চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন পরিবেশ যেন স্থিতিশীল থাকে

রবিবার , ১৫ মার্চ, ২০২০ at ১০:৫১ পূর্বাহ্ণ
95

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তারিখ যতই ঘনিয়ে আসছে, সহিংসতার ঘটনাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাড়ছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। এক প্রার্থীর বিরুদ্ধে অন্য প্রার্থীর অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে চলছে পরিস্থিতি অবনতির আশংকা। গতকাল দৈনিক আজাদীতে ‘বাড়ছে নির্বাচনী সহিংসতা’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের শুরুটা সৌহার্দ্যময় হলেও দিন গড়াতেই বাড়ছে সহিংসতা, বাড়ছে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ। দিন যতই গড়াচ্ছে ততই প্রতিদ্বন্দ্বী মেয়র এবং কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে সহিংসার ঘটনা বাড়ছে। গত শুক্রবার পর্যন্ত রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা পড়েছে ২১টি অভিযোগ। শুধুমাত্র শুক্রবার একদিনে জমা পড়েছে ১২টি অভিযোগ। দিন যতই গড়াচ্ছে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা করছেন এলাকার ভোটাররা।
বিশ্লেষকদের অভিমত, আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা সুখকর নয়। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নানা রকম অস্থিতিশীল অবস্থার সৃষ্টি হয়। এক প্রার্থীর সমর্থককে প্রতিরোধ করতে গেলে তো পরিস্থিতি সংঘাতময় হবেই। তবে আশা করা যায় যে তা নিয়ন্ত্রণে থাকবে। এমন কিছু হবে না যা সমাজকে বিপর্যস্ত করবে।
বিশ্লেষকরা বলেন, এর আগে অনুষ্ঠিত সিটি করপোরেশন নির্বাচনগুলোতে আমাদের অভিজ্ঞতা ভালো নয়। তাই এমন একটা পরিবেশ তৈরি করতে হবে যাতে সাধারণ মানুষ ভোট দিতে পারে। এটা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের, এ মুহূর্তে যারা সরকারে আছে। তাঁরা বলেন, অংশগ্রহণমূলকের চেয়েও ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে পারছে কি না- তা নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য সরকারের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনেরও দায়িত্ব রয়েছে। কিন্তু নির্বাচন কমিশনার যে ধরনের কথা বলে থাকেন তাতে কিন্তু মানুষ আশাবাদী হতে পারছে না। নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করাটাই হচ্ছে এখন জনগণের চাহিদা। এটা কিভাবে হবে তা মীমাংসা করার দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে। সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে। নির্বাচনে জনগণ যাতে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে সেই পরিবেশ তৈরি করতে হবে। প্রয়োজনে সব পক্ষকে ছাড় দেয়ার মানসিকতা নিয়ে কাজ করতে বসতে হবে।
এদিকে, প্রতিশ্রুতির ফুলঝুড়ি চলছে বিভিন্ন প্রার্থীর মুখে। এক প্রার্থী বলেন, সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিজয়ী হলে চট্টগ্রামকে একটি পরিকল্পিত নগর হিসেবে গড়ে তোলা হবে। নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি প্রচারণায় গিয়ে চট্টগ্রামকে একটি বসবাসযোগ্য, মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত নগরী হিসেবেও গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন। অন্য এক প্রার্থী বলেন, মেয়র নির্বাচিত হলে চট্টগ্রামকে বিশ্বের অন্যতম পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলা হবে। চট্টগ্রামকে একটি স্বাস্থ্যসম্মত, নিরাপদ, সাম্য ও সমপ্রীতির শহরে পরিণত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।
গতকাল আজাদীতে প্রকাশিত আরেকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিশ্রুতির বন্যায় নগর প্লাবিত। ভোটারদের সামনে স্বপ্নকল্প রচনায় কারো চেয়ে কেউ কম যান না। দলীয়, বিদ্রোহী, স্বতন্ত্র নানা কিসিমের প্রার্থী। সবাই জেতার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী। প্রত্যেকের একটাই কথা, নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আমিই পাস। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির সবচেয়ে বড় উপাদান নাকি শিল্পিত মিথ্যে! প্রতিশ্রুতির ঘোড়া ছুটছে দ্রুত বেগে। বাস্তবতা হলো, প্রার্থীদের অনেকেই প্রতিশ্রুতির এই ধাবমান ঘোড়াকে ভুলে গেলেও আমজনতা এসবকে দীর্ঘশ্বাসের সাথে মনে রাখতে চায়। আর মাত্র কয়েক দিন পর আগামী ২৯ মার্চ নির্ধারিত হয়ে যাবে, নগরবাসী তাদের সুখে দুঃখে কাছে পাওয়ার ক্ষেত্রে কাদের সবচেয়ে বিশ্বস্ত মনে করেছেন ; কাকেই বা অভিভাবক মেনেছেন। বর্তমানে প্রার্থীরা নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণে ব্যস্ত সময় পার করছেন। দলীয় মেয়র প্রার্থীরা সকলেই নগরীর জলাবদ্ধতা, যানজট, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি সমস্যা তো বটেই সন্ত্রাস, মাদক, চাঁদাবাজি, পরিবেশ দূষণমুক্ত রাখার প্রতিশ্রুতিও বিতরণ করছেন ঢালাওভাবে। যারা নগরের মেয়র বা নগরপিতা হতে চান নগরকে মনের মাধুরী মিশিয়ে সাজানোর একটা অভিলাষ তাদের মধ্যে থাকতেই পারে। সে ধরনের অভিলাষ থাকা আপত্তিকর নয় বরং আশা জাগানিয়া। কিন্তু যা তাদের আওতাভুক্ত নয়, সে বিষয়ে ঢালাও প্রতিশ্রুতি দেওয়ার কারণেই আমজনতা ভ্রু কুঁচকে ভাবনায় পড়েছে, এসব প্রতিশ্রুতির কতোটা কথার কথা, আর ক’টাইবা অবশ্য কর্তব্য?
প্রতিশ্রুতি বা অঙ্গীকার যে যেভাবেই দিন বা করুন না কেন, আমরা চাইবো নির্বাচনী মাঠ যেন সংঘাতহীন থাকে। পরিবেশ যত সৌহার্দ্যময় থাকবে, ততই বাড়বে সাধারণ মানুষের আগ্রহ। সব পক্ষকে এই বিষয়টা অনুধাবন করতে হবে।