চবিতে মোবাইল গেম অ্যান্ড অ্যাপস ডেভেলপমেন্ট টেস্টিং ল্যাব

আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল, চবি

বৃহস্পতিবার , ১৪ নভেম্বর, ২০১৯ at ৪:২২ পূর্বাহ্ণ
17

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে চালু হতে যাচ্ছে মোবাইল গেম এন্ড এ্যাপস ডেভেলপমেন্ট টেস্টিং ল্যাব। সরকারের আইসিটি সেক্টরের বাজেটে প্রায় ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ল্যাবটি প্রতিষ্ঠিত হয়। বিভাগটির নির্ধারিত ৫০১ কক্ষে ইতোমধ্যে ল্যাবটি চালুর সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
আগামী রোববার বিকেলে তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমদ পলক ল্যাবটি উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। এর আগে বিকেল ৩টার দিকে ক্যাম্পাসে এসে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতারের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন তিনি। পরে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের জামাল নজরুল রিচার্স সেন্টারের পার্শ্ববর্তী প্রায় ১০০ একর জায়গায় নির্মিতব্য হাইটেক পার্কের জন্য বরাদ্দকৃত ভূমি পরিদর্শনে যাবেন।
ল্যাব সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো বিভাগের শিক্ষার্থীরা ল্যাবটি ব্যবহারের সুযোগ পাবে। তবে তাদেরকে অবশ্যই গেম টেস্টিং এন্ড এ্যাপস ডেভেলপমেন্টের সাথে জড়িত থাকতে হবে। ল্যাবটিতে ইতোমধ্যে ১০টি উন্নত মানের কম্পিউটার, প্রিন্টার, কয়েকটি প্রজেক্টর ও মোবাইল কিট ছাড়াও রয়েছে আগুন নির্বাপক যন্ত্র।
এ বিষয়ে কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান ও বিশ্ববিদ্যালয় আইসিটি সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. হানিফ সিদ্দিকী আজাদীকে বলেন, ল্যাবটি চালুর জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। উদ্বোধনের পর থেকে পুরোদমে শিক্ষার্থীদের জন্য ল্যাবটি উন্মুক্ত করে দেয়া হবে। আশা করছি, এ ল্যাবের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের আইটি দক্ষতাকে আরও যুগোপযোগী পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারবে।
হাইটেক পার্ককে ঘিরে যত সম্ভাবনা: এদিকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০০ একর জায়গায় নির্মিতব্য হাইটেক পার্ককে ঘিরে তৈরি হচ্ছে নানা সম্ভাবনা। পার্কটি হলে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাই সবচেয়ে বেশি লাভবান হবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা পার্কটির সাথে সরাসরি যুক্ত হয়ে আইডিয়া ডেভেলপ করা ছাড়াও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুযোগ পাবেন।
প্রজেক্ট সূত্রে জানা যায়, চবির হাইটেক পার্কটিতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের কারখানাসহ অফিস বরাদ্দ নেবে। যার মধ্যে গুগল, ফেসবুকসহ বিশ্বের নামকরা প্রতিষ্ঠানগুলো থাকার কথা রয়েছে। ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে হাইটেক পার্ক নিয়মিত আয় করবে। সেই আয়ের অংশ সরকারের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ও পাবে। এদিকে পার্কটিতে আসা প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের সাথে যৌথভাবে কাজ করবে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ওইসকল প্রতিষ্ঠানের গবেষণা কর্ম ছাড়াও বিভিন্ন সেক্টরের সাথেও যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে। ইনকিউবেটরের মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের নার্সিং করা হবে জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির হাইটেক পার্কের লিয়াজোঁ অফিসার অধ্যাপক ড. হানিফ সিদ্দিকী আজাদীকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীরা এর মাধ্যমে উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ পাবে। আশা করছি, হাইটেকটির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকেই কেউ কেউ নলেজ বেইজড সোসাইটি ও বিভিন্ন বড় বড় ইন্ডাস্ট্রির কর্ণধার হবে। আর এসব মেধাবীদেরকে গড়ে তুলতে হাইটেকের ইনকিউবেটর সকল সুযোগ-সুবিধা প্রদান করবে।’

x