চান্দগাঁও থেকে অস্ত্রসহ ২ জনসংহতি কর্মী গ্রেপ্তার

আজাদী অনলাইন

রবিবার , ৩ মার্চ, ২০১৯ at ৬:৩৩ অপরাহ্ণ
190

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস-এমএন লারমা)-এর অনুসারী অংশের দুই কর্মীকে নগরী থেকে অস্ত্র ‍ও গুলিসহ গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

আজ রবিবার (৩ মার্চ) সকালে নগরীর চান্দগাঁও থানার সিঅ্যান্ডবি টেক বাজারের একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (উত্তর) মিজানুর রহমান জানিয়েছেন।

গ্রেপ্তার দুজন হলেন রাঙামাটি সদরের চিররতী চাকমা (২৩) ও খাগড়াছড়ি গুঁইমারার মিন্টু চাকমা (২৭)। বিডিনিউজ

পুলিশ কর্মকর্তা মিজানুর বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিঅ্যান্ডবি টেক বাজারের ওই বাসায় অভিযান চালাই আমরা। এ সময় সেখান থেকে একটি কাটা রাইফেল, একটি পিস্তল ও পাঁচ রাউন্ড রাইফেলের গুলি উদ্ধার করা হয়।‘

অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মিজানুর আরো বলেন, ‘গ্রেপ্তার দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তারা বলেছে, চট্টগ্রামে থেকে তারা সংগঠনের কাজ চালিয়ে আসছিল।’

এর আগে গত ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে বায়েজিদ বোস্তামী থানার ড্রাইভার কলোনি এলাকার বেমকো মিটার ফ্যাক্টরির সামনে একটি অটোরিকশা তল্লাশি করে দুটি এলজি ও দুই রাউন্ড কার্তুজসহ পলাশ কুসুম চাকমা ও ইন্দ্ররাজ চাকমা নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তারাও নিজেদের পাহাড়ি সংগঠন জেএসএস-এমএন লারমা’র কর্মী বলে দাবি করেছিলেন।

পাহাড়িদের অধিকার আদায়ে ১৯৭২ সালে মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার (এমএন লারমা) নেতৃত্বে গঠিত হয় পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস)। পরের বছর তাদের সামরিক শাখা শান্তি হিনী গঠিত হলে পার্বত্য জেলাগুলোতে শুরু হয় সহিংসতা।

চার দশকের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে শান্তি চুক্তি করে জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমার (সন্তু লারমা) নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতি। এর মধ্যে দিয়ে তাদের সশস্ত্র সংগ্রামের অবসান ঘটে।

কিন্তু পার্বত্য শান্তি চুক্তির বিরোধিতা করে পরের বছরই জনসংহতি সমিতি ভেঙে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) নামে নতুন দল গড়েন প্রসীত বিকাশ খীসা।

শান্তি চুক্তির এক দশকের মাথায় জনসংহতি সমিতি আরেক দফা ভেঙে সুধাসিন্দু খীসার নেতৃত্বে দলের সংস্কারপন্থিদের নিয়ে গঠিত হয় পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (এমএন লারমা)।

এর পর থেকে জনসংহতি সমিতির এই দুটি অংশের মধ্যে প্রায়ই সংঘাত ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে।

x