চট্টল গৌরব বিবেকের বাতিঘর

নেছার আহমদ

মঙ্গলবার , ১২ মার্চ, ২০১৯ at ৭:০৩ পূর্বাহ্ণ

অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদ, যিনি আপদমস্তক একজন শুভ্র মানুষ। কাজে, কর্মে, চেতনায়, চরিত্রে, চলনে বলনে শ্বেত শুভ্র। অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব। বিবেকের কন্ঠস্বর। এ কারণে তিনি শুভ্র বিবেক নামেও খ্যাত। সংবিধান, সমাজ ও রাজনীতির পরতে পরতে তাঁর সাহসী পথচলা। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পত্রিকা দৈনিক আজাদীর দীর্ঘকাল সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে পালন করেছেন কঠিন দায়িত্ব। রাজনীতিবিদ ও প্রগতিবাদী চিন্তাবিদ, অসাম্প্রদায়িক চিন্তা ও চেতনার বাতিঘর এবং জ্ঞানের মশাল অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদ পেলেন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি ও সম্মানজনক পুরস্কার ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’। মরণোত্তর এ সম্মাননায় উদ্ভাসিত বীর চট্টলা।
কাজে, কর্মে, চরিত্রে নির্ভেজাল মোহাম্মদ খালেদের পৈতিৃক নিবাস চট্টগ্রাম জেলার রাউজান উপজেলার সুলতানপুর গ্রামে হলেও তাঁর জন্ম পশ্চিম বঙ্গের পাটনায়। সরকারি চাকুরি সূত্রে তাঁর পিতা আব্দুল হাদী তখন সস্ত্রীক পাটনায় বসবাস করতেন। ১৯৪২ সালে খালেদ সাহেব যখন কৃতিত্বের সাথে আই.এ পাশ করেন তখন দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা চলছে। আই. এ পাশ করার পর তিনি উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার ইচ্ছে প্রকাশ করলে তাঁর পিতার ইচ্ছায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার উদ্দেশ্যে ঢাকায় বসবাসরত জনাব আব্দুর নূর (সিএসপি, এস, এম আহসান সাহেবের পিতা) এর সাথে যোগাযোগ করে ঢাকায় চলে যান। কিন্তু ঢাকায় যখন তিনি পৌঁছেন তখন সেখানে হিন্দু মুসলমান দাঙ্গা চলছিল। ফলে মোহাম্মদ খালেদ সাহেবের ইচ্ছায় পিতার অনুমতি নিয়ে ঢাকার পরিবর্তে আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার আশায় আলীগড়ের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন এবং পিতার পক্ষ হতে মাসিক ৭৫ টাকা বরাদ্দ পান। সে সময় সেখানে “কুইট ইন্ডিয়া মুভমেন্ট” অর্থাৎ ভারত ছাড় আন্দোলন চলছিল। অতিকষ্টে যখন তিনি আলীগড়ে গিয়ে উপস্থিত হলেন তখন ভর্তির সময় শেষ হয়ে গেছে। দেরীতে যাওয়ার কারণে সেখানে ভর্তি হতে না পেরে অতীব দুঃখ বেদনা নিয়ে সেখানে অবস্থানরত চট্টগ্রামের বিখ্যাত পুরুষ আবুল খায়ের সিদ্দিকীর সাথে দেখা করেন। রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ার কারণে সকলেরই নিকট পরিচিত মোহাম্মদ খালেদকে তিনি জনাব ফজলুল কাদের চৌধুরীর কাছে নিয়ে যান। তাঁর পরামর্শে তিনি সময় নষ্ট না করে ইসলামিয়া কলেজে (কলিকাতা) বি.এ শ্রেণীতে ভর্তি হয়ে যান। সে কলেজে তখন শেখ মুজিবুর রহমান (পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু ও বাঙালি জাতির জনক) ছাত্র ছিলেন। সেখানে শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে তাঁর প্রথম পরিচয়। ইসলামী কলেজে পড়ার সময়ই দেশে তাঁর পিতার মৃত্যু হয়। স্বাভাবিকভাবে সংসারের কারণে বাধ্য হয়ে তাঁকে চট্টগ্রাম ফেরত আসতে হয়। ইসলামীয়া কলেজে তাঁর ফেরত যাওয়া হয়নি। পরবর্তীতে তিনি চট্টগ্রাম কলেজে ভর্তি হন এবং এ কলেজ হতেই স্নাতক ডিগ্রী লাভ করেন। স্নাতক ডিগ্রী নিয়েই তিনি আবারও কলকাতায় চলে যান এম. এ. পড়ার জন্য। মাষ্টার্স এ অর্থনীতি নিয়ে তাঁর পড়ার ইচ্ছা ছিল বহুদিনের। কিন্তু তাঁর পিতৃতুল্য শিক্ষকদের অনুরোধে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে সদ্য প্রতিষ্ঠিত ইসলামের ইতিহাস বিভাগে ভর্তি হন।
১৯৪৬ এ পরীক্ষা দেওয়ার বছর চলছিল পাকিস্তান আন্দোলন এবং পাকিস্তান আন্দোলনের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ডাকে খালেদ পরীক্ষা বর্জন করেন। পরবর্তীতে ১৯৪৭ এ বিলম্ব ফ্রি দিয়ে ইসলামের ইতিহাস বিভাগে এম. এ পরীক্ষা দেন। বাবার অকাল মৃত্যুতে স্বাভাবিকভাবে তাঁদের অর্থনৈতিক অবস্থা ভাল ছিল না। মামার আর্থিক আনুকূল্যে মোহাম্মদ খালেদ কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় হতে কৃতিত্বের সাথে ইসলামের ইতিহাস বিভাগ হতে এম. এ পাস করে তাঁর শিক্ষা জীবন শেষ করেন।
কর্মজীবনে তিনি ব্যবসা ও চাকরি অনেক কিছুই করেছিলেন। কিন্তু কোন কিছুতেই একাগ্রচিত্তে মন বসাতে পারেনি। দোকানদারী, ক্লিয়ারিং এর ম্যানাজার পর জাহানপুরে কিছু দিন প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে নাজিরহাট কলেজে অধ্যাপক হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন। সেখানে তিনি দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করেন। এর পূর্বে অবশ্য কিছুদিন তিনি রাউজান স্কুলেও শিক্ষকতা করেন। ব্যবসা, শিক্ষকতা জীবনের পর তিনি ব্যাংকেও চাকরি করেন। কিন্তু কোথাও বেশীদিন তিনি স্থায়ী হতে পারেননি। কারণ তিনি কোথাও নিজের চরিত্রের সাথে কর্মের সমন্বয় ঘটাতে পারেননি। ফলে প্রতি পদে পদে অন্যয়ের ও অসত্যের সাথে আপোষ না করার কারণে ব্যাংকে বিভিন্ন পদে অর্থের প্রলোভন থাকা সত্ত্বেও তাকে নীতি ভ্রষ্ট করতে পারেনি। তাই বার বার চাকরি ও ব্যবসা কোথাও তিনি সফলতার মুখ দেখেননি। এরি মাঝে মামা জনাব আব্দুল খালেক ইঞ্জিনিয়ারের ইচ্ছায় পীর মৌলানা সৈয়দ আহমদ চিরকোটি সাহেবের পরামর্শে তাঁর মামাতো বোন আমেনা বেগমের সাথে ১৯৪৯ সালে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হন।
রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের ফলে ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খান দেশে সামরিক আইন জারি করে পুরো দেশ ও জাতিকে স্তব্দ করে দিলেন। দেশ ও জাতির এ দুঃসময়ে অধ্যাপক খালেদ স্থির চিত্ত নিয়ে স্থায়ী কর্মজীবনের মূল পেশাটি বেছে নেন। তিনি আজীবন এ পেশার সাথেই সম্পৃত্ত ছিলেন। তাঁর সেই মহান পেশাটি হলো সাংবাদিকতা। অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদ সাংবাদিক হিসেবে সর্বমহলে পরিচিতি পেলেও মূলত তিনি ছিলেন একজন বিশাল মনের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। স্কুল জীবন হতে রাজনৈতিক সচেতন এ ব্যক্তিত্ব যতই পরিণত বয়স প্রাপ্ত হন ততই রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও পরিপক্কতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
১৯৬৯ এর গণ ছাত্র জনতার সম্মিলিত আন্দোলন ও গণ-অভ্যুত্থানে আইয়ুব শাহী পদত্যাগ করলে, আরেক নরঘাতক জেনারেল ইয়াহিয়া খাঁন ক্ষমতা গ্রহণ করেন। ইয়াহিয়া খান কর্তৃক ১৯৭০ সালে দেশে সাধারণ নির্বাচন দেয়া হয়। সে সময় ১৫৭ নং জাতীয় পরিষদের নির্বাচনী এলাকা যা রাউজান-হাটহাজারীর বিশাল এলাকা নিয়ে গঠিত। এ নির্বাচনী এলাকায় জাদরেল প্রার্থী ছিলেন পাকিস্তান কনভেনশন মুসলিম লীগের ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ফজলুল কাদের চৌধুরী। পুরো পাকিস্তানে এ জাদরেল প্রার্থীর বিপরীতে আওয়ামী লীগের পক্ষ হতে এম. এ আজিজ এবং জহুর আহমদ চৌধুরীর অনুরোধে অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদকে প্রার্থী হওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। সহায় সম্বলহীন এবং রাজনৈতিক ভাবে অপেক্ষাকৃত দুর্বল কিন্তু নৈতিকতার আদর্শে উজ্জীবিত অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদ অনেকটা বাধ্য হয়েই নির্বাচনে দাঁড়ানোর জন্য সম্মতি প্রদান করেন। বিশাল নির্বাচনী এলাকা এবং অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল এ প্রার্থী ফজলুল কাদের চৌধুরীর ন্যায় জাদরেল প্রার্থীর বিরুদ্ধে সীমিত সম্পদ নিয়ে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়া যেন তেন কথা নয়। তাঁর সম্পদ হিসেবে জনসমর্থন, কর্মীদের ত্যাগ ছাড়া আর কিছুই ছিল না। সে সময় তাঁর প্রচারনার দৈন্যদশা দেখে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে এগিয়ে এলেন দৈনিক আজাদীর পরিচালনা সম্পাদক এম. এ মালেক। তাঁর মালিকানাধীন কোহিনূর প্রেসের সকল কাজ বন্ধ করে খালেদ সাহেবের পোস্টার, লিফলেট ইত্যাদি ছাপানোর নির্দেশ দিলেন এবং তিনি নিজে উপস্থিত থেকে কর্মচারীদেরকে দিয়ে এসব কাজ করে ছিলেন। জাতীয় পরিষদের এ নির্বাচনে ব্যাপক ভোটের ব্যবধানে ফজলুল কাদের চৌধুরীকে পরাজিত করে অধ্যাপক খালেদ এম. এন.এ নির্বাচিত হন। নির্বাচনে ফজলুল কাদের চৌধুরীকে হারিয়ে দিয়ে পুরো পাকিস্তানে বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছিলেন তিনি। কারণ ফজলুল কাদের চৌধুরী বিভিন্ন সময়ে মন্ত্রী ছিলেন, স্পীকার ছিলেন, এমন কি ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টও ছিল। এমন জাঁদরেল ব্যক্তিকে হারাতে পারে এমন ধারণা পাকিস্তানের কারো ধারণার মধ্যেই ছিল না। নির্বাচন পরবর্তীতে পশ্চিম পাকিস্তান হতে অনেকে অধ্যাপক খালেদ সাহেবকে দেখতে এসেছিলেন এজন্যই যে, যে ব্যক্তি ফজলুল কাদের চৌধুরীর ন্যায় প্রার্থীকে হারাতে পারে সে ব্যক্তি দেখতে কেমন? তা দেখার জন্য।
পশ্চিম পাকিস্তানীদের প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের কারণে ১৯৭০ এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েও ক্ষমতায় বসতে পারলনা। শুরু হল ষড়যন্ত্র। পরপর ১৯৭১ এ শুরু হলো স্বাধীনতা সংগ্রাম। বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চ স্বাধীনতা যুদ্ধের ঘোষণা দিলেন “যার যা কিছু আছে তা নিয়েই শত্রুর বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানালেন।” সময়ের বাস্তবতাই বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে ২৫ মার্চ এক অসম যুদ্ধ শুরু হল। সে সময় খালেদ সাহেব বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। তিনি আগরতলার আর বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধি হয়ে কাজ করেন। পরে “জয় বাংলা” পত্রিকা প্রকাশ হলে তিনি সম্পাদক মন্ডলির সদস্য মনোনীত হন এবং প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের বৈদেশিক প্রচার বিভাগে কাজ করেন।
১৯৭১ এর ১৬ ডিসেম্বর দেশ স্বাধীন হলে তিনি নিজ জেলা শহরে ফেরত আসেন। স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের জন্য ড. কামাল হোসেনকে প্রধান করে সংবিধান প্রণয়ন কমিটি গঠিত হয়। এ কমিটির একজন সম্মানিত সদস্য ছিলেন অধ্যাপক খালেদ। স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ এ স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়। সেই নির্বাচনে অধ্যাপক খালেদ রাউজান এলাকা হতে পুনরায় এমপি নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে দেশে বাকশাল গঠিত হলে সারা দেশকে ৬০টি প্রশাসনিক জেলায় ভাগ করে অধ্যাপক খালেদকে চট্টগ্রাম উত্তর এর গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। ব্যক্তিগত জীবনে ভদ্র, সৎ, সদালাপী, নিষ্ঠাবান, বিনয়ী, জনদরদী লোক হিসেবে এবং চট্টগ্রামের একজন আদর্শবাদী অসামপ্রদায়িক বুদ্ধিজীবী হিসেবে তিনি সকল মহলের নিকট গ্রহণযোগ্য একমাত্র ব্যক্তি ছিলেন। ২১ ডিসেম্বর রোববার ২০০৩ তারিখে তিনি চির বিদায় নিলেন। অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদ প্রচুর লিখেছেন। তাঁর লেখাগুলো সংকলনবদ্ধ করা হয়নি। যদি সে সব লেখা সংগ্রহ করে সংকলনবদ্ধ করা যেতো তবে তা বিশাল কয়েকটি খন্ডের গ্রন্থ হতো। শুধু “সৌদি আরবে পঁয়ত্রিশ দিন নামে” একটি গ্রন্থ তিনি ১৯৬৬ সালে প্রকাশ করেছিলেন। এটিই তার লেখার একমাত্র প্রতীক হিসেবে আমাদের মাঝে রয়েছে।
অধ্যাপক খালেদ এখনো চট্টগ্রামের জন্য আলোকবর্তিকা। অধ্যাপক খালেদকে নিয়ে চট্টগ্রাম একাডেমি চালু করেছে শিশুসাহিত্য পুরস্কার। বাংলা একাডেমি বের করেছে তাঁর জীবনীগ্রন্থ। চট্টগ্রামের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাঁর নামে গড়ে তুলেছে বিভিন্ন স্থাপনা যা ইতিহাসের এক অক্ষয় অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত। অধ্যাপক খালেদের বর্ণাঢ্যজীবন এবং তাঁর কর্মই আজ তাঁকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পুরস্কারে ভূষিত করা হচ্ছে। স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ, প্রগতিশীল রাজনীতি ও সাংবাদিকতায় অপরিসীম অবদানের জন্য তাঁকে এ পুরস্কার প্রদান করা হচ্ছে। অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদ এর মরণোত্তর এ প্রাপ্তিতে আমরা পুরো চট্টগ্রামের লেখক, সাংবাদিক, কবি, সাহিত্যিক, সংস্কৃিতকর্মী এবং সর্বস্তরের মুক্তিযুদ্ধের সকল মানুষেরা আনন্দিত ও গর্বিত। পরিশেষে তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাই।
লেখক : প্রাবন্ধিক, সংগঠক

x