাতে চিকেন পক্স বা জলবসন্তের প্রকোপ বেশি দেখা যায়। জলবসন্ত বা চিকেন পক্স এর ডাক্তারী নাম- ভেরিসেলা। এক জাতীয় ভাইরাস- ভেরিসেলা জোস্টার এই রোগের দায়ি জীবাণু। মারাত্মক ছোঁয়াচে এই ভাইরাস সরাসরি রোগযুক্ত চর্মের স্পর্শে কিংবা নিঃশ্বাস প্রশ্বাশের মাধ্যমে দেহ থেকে অন্য দেহে সংক্রমিত হয়। প্রাথমিক আক্রমণের পর মানব দেহে এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে উঠে। তাই সাধারণত একবার আক্রান্ত হলে পরবর্তীতে আর পক্স হয় না। তবে এই ভাইরাসটি মানবদেহের স্নায়ুতন্ত্রে দীর্ঘদিন সুপ্ত অবস্থায় থাকে এবং সুযোগ বুঝে ত্বকের কিছু অঞ্চলে হারপিস জোস্টার নামক একটি চর্মরোগ উৎপন্ন করতে পারে। চিকেন পক্স সাধারণতঃ শিশু কিশোরদের রোগ তবে বয়স্কদেরও হতে পারে।
ভাইরাস সংক্রমিত হবার ৭-২১ দিনের মধ্যে মানবদেহে লক্ষণ উপসর্গ প্রকাশ পেতে থাকে। জ্বর, মাথাব্যথা ও শরীর ম্যাজ ম্যাজ করার পাশাপাশি ত্বকে ছোট ছোট দানা বা গুটি উঠতে থাকে। এইগুলি পরবর্তিতে ফুসকুড়ির আকার নেয় এবং একদিনের মধ্যে পুঁজ ভর্তি হয়ে যায়। পুঁজ যুক্ত গুটিগুলিতে বেশ ব্যথা থাকে। নুতন দানা বা গুটি উঠা বন্ধ হলে জ্বর কমতে থাকে। পুঁজযুক্ত গুটিগুলি ফেটে যায় কিংবা শুকিয়ে খোসায় পরিণত হয়। এই খোসা পরবর্তীতে ত্বকে সামান্য গর্ত বা দাগ রেখে ঝরে পরে যায়। চিকেন পক্স রোগটির স্থায়িত্ব সাধারণতঃ ৭-১২ দিন কিন্তু সংক্রমণ ক্ষমতা গুটি উঠার ২/৩ দিন আগে থেকে খোসা ঝরা পর্যন্ত থাকতে পারে। রোগটিতে মাঝারী থেকে তীব্র চুলকানি থাকে। শিশুদের ক্ষেত্রে এই রোগের কষ্ট মাত্রা বড়দের থেকে কম থাকে। এমনিতে এই রোগের জটিলতা তেমন একটা দেখা যায়না। কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া, এনকেফেলাইটিস, ইমিউনো-কমেপ্রামাইজড রোগিদের বিস্তৃত প্রদাহ বা এসপিরিন জাতীয় ঔষধ খাবার ফলে রেয়ি ডিজিজ ইত্যাদি এবং গর্ভকালীন সময়ে জটিলতা দেখা দিতে পারে।
চিকেন পক্স বা জলবসন্ত প্রতিরোধের জন্য আজকাল টিকা পাওয়া যায়- যা শত ভাগ না হলেও বেশ কার্যকরী। পাশাপাশি আক্রান্ত রোগিদের সংষ্পর্শ এড়িয়ে চলা উচিৎ। আক্রান্ত রোগিদের নিজেদেরই স্কুল কলেজ বা জনসমাগম থেকে দূরে থাকা দরকার। প্রতিকারক চিকিৎসায়- গুটিগুলিতে ক্যালামিন লোশন বা জেনশন ভায়োলেট লাগানো যেতে পারে। অনেক সময় ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ প্রতিহত করার উদ্দেশ্যে মুখে খাবার এন্টিবায়টিক দেওয়া হয়।
এছাড়া জ্বর, ব্যথা বা চুলকানির জন্য লক্ষণ ভিত্তিক প্যারাসিটামল, এন্টি-হিস্টামিন ইত্যাদি দেওয়া যেতে পারে। সুপথ্য ও বেশি পানি পানের উপদেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি ব্যক্তিগত পরিছন্নতা ও স্বাস্থ্য সম্মত পরিবেশ রক্ষা করা জরুরি।
যদিও রোগ নিয়ে ভয়ের তেমন কারণ নাই তবে জটিলতা অনুধাবনের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া দরকার। পক্স পরবর্তী দাগ গুলি ধীরে ধীরে মিলিয়ে গেলেও গভীর গর্ত গুলির জন্য সার্জারী প্রয়োজন হতে পারে। দাগ দূর করার জন্য অনেকে ডাবের পানি ব্যবহার করেন কিন্তু এটির বৈজ্ঞানিক ভিত্তি প্রমাণিত নয়।

x