চবিতে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক

ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে ফের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, প্রক্টর-পুলিশের ৬ গাড়ি ভাঙচুর

চবি প্রতিনিধি

সোমবার , ২ ডিসেম্বর, ২০১৯ at ৬:২৫ পূর্বাহ্ণ
264

দুই নেতাকে মারধরের জেরে আবারো ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় জড়িয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের দুটি গ্রুপ ভিএক্স ও সিএফসি। গতকাল রোবিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আমানত ও সোহরাওয়ার্দী হলের সামনে এ ঘটনার সূত্রপাত ঘটে। তুচ্ছ ঘটনায় গত তিনদিন ধরেই তাদের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘাতময় পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সিএফসি নিয়ন্ত্রিত শাহ আমানত হলে চার রাউন্ড টিয়ারশেল ও জলকামান ব্যবহার করেছে পুলিশ। দুই পক্ষে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার সময় জিরো পয়েন্টে থাকা পুলিশের পাঁচটি ও প্রক্টরের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। এছাড়া জিরো পয়েন্টে অবস্থিত ওয়াচ টাওয়ারও ভাঙচুর করা হয়। এসময় রহস্যজনকভাবে লোডশেডিংও দেখা দেয়। ভাঙচুরের পরপরই ইলেক্ট্রিসিটি ফিরে আসে।
জানা যায়, সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ১১মাইল এলাকায় সিএফসির নেতা ও শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি নাসির উদ্দিন সুমন ও আবদুল্লাহ আল নাহিয়ান রাফিকে এলোপাতাড়ি মারধর করে ভিএক্সের কর্মীরা। এ ঘটনার রেশ ধরেই দু’পক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে যায়।
অন্যদিকে দুই নেতার ওপর হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে শাখা ছাত্রলীগের একাংশ সিএফসি গ্রুপ। রাত পৌনে ৮টার দিকে আজাদীকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিএফসি নেতা ও শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি আল-আমিন রিমন।
তিনি বলেন, আমাদের দুই ভাইকে মারধরের ঘটনায় ভিএক্সের মিজানুর রহমান বিপুল ও প্রদীপ চক্রবর্তী দুর্জয় জড়িত। এ ঘটনায় প্রত্যক্ষ মদদ দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক সিরাজ উদ দৌল্লাহ। তাদের বহিষ্কার ও পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমাদের ধর্মঘট চলবে। তবে ওই দুই নেতাকে মারধরে ভিএক্সের কেউ জড়িত নয় দাবি করে পক্ষটির নেতা ও শাখা ছাত্রলীগের সাবেক উপ-দপ্তর সম্পাদক মিজানুর রহমান বিপুল আজাদীকে বলেন, ঘটনাটি ক্যাম্পাসের বাহিরে ঘটেছে। এখানে আমাদের কেউ জড়িত নয়। কে বা কারা মেরেছে তার দায়-দায়িত্ব আমাদের নয়। তবে কেউ যদি প্রমাণ দিতে পারে তাহলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন, এর আগের ঘটনায় আমাদের বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হন। একটি মামলা করা হলেও এখনো কাউকে আটক করা হয়নি। এ জন্য ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়েছিলাম। তবে কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় আবারো ১২ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিচ্ছি। এর মধ্যে রেজাউল হক রুবেলকে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কারসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তবে এ বিষয়ে বার বার যোগাযোগ করেও শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হক রুবেলের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে নিরাপত্তাজনিত কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে চলাচলকারী রাতের শাটল ট্রেন বন্ধ করে দেয়া হয়। বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন ষোলশহর রেল জংশনের স্টেশন মাস্টার তন্ময় চৌধুরী।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের (উত্তর) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মশিউদ্দৌলা রেজা সাংবাদিকদের বলেন, শাখা ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ চার রাউন্ড টিয়ারশেল ও জলকামান ব্যবহার করে। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়সহ পুলিশের ছয়টি গাড়িও ভাঙচুর করে দুষ্কৃতিকারীরা। জড়িতদের গ্রেফতার করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

x