‘চাহিদা পত্র ছাড়া জখম সনদ নয়’

পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্স

সোমবার , ১৪ অক্টোবর, ২০১৯ at ৩:৫৫ পূর্বাহ্ণ
27

আদালত বা পুলিশের চাহিদা পত্র ছাড়া জখম সনদ না দিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রামের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরা। গত শনিবার বিকেলে চট্টগ্রামের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্সে’ এ আহ্বান জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কামরুন নাহার রুমী বলেন, তদন্তকালে আসামির নাম ঠিকানা ও বয়স সঠিকভাবে যাচাই হওয়া উচিত। গতানুগতিকভাবে এফআইআর/এজাহার অনুসরণে চার্জশিট দাখিল হলে আসামির বিরুদ্ধে ইস্যু করা হুলিয়া ও ক্রোকি পরোয়ানা জারির ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা যায়। আবার চার্জশিটের সাথে সম্পত্তির তালিকা থাকা প্রয়োজন। এতে ক্রোক আদেশ তামিলে সুবিধা হয়। চার্জশিটের পেছনের পাতায় অভিযুক্ত ব্যক্তির আগের দেয়া পরিচয় সম্পর্কে তদন্তকারী কর্মকর্তার আরো সচেতন হওয়া উচিত। তিনি আরো বলেন, মামলার অজ্ঞাতনামা আসামির ক্ষেত্রে আসামি গ্রেপ্তার হলে আদালতে প্রেরণের সময় ফরোয়ার্ডিংয়ে গতানুগতিক বক্তব্যের পরিবর্তে বস্তুনিষ্ট ও সুনির্দিষ্ট বর্ণনা থাকা উচিত। মামলায় জব্দ তালিকা দ্রুত প্রেরণ করা প্রয়োজন। মাদক মামলার ক্ষেত্রে জব্দকৃত মাদকের পরিমাণ এবং জব্দকৃত মাদকের মূল উপাদানও উল্লেখ করা আবশ্যক।
সিভিল সার্জন ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালককে উদ্দেশ্যে করে কামরুন নাহার রুমী বলেন, আদালত এবং তদন্তকারী কর্মকর্তার চাহিদাপত্র ছাড়া কোনো ধরনের জখমি সনদ প্রদান করা যাবে না। চাহিদাপত্র পাওয়ার পর যথাসম্ভব দ্রুততার সাথে জখমি সনদ সরবরাহ করতে হবে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, রাসায়নিক পরীক্ষা ও ভিসেরা প্রতিবেদন যথাসময়ে দাখিলে অধিক যত্নবান হতে হবে।
পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতি চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, রেকর্ডিং অফিসার ও তদন্তকারী কর্মকর্তাকে আইনের নাম ও ধারা লেখার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের পরিচিতি নম্বর চার্জশিটে উল্লেখ করা প্রয়োজন। সম্ভব হলে পুলিশ প্রতিবেদনে তদন্তকারী কর্মকর্তার সরকারি অথবা ব্যক্তিগত নাম্বার উল্লেখ করা যেতে পারে। এতে সাক্ষী হিসেবে সমন দেওয়া ও জারির ক্ষেত্রে সুবিধা হবে। বড় বা জটিল মামলার ক্ষেত্রে পাবলিক প্রসিকিউটরের মতামত গ্রহণ করতে পারেন। এসময় পুলিশ কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে কিছু সমস্যার কথা তুলে ধরেন। এসব সমস্যা থেকে উত্তরণে আইনগত ব্যাখ্যা দেন চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট।
কামরুন নাহার রুমীর সভাপতিত্বে সম্মেলনে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরা ছাড়াও চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার নুরেআলম মিনা, চট্টগ্রাম রেলওয়ে জেলার পুলিশ সুপার নওরোজ হাসান তালুকদার, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ গোলাম মাওলা, র‌্যাব-৭-এর সহকারী পরিচালক খাইরুল ইসলাম এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারাসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তির।

x