চন্দনাইশে কামারশিল্পীদের দিন-রাত ব্যস্ততা

চন্দনাইশ প্রতিনিধি

বুধবার , ৭ আগস্ট, ২০১৯ at ৬:১৫ অপরাহ্ণ
54

পবিত্র ঈদুল আযহা অর্থাৎ কোরবানির ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে ততই ব্যস্ততা বাড়ছে সকল শ্রেণী-পেশার মানুষের মধ্যে। কোরবানির পশু কেনা থেকে শুরু করে গৃহস্থালী অন্যান্য কাজের পাশাপাশি পশু জবাই ও মাংস কাটার দা, ছুরি, বটি, চাপাতি, ধামা-দা তৈরি ও পুরনো দা, ছুরিতে নতুন করে শান দেয়ার কাজও সেরে নিচ্ছেন গৃহকর্তারা।

ফলে ব্যস্ততা বেড়েছে চন্দনাইশ উপজেলার বিভিন্ন কামারশিল্পীদের। এখন পুরোদিন ব্যস্ততার মাঝেও গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করতে হচ্ছে তাদের। সারাবছর কাজ না থাকলেও কোরবানিতে নতুন দা, ছুরি, চাপাতি, বটি, চাকু তৈরির পাশাপাশি উপজেলার প্রতিটি পরিবারের পুরনো দা, ছুরি, বটি, চাপাতি, চাকুতে শান দিতে ভিড় বাড়ছে কামারপল্লীতে। আবার কেউ কেউ এসব যন্ত্রপাতি কিনতেও ভিড় করছে। এ সুযোগে কাজের বেশি দামও নেয়া হচ্ছে। অন্যান্য সময়ের তুলনায় দা, ছুরিতে শান দিতে গুনতে হচ্ছে দ্বিগুন টাকা।

উপজেলার দোহাজারী, দেওয়ানহাট, বাগিচাহাট, খানহাট, রওশনহাটসহ অভ্যন্তরীণ বেশ কয়েকটি বাজারে গিয়ে কামার পল্লীতে এ ব্যস্ততা দেখা যায়।

দোহাজারী পৌরসভার ভাই ভাই কর্মকারের সত্বাধিকারী সুজন বিশ্বাস জানান, পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে বেশ আগে থেকেই তাদের কাজের ব্যস্ততা বেড়েছে। এখন রাত-দিন সমান তালে কাজ করতে হচ্ছে তাদের। কোরবানির সময় অতিরিক্ত শ্রম দিতে হয় বলে শ্রমিক কর্মচারীদের মজুরিও বাড়িয়ে দিতে হয়। তাই অন্যান্য সময়ের চেয়ে কোরবানিতে দা, ছুরিতে সামান্য টাকা বাড়িয়ে নিতে হয় তাদের।

তৈরি দা, ছুরিসহ অন্যান্য মালামাল বিক্রির প্রতিষ্ঠান অনামিকা হার্ডওয়্যারের সত্বাধিকারী আশুতোষ দাশ বলেন, ‘কোরবানিতে দা, ছুরিসহ অন্যান্য উপকরণের চাহিদা অনেকটা বেড়ে যায়। আকার ও লোহার প্রকারভেদে নতুন বানানো দা, ছুরি ১০০ থেকে ১৫শ’ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।’ তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবছর বেচাবিক্রি একটু কম বলে জানালেন তিনি।

খানহাট বাজারের কামারশিল্পী অনুপম সুশীল জানান, অন্যান্য সময়ের চেয়ে কোরবানির ঈদে তাদের কাজ বেড়ে যায়। তবে বর্তমানে লোহার দাম বৃদ্ধি থাকায় অনেকেই নতুন দা, ছুরি কেনার পরিবর্তে পুরনো দা, ছুরিতে শান দিতে আসছেন। পুরনো দা, ছুরিতে শান দেয়ার চেয়ে তাদের বানানো নতুন দা, ছুরি বিক্রি করতে পারলে লাভ বেশি হয় বলেও জানান তিনি।

দোহাজারীর কামারশালায় নতুন দা, ছুরি কিনতে আসা মো. আবদুন নুর নামে এক সরকারি চাকরিজীবী জানান, কোরবানির পশু কেনা সম্পন্ন হয়েছে। এখন তিনি মাংস কেটে প্রক্রিয়াজাতকরণের প্রধান উপকরণ দা, চুরি ও বটি কিনতে এসেছেন। বিগত বছরের চেয়ে এবছর নতুন দা, ছুরির দাম একটু বেশি বলে জানালেন তিনি।

x