চায়ে ফিরছে সুদিন

৯ কোটি টন ছুঁয়েছে উৎপাদন 

হাসান আকবর

বুধবার , ১১ ডিসেম্বর, ২০১৯ at ৪:২৯ পূর্বাহ্ণ

চা উৎপাদনে রেকর্ড সৃষ্টি করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। চলতি বছরের বেশ কয়েকদিন বাকি থাকলেও ইতোমধ্যে চা উৎপাদন ৯ কোটি টন ছুঁয়েছে। গত বছর দেশে চা উৎপাদন হয়েছিল ৮ কোটি ২১ লাখ কেজি। এ ধারা অব্যাহত থাকলে চা আর আমদানি করতে হবে না। বাংলাদেশ আবারো রপ্তানিকারক দেশের কাতারে প্রথম দিকে ঠাঁই পাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ চা বোর্ড এবং চা শিল্পের সাথে জড়িত ব্যবসায়ী সূত্র জানিয়েছে, একসময় বিশ্বের অন্যতম চা রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে খ্যাত বাংলাদেশ ক্রমে আমদানিকারক দেশে পরিণত হয়। কয়েক বছর ধরে ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, শ্রীলংকা ও ভারতসহ নানা দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ চা পাতা আমদানি করে চাহিদা মেটানো হয়। ২০১০ সালের আগে চা রপ্তানি এক কোটি কেজির বেশি থাকলেও ওই বছর থেকে রপ্তানি কমতে শুরু করে। একই সাথে বাড়তে থাকে আমদানি।

২০১০ সালে ২৯ লাখ ৭০ হাজার ৩২২ কেজি এবং ২০১২ সালে ১৯ লাখ ৯০ হাজার ৩৯৫ কেজি চা আমদানি করা হয়। প্রতি বছরই বেড়েছে আমদানির পরিমাণ। একইসাথে রপ্তানি কমতে কমতে ক্রমে শূন্যের কোটায় নেমে আসছে বলে চা বোর্ড সূত্র জানিয়েছে।

বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউটের হিসাবে, দেশে এখন ১৬৬টি চা বাগান রয়েছে। এর মধ্যে মৌলভীবাজারে ৯০টি, হবিগঞ্জে ২৩টি, চট্টগ্রামে ২২টি, সিলেটে ১৯টি, পঞ্চগড়ে ৭টি এবং রাঙামাটি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একটি করে বাগান রয়েছে। চা বাগানগুলোর মোট

আয়তন ১ লাখ ১৬ হাজার হেক্টর। কিন্তু এর মাত্র ৪৭ শতাংশ জমিতে চা চাষ হয়। ৬২ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে চাষ হয় না।

চা সেক্টরের বেহাল দশায় সরকার পৃষ্ঠপোষকতা দিতে শুরু করে। ব্যাংক ঋণসহ নানাভাবে সহায়তা দেওয়া হয়। সরকারি সহায়তায় মালিকেরা বাগান সম্প্রসারণ করেন। এতে বাগানের আকার ও গাছের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। বৃদ্ধি পায় উৎপাদন। এর সাথে অনুকূল আবহাওয়ায় চায়ের উৎপাদন প্রত্যাশা স্পর্শ করছে। চলতি বছর দেশে চা উৎপাদন ৯ কোটি টন ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এতে করে পুনরায় রপ্তানিকারক দেশের মধ্যে ভালো অবস্থানে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

২০১৬ সালে রেকর্ড পরিমাণ চা পাতা উৎপাদিত হয়। ওই বছর ৮ কোটি ৫৫ লাখ কেজি চা পাতা উৎপাদিত হয়। তবুও আমদানি করতে হয় ৭৭ লাখ কেজি চা। ২০১৬ সালে ৪ লাখ ৭০ হাজার কেজি চা রপ্তানি করা হয়েছিল। কিন্তু ২০১৭ সালে চা উৎপাদন কমে যায়। ওই বছর ৭ কোটি ৮৯ লাখ কেজি চা পাতা উৎপাদন হয়। প্রায় ৯০ লাখ কেজি চা পাতা আমদানি করে চাহিদা মেটানো হয়। ২০১৮ সালে চা পাতা উৎপাদন হয়েছিল ৮ কোটি ২১ লাখ ৩০ হাজার কেজি। অথচ চাহিদা ছিল ৯ কোটি কেজির বেশি। তাই আমদানি করে চাহিদা মেটাতে হয়। চলতি বছর উৎপাদন বাড়ায় আশার সঞ্চার হয়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন বাগানের অব্যবহৃত অংশে চা চাষ এবং চমৎকার আবহাওয়া চা উৎপাদনে নতুন রেকর্ড তৈরি করছে।

বাংলাদেশ চা বোর্ডের একজন কর্মকর্তা বলেন, বেশ কয়েক বছর পর অভ্যন্তরীণ উৎপাদন দিয়ে চাহিদা মেটানোর পর্যায়ে উন্নীত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। চলতি বছর চা উৎপাদন আগের বছরের তুলনায় ২০ শতাংশের বেশি হয়েছে বলে জানান অপর একজন কর্মকর্তা।

x