চাটগাঁ ফিরে ভালোবাসায় সিক্ত যুব টাইগার দিপু

ক্রীড়া প্রতিবেদক

শুক্রবার , ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ at ৪:৫৩ পূর্বাহ্ণ
460

বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে সে খবরটি এখন অনেকটাই পুরানো। বিশ্ব জয়ের তিনদিন পর জুনিয়র টাইগাররা ফিরেছেন দেশে। গত বুধবার ঢাকায় বিমানবন্দরে এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয় বিশ্বজয়ী টাইগার যুবাদের। ঢাকায় সংবর্ধনা শেষে দলের যে সব ক্রিকেটার ঢাকার বাইরে থাকেন তারা ফিরেছেন স্ব স্ব জেলায়। গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামে ফিরেছেন শাহাদাত হোসেন দিপু। আর নিজ শহরে ফিরেই শাহাদাত হোসেন দিপু সিক্ত হয়েছেন এলাকার মানুষের ভালোবাসায়। কেউ গলায় পরিয়ে দিয়েছেন ফুলের মালা আর কেউবা খাইয়ে দিয়েছেন মিষ্টি। কেউ কেউ ব্যস্ত হয়ে পড়েন তার সাথে একটা ছবি তুলতে। কেউ চাইছে একটু জড়িয়ে ধরতে। এ যেন অন্যরকম এক দৃশ্য। ক্রিকেটারদের প্রতি এ যেন ক্রিকেট প্রেমীদের ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ। গতকাল দুপুরে নগরীর শুলকবহর এলাকার বাসায় ফেরার সময় এলাকায় দারুন আনন্দঘন এক দৃশ্যের অবতারণা হয়।
পটিয়ার হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের চরকানাই গ্রামে বাড়ি হলেও বাবা চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চাকরির সুবাদে তাদের পুরো পরিবার ১৯৮৩ সাল থেকে আছেন নগরীর শুলকবহর এলাকায়। তাই দিপু গতকাল ফিরেছেন সে বাসায়। দিপু আসছেন খবর পেয়ে পাড়া প্রতিবেশীদের পাশাপাশি এলাকার লোকজন ভীড় জমায় দিপুর বাসার সামনে। সেখানে উপস্থিত সংবাদকর্মীদের দীপু জানান, এবারের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে তাদের লক্ষ ছিল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার। দিপু বলেন, গত দুই বছর ধরে আমরা বেশ ভালো খেলছিলাম। আমরা বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবে ইংল্যান্ড সফর করেছি। ইংল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে খেলেছি। নিউজিল্যান্ড সফর করেছি। শ্রীলংকায় এশিয়া কাপের ফাইনাল খেলেছি। সেই ফাইনালে ৫ রানে হেরে যাওয়ার পর আামরা বিশ্বকাপটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিলাম। আর সে চ্যালেঞ্জে আমরা সফল হয়েছি। দিপু জানান, দক্ষিণ আফ্রিকার পচেফস্ট্রুমে ফাইনালে জয়ের পর বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বসিত ছিল। দলের কোচিং স্টাফ যথেষ্ট সাপোর্ট দিয়েছেন। এরকম কোচিং স্টাফ পাওয়া খুবই ভাগ্যের ব্যাপার বলেও জানালেন এই টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান। দিপু জানান, তারা খুব ভালো একটা দল হিসেবে খেলতে পেরেছিল। আর তাতেই এই সাফল্য। ক্রিকেটে দিপুর আজকের অবস্থানে আসার পেছনে তার মা ফেরদৌস বেগম, বড় ভাই আবুল হোসেন বাবু আর দুলাভাই ছিলেন সবসময় পাশে। এছাড়া পাড়ার ভাই সুদীপ্ত কুমার যিনি চট্টগ্রামের প্রিমিয়ার লিগে খেলেন তিনি দিপুকে ইস্পাহানী ক্রিকেট একাডেমিতে ভর্তি করিয়ে দেন। সবসময় তিনি সাহস ও সমর্থন দিয়ে গেছেন। দিপুর লক্ষ্য এখন সাকিব-তামিমদের মত লিজেন্ড হওয়া। হতে চান বিশ্বের এক নম্বর অল রাউন্ডার। দেশের ১০জন ব্যাটসম্যানের একজন হতে চান দিপু। দেশে ফিরে ঢাকায় ক্রিকেট বোর্ডের সংবর্ধনা আর নিজ শহরে ফিরে এলাকার মানুষের ভালবাসা পেয়ে দারুন খুশি দিপু। দেশের হয়ে আরো বড় পরিসরে ক্রিকেট খেলতে চান এখন দিপু। এবারের বিশ্বকাপটা বেশ ভালই কেটেছে দিপুর। কোয়ার্টার ফাইনালে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলেছেন ৭৪ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস। যুব বিশ্বকাপে ৬ ম্যাচে একটি হাফ সেঞ্চুরি সহ ১৩১ রান করেছেন দিপু।