চামড়াশিল্প রক্ষায় ব্লু লেদার রপ্তানির দাবি

শুক্রবার , ২৩ আগস্ট, ২০১৯ at ৪:৪৯ পূর্বাহ্ণ
62

চামড়াশিল্প রক্ষায় এখনই সরকারের পদক্ষেপ নিতে হবে। আর এক্ষেত্রে ওয়েট-ব্লু লেদার বা আংশিক প্রক্রিয়াজাত চামড়া রপ্তানি এখন সময়ের দাবি বলে জানিয়েছেন চামড়া ব্যবসার সঙ্গে জড়িতরা। তাদের দাবি, পাটশিল্পের মতো চামড়াশিল্প যাতে ধ্বংস না হয় এজন্য ব্লু লেদার রপ্তানির কোনো বিকল্প নেই।
গতকাল বৃহস্পতিবার লালবাগ পোস্তার সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা সরকারের কাছে এ দাবি জানান। তারা জানান, ফিনিশড লেদার বা প্রক্রিয়াজাত চামড়া রপ্তানির পাশাপাশি ব্লু লেদার (রাসায়নিক দিয়ে চামড়াকে পশম ও ঝিল্লিমুক্ত করা) রপ্তানি ব্যবস্থা করতে হবে। এতে প্রচুর বায়ার ইউরোপ থেকে আমাদের দেশে আসবে এবং চামড়ার সুদিন ফিরবে। খবর বাংলানিউজের।
এ ব্যাপারে মাদার হাই অ্যান্ড স্কিনের হাজি ইলিয়াস বলেন, ব্লু চামড়া রপ্তানির কোনো বিকল্প নেই। আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি, তারা ব্লু চামড়া রপ্তানি করতে ট্যানারি মালিকসহ সংশ্লিষ্টদের অনুমতি দিক। এতে চামড়ার ব্যবসায় সুদিন ফিরে আসবে।
তিনি আরো বলেন, ১৯৯০ সালের আগে বিদেশে বিশেষ করে ইউরোপে প্রচুর ব্লু চামড়া রপ্তানি হতো। তখন অসংখ্য ইউরোপিয়ান বায়ার আমাদের দেশে আসত চামড়া নিতে। কিন্তু ৯০ সালে এরশাদ সরকার চামড়া রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ায় বিদেশি বায়াররা আসছেন না। সে সময় তারা ব্লু চামড়া কম দামে নিতে পারত এবং আর্টিকেলটা তাদের মতো করে তৈরি করতে পারত। এজন্য ব্লু চামড়া চাহিদাটা ব্যাপক ছিল বলে জানান তিনি।
এবার কোরবানির ঈদে কাঁচা চামড়ার দরে সবচেয়ে বেশি বিপর্যয় নেমে আসার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, টাকার সমস্যার কারণে এমনটি হয়েছে। গত পাঁচ বছর ট্যানারি মালিকরা আমাদের টাকা দিচ্ছেন না। কাগজে-কলমে পাওনা আছে। অথচ ২০১৫ সালের পর থেকে তাদের কাছ থেকে কোনো টাকা পাইনি। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, চামড়া যতটুকু পচেছে আরো পচা দরকার ছিল। তাহলে ট্যানারি মালিকদের টনক নড়ত। তারা আমাদের পাওনা না দিয়ে কোরবানির দিন রক্তমাখা চামড়া কিনেছেন।
ইলিয়াস বলেন, চামড়ার দাম কোনো বিষয় না। টাকা না থাকলে দাম দিয়ে কী হবে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে যেসব ব্যাপারী আমাদের চামড়া দেন, টাকার অভাবে তারাও কোনো মাল দিতে পারেননি। যেসব ব্যাপারী প্রতি ঈদে ১০ থেকে ১২ হাজার চামড়া দিতেন তারা এবছর ৫শ থেকে এক হাজার চামড়া কিনেছেন। টাকার অভাবে চামড়া কিনতে পারেননি। তাই চামড়া রপ্তানির সুযোগ থাকলে ব্যবসায়ীদের কাছে টাকা থাকত, তারা প্রচুর চামড়া কিনতে পারতেন। ব্‌্লু চামড়া রপ্তানি শুরু হলে অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজি বন্ধ হয়ে যাবে। চাইলেও তারা চামড়া নিয়ে কারসাজি করতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন আনোয়ার অ্যান্ড সন্সের মো. আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, এই শিল্প রক্ষার্থে এখনই ব্লু চামড়া রপ্তানির করা প্রয়োজন।

x