চট্টগ্রাম আবৃত্তি চর্চা কেন্দ্রের আপন আলোক মাঝে

সনেট দেব

বৃহস্পতিবার , ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ at ১০:৩৩ পূর্বাহ্ণ

‘চট্টগ্রাম আবৃত্তি চর্চা কেন্দ্র’, তার জন্মলগ্ন থেকেই এ শিল্পসাধনায় অবিরাম কাজ করে চলছে। এ শিল্পের উৎকর্ষতার প্রায়োগিক দিক বিবেচনা করে প্রথমবারের মত আয়োজন করেছে আটজন নবীন শিল্পীর একক আবৃত্তি অনুষ্ঠান। গত ১৮ জানুয়ারি শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমীর গ্যালারী মিলনায়তনে প্রতিষ্ঠার ১০ বছর উপলক্ষে বছর ব্যাপী আয়োজনের প্রথম অনুষ্ঠান ‘আপন আলোক মাঝে’। এতে প্রত্যেক শিল্পী নিবেদন করেছে চারটি করে কবিতা। আয়োজনে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন খেলাঘর’র কেন্দ্রিয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার, আবৃত্তি শিল্পী রাশেদ হাসান, নাট্যজন মঈন উদ্দিন কোহেল। এছাড়াও সংগঠন সদস্য সুমাইয়া শাহ্‌রীন পাঠ করে শোনান গ্রেট ব্রিটেনের ইসরাত ইফরীত ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের কর্ণধার ইসরাত ইফরীতের পাঠানো শুভেচ্ছা বাণী। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ফারুক আজমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব ও স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠন সভাপতি এহতেশামুল হক।
তার পরপরই শুরু হয় চট্টগ্রাম আবৃত্তি চর্চা কেন্দ্রের আট জন শিল্পীর একক আবৃত্তি পরিবেশনা। এতে অংশগ্রহণ করেন মোঃ ফারুক আজম, কৌশিক দত্ত, অর্পা দে, সুমাইয়া শাহরীন, হাসান মোহাম্মদ রিয়াজ, জান্নাতুন নুর দিশা, সায়ন্তন ভট্টাচার্য্য ও প্রিয়ম কৃষ্ণ দে। শিল্পীরা প্রত্যেকে চারটি করে মোট ৩২ টি কবিতা আবৃত্তি করেন।
আয়োজনে শিল্পী মোঃ ফারুক আজম পাঠন করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘দেবতার গ্রাস’; কামরুল হাসান মঞ্জু’র ‘গ্যালারীর সংলাপ’; সুকান্ত ভট্টাচার্যের ‘শেষ চিঠি’ ও নিজের লিখা ‘শকুনেরা মাংস খাবে স্বভাবে’ কবিতাগুলো। শিল্পী কৌশিক দত্ত আবৃত্তি করেন কবি অবন বসু’র ‘সবুজ বয়সের চিঠি’; রফিক আজাদ’র ‘তুমিঃ বিশ বছর আগে ও পরে’; শেখর বরণ’র ‘আছর’ ও নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী ‘কিছু পেলে কিছু দিয়ে দিবি’ কবিতাগুলো। শিল্পী অর্পা দে শুরু করেন অরণি বসু’র ‘শহর’ কবিতা দিয়ে। তারপর তমালিকা পন্ডাশেঠ’র ‘জননী-জন্মভূমি’; সুকান্ত ভট্টাচার্য ‘উদ্যোগ’ ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘কুয়ার ধারে’ কবিতা গুলো। সায়ন্তন ভট্টাচার্য্য শুরু করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘হঠাৎ দেখা’ দিয়ে। তারপর কবি জয় গোস্বামী’র ‘হাঁস’ ও ‘স্নান’। শেষ করেন সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়’র জনপ্রিয় কবিতা ‘কেউ কথা রাখেনি’ দিয়ে।
শিল্পী সুমাইয়া শাহ্‌রীন প্রথমে কবি নির্মলেন্দু গুণের ‘আমি আজ কারো রক্ত চাইতে আসিনি’ কবিতা দিয়ে শুরু করেন। তারপর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘সন্ধ্যা ও প্রভাত’; রফিক আজাদ’র ‘ভালবাসার সংজ্ঞা’ ও সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়’র ‘একটি গাছতলায় দাঁড়িয়ে’ কবিতা গুলো আবৃত্তি করে শুনান দর্শকদের। শিল্পী হাসান মোহাম্মদ রিয়াজ পাঠ করেন কবি রেজা উদ্দীন স্টালিন’র ‘ফাঁসির মঞ্চ থেকে’; রফিক আজাদ’র ‘প্রতীক্ষা’; পূর্ণেন্দু পত্রী’র ‘সেই গল্পটা’ ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘কাগজের নৌকা’ কবিতাগুলো।
শিল্পী প্রিয়ম কৃষ্ণ দে আবৃত্তি আয়োজনে ভিন্ন মাত্র নিয়ে আসে। তিনি শুরু করেন আজিজুল হক’র ‘পত্র’ কবিতা দিয়ে। তারপর শামসুর রাহমান’র ‘কখনো আমার মাকে’; রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘রথযাত্রা’ ও শুভ দাশগুপ্ত’র ‘ওগো নেয়ে’ কবিতাগুলো। শিল্পী জান্নাতুন নুর দিশা আবৃত্তি করেন পূর্ণেন্দু পত্রী’র ‘কথপোকথন-১’; শক্তি চট্টোপাধ্যায়’র ‘যেতে পারি কিন্তু কেন যাব?’; জীবনানন্দ দাশ’র ‘অন্ধকার’ ও হুমায়ুন আজাদ’র ‘আমি সম্ভবত খুব ছোট কিছুর জন্য’ কবিতাগুলো। অনুষ্ঠানের শেষ পরিবেশনা ছিলো উচ্চতর আবৃত্তি প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মাঝে সনদ প্রদান আয়োজন। এতে শিক্ষার্থীদের মাঝে সনদ প্রদান করেন চট্টগ্রাম আবৃত্তি চর্চা কেন্দ্র’র সভাপতি এহতেশামুল হক।

x