চাঁদের আলোয় গল্প করার রাত

জোছনা উৎসব

লিটন কুমার চৌধুরী, সীতাকুণ্ড

সোমবার , ১৮ নভেম্বর, ২০১৯ at ৬:০৯ পূর্বাহ্ণ
5

প্রকৃতিতে কুয়াশাভেজা শীতের আমেজ। একদিকে পাহাড় অন্যদিকে সমুদ্র। সেই মনোমুগ্ধকর পরিবেশে রূপালি চাঁদের আলোয় সাজানো হয়েছে একটি আয়োজন- জোছনা উৎসব। সেখানে আকাশ থেকে মাটি অবধি চাঁদের আলো রূপালি রঙের গালিচা বিছিয়েছে আপনার আগমনে। ভরা পূর্ণিমার জোছনা দেখছেন আপনি। উপভোগ করেছেন গান, কবিতা, গ্রামীণ খেলাধুলা। রূপালি চাঁদ তখন উঁকি দিয়েছে আপনার মনের কল্পনার জানালায়। আপনাকে নিয়ে গেছে ফেলা আসা হাজারো সেই স্মৃতির দুয়ারে। মনে করিয়ে দেবে আরতি মুখোপাধ্যায়ের সেই গান-‘এই মোম জোছনায় অঙ্গ ভিজিয়ে এসো না গল্প করি।’
পর্যটন শিল্পের অপার সম্ভাবনাময় সীতাকুণ্ডের নয়নাভিরাম সৌন্দর্যকে পর্যটকদের কাছে তুলে ধরতে মাতৃভুমি সামাজিক সংগঠন জোছনা রাতে চাঁদের আলোকে সঙ্গী করে আয়োজন করেছে জোছনা উৎসবের। মাতৃভূমির সভাপতি সাইফুর রহমান শাকিলের উদ্যোগে এই উৎসব যেন সীতাকুণ্ড পৌরবাসীর মননে প্রাণের স্পন্দন ফিরে এসেছে।
গত ২৩ নভেম্বর সীতাকুণ্ড পৌরসদরে ডেবার পাড়ে ফানুস উত্তোলনের মধ্য দিয়ে জোছনা উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ সদস্য আ.ম.ম দিলশাদ। মাতৃভূমির সাধারণ সম্পাদক শিপলু দাশের সঞ্চালনায় রাত ৭টার দিকে অনুশ্রী-তনুশ্রী নৃত্যের মধ্য দিয়ে শুরু হয় জোছনা উৎসবের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এরপর চলে পলাশ বণিকের মনোমুগ্ধকর গান। কবিতার চরণে চাঁদের আলোয় জোছনা উৎসবে অভিমত ব্যক্ত করেন গল্পকার ও লেখক দেবাশিস ভট্টাচার্য। চলে গ্রামীণ খেলাধুলার ঐতিহ্যবাহী চেয়ার খেলা, মোরগের লড়াই এবং ফুসকা খাওয়া প্রতিযোগিতা। এরপর মাতৃভূমির সভাপতি সাইফুর রহমান শাকিলের উপস্থাপনায় জোছনা রাতে পুরোনো দিনের স্মৃতিচারণ করেন স্কাউট সীতাকুণ্ড কমিশনার জাহাঙ্গীর ভুঁইয়া, সীতাকুণ্ড প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক লিটন কুমার চৌধুরী, সমাজসেবক মো. খালেদ মোশাররফ, সংগঠক আজমল হোসেন হিরু। জোছনা উৎসবের উদ্যোক্তা সাইফুর রহমান শাকিল বলেন, শহুরে সভ্যতায় আমরা পেয়েছি অনেক, একই সঙ্গে হারানোর তালিকাও কম নয়। নাগরিক ব্যস্ততায় আমরা হারিয়েছি শ্রাবণের জলে সর্বাঙ্গ ভেজানোর সুযোগ। হারিয়েছি শরতের শিশিরে নগ্ন পায়ে হাঁটার সময়। হারিয়েছি রূপালী নদীতে হৈমন্তির পূর্ণিমায় জলজোছনায় অবগাহনের রোমাঞ্চকর অনুভূতি। সেইসব হারানো সময়, সুযোগ আর স্মৃতির কথা ভেবেই সীতাকুণ্ডে সূচনা হয়েছে জোছনা উৎসবের।
তিনি আরও বলেন, সীতাকুণ্ডের মানুষ উৎসবপ্রিয়। জোছনা উৎসবের মত একটি উৎসবকে দেশি ও বিদেশি পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় করে প্রচার করা গেলে প্রতিবছর এখানে পর্যটকদের ভিড় বাড়বে। আর এভাবেই এগিয়ে যাবে সীতাকুণ্ড। এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ। গল্পকার ও লেখক দেবাশিস ভট্টাচার্য বলেন, রাতের আকাশ। কোথাও কোনো মেঘ নেই, ছায়া নেই। মস্ত বড় একটা চাঁদ উঠেছে। ভরা পূর্ণিমার চাঁদ। আকাশ থেকে জোছনা গলে গলে মাটিতে পড়ছে। চারদিক আলোয় ঝলমল করছে। এমন আবহে কার ভালো লাগবে না বলুন!

x