চট্টগ্রামে মানসম্পন্ন চিকিৎসা সেবায় ব্যাপক সাড়া

পার্কভিউ হাসপাতাল

আজাদী প্রতিবেদন

শুক্রবার , ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ at ৫:২৬ পূর্বাহ্ণ

পার্কভিউ হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিকের যাত্রা শুরু হয় দুই বছর আগে। মানসম্পন্ন সেবার প্রত্যয় নিয়ে শুরু হওয়া বেসরকারি এ হাসপাতাল ইতোমধ্যে সাড়া ফেলেছে চট্টগ্রামে চিকিৎসা সেবায়। সার্বক্ষণিক পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি চিকিৎসালয় হিসেবে আলাদা সুনাম নিয়ে এগিয়ে চলা এ প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্য সেবার সকল বিভাগকে একীভূত করে একটি সমন্বিত চিকিৎসা সেবা চালু রয়েছে। এ হাসপাতালের উদ্যোক্তাদের মধ্যেই একজন ডা. এটিএম রেজাউল করিম। যিনি একজন অর্থোপেডিক সার্জনও। পালন করছেন প্রতিষ্ঠানটির এমডির দায়িত্ব। এ হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দুই বছরের পথচলা নিয়ে একান্তে কথা বলেছেন দৈনিক আজাদীর সাথে। নিচে তা তুলে ধরা হল।

দৈনিক আজাদী : দুই বছর আগে পার্কভিউ হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট ও পথচলা সম্পর্কে আপনার কী বক্তব্য?
ডা. এটিএম রেজাউল করিম : মানুষকে সেবা দেয়ার মহান ব্রতকে সামনে রেখে অনেক প্রস্তুতি আর পরিকল্পনার ফল হচ্ছে ব্যতিক্রমধর্মী এ প্রতিষ্ঠান। চট্টগ্রামের অন্যতম বৃহৎ এই প্রতিষ্ঠানের পর্দা উন্মোচিত হয় দুই বছর আগে মহান ভাষার মাস এই ফেব্রুয়ারিতে। চট্টগ্রামে বেসরকারি চিকিৎসা সেবার পথিকৃৎ, অনেকগুলো সেবা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন, সেবা প্রদানে সদাচঞ্চল একদল উদ্যোক্তার নিরলস প্রচেষ্টার ফল হচ্ছে এ প্রতিষ্ঠান। স্থানীয় পুঁজি ও জনশক্তিকে কাজে লাগিয়ে সম্পূর্ণ নিজস্ব ধাঁচে ইতিবাচক বৈশ্বিক প্রবণতাকে ধারণ করে এটাকে গড়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে। আমাদের এ চেষ্টা নিরন্তর। আলহামদুলিল্লাহ, মাত্র দুই বছরের মধ্যে এই প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রামের গণ্ডি পেরিয়ে বাইরেও পরিচিতি পেয়েছে সমানতালে। চট্টগ্রামবাসীর সার্বিক সহযোগিতায় এ প্রতিষ্ঠান এগিয়ে চলছে তার অভিষ্ট্য লক্ষ্যপানে।
দৈনিক আজাদী : বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্বস্তিদায়ক চিকিৎসা সেবা প্রদানের বিষয়গুলো কিভাবে নিশ্চিত করা হয়?
ডা. এটিএম রেজাউল করিম: এখানে স্বাস্থ্য সেবার জন্য প্রতিটি বিভাগে স্পেশালাইজড সেবার পাশাপাশি সংযুক্ত আছে সাধারণ সেবাসমূহও। সাশ্রয়ী মূল্যে সীমিত সাধ্যের মধ্যে জনগণ যাতে মানসম্পন্ন সেবা পেতে পারে সে দিকে বিশেষভাবে নজর দেয়া হয়েছে।
দৈনিক আজাদী: এ প্রতিষ্ঠানের কাঠামো বিন্যাসে কী কী রয়েছে?
ডা. এটিএম রেজাউল করিম : এই প্রতিষ্ঠানের দুইটি ইউনিট। হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক। হাসপাতালটি ২৫০ বেডের। এতে সাধারণ ও বিশেষায়িত দু’ধরনের বেড রয়েছে। হাসপাতালে ইতিমধ্যে ১৫০ বেড চালু রয়েছে। বাকিগুলো চালুর অপেক্ষায় রয়েছে। অন্যদিকে, প্রায় পঞ্চাশ হাজার বর্গফুট আয়তনের ডায়াগনস্টিকে আছে রোগ নির্ণয়ের সকল আধুনিক সরঞ্জামসহ বিভাগ ভিত্তিক প্রায় একশত কনসালটেন্ট চেম্বার ও আউটডোর সার্ভিস। পাশাপাশি রোগী সেবা যেন নিরবচ্ছিন্ন ও সমন্বিত হয় সেজন্য রাখা হয়েছে স্বাস্থ্যসম্মত আধুনিক কেন্টিন, ফুড কর্ণার, ওয়াশ সেকশন, শক্তিশালী সিকিউরিটি সিস্টেম, পুরুষ ও মহিলাদের আলাদা ব্যবস্থাপনাসহ একটি জুমা মসজিদ, একশ বিশ আসনের সেমিনার কক্ষ, আধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা, সেন্ট্রাল, এয়ার কন্ডিশনার, অক্সিজেন ও সাকার সিস্টেম ইত্যাদি।
দৈনিক আজাদী : হাসাপাতালে রোগীদের বিশেষায়িত সেবা কিভাবে নিশ্চিত করেন?
ডা. এটিএম রেজাউল করিম : হাসপাতালের বিশেষায়িত সেবার জন্য অনেকগুলো বিভাগ চালু আছে। বিভাগগুলো নান্দনিক ও দৃষ্টিনন্দন, ইনফেকসন প্রুফ ও আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে করা হয়েছে। বিভাগগুলোর মধ্যে আছে ১৪ বেডের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র বা ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট, সমসংখ্যক বেডের হৃদরোগীদের জরুরি সেবার জন্য করোনারি কেয়ার ইউনিট, নবজাতক ও শিশুরোগের ক্রিটিক্যাল সেবার জন্য আছে নিওনেটাল ইনটেনটিভ কেয়ার ইউনিট বা এনআইসিইউ, স্পেশাল কেয়ার বেবি ইউনিট বা এসসিবিইউ, কিডনি অকেজো রোগীদের জন্য এখানকার ডায়ালাইসিস ইউনিট চট্টগ্রামে বেসরকারি পর্যায়ে সর্ববৃহৎ ও সর্বাধুনিক। আবার প্রতিটি বিভাগ পরিচালনার জন্য আছেন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সিনিয়র বিশেষজ্ঞ কনসালটেন্ট ও বিশেষজ্ঞ রেসিডেন্ট। সাথে আছেন অভিজ্ঞ সিনিয়র নার্সিং ও স্টাফ।
দৈনিক আজাদী : জরুরি ও জটিল অপারেশনের ক্ষেত্রে কতটুকু এগিয়ে এ হাসপাতাল?
ডা. এটিএম রেজাউল করিম : বিশেষায়িত সেবার সবচেয়ে বড় বিভাগ হচ্ছে অপারেশন থিয়েটার ও প্রসূতি সেবা। এখানে আছে ইনফেকশন প্রতিরোধী ব্যবস্থাসহ ৮ টি অপারেশন থিয়েটার, প্রসূতি রোগীর নিরাপদ ডেলিভারির জন্য আছে আলাদা লেবার রুম, এন্টিনেটাল ও নবজাতক পরিচর্যা ব্যবস্থাসহ পোস্ট নেটাল কক্ষ। পুরো ইউনিট পরিচালিত হয় সংশ্লিষ্ট বিভাগের বিশেষজ্ঞ কনসালটেন্টের তত্ত্বাবধানে। এই ইউনিটে সংযোজিক আছে সি-আর্ম, কিডনি পাথর ভাঙার জন্য ইএসডব্লিউএল মেশিন, লেজার মেশিন, ক্যামেরা, ল্যাপারোস্কপিক মেশিন, নিউরোসার্জারি ও স্পাইনাল সার্জারি ইউনিট, অর্থোপেডিক ও ট্রমা ইউনিট। দেশের দু’একটা সেন্টারের মতো ব্যয়বহুল জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্ট সার্জারি চট্টগ্রামে কেবল এখানেই সম্পন্ন হয়।
দৈনিক আজাদী : ডায়াগনস্টিক ইউনিটে রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে এ প্রতিষ্ঠানে আধুনিকায়নের ছোঁয়া কতটুকু নিশ্চিত করা হয়েছে?
ডা. এটিএম রেজাউল করিম : রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে এখানে সর্বাধুনিক সকল প্রযুক্তি সংযোজিত আছে। যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে সিটি স্ক্যান, সোমাটোম গজ মেশিন, ইগউ, কালার ডপলার আল্ট্রাসাউন্ড, হল্টার, ইটিটি, ইইজি, ইএমজি, বিবিধ প্রসিডিউর ও ফিজিওথেরাপি ইউনিট। প্রসিডিউর ইউনিটে চট্টগ্রামের স্বনামধন্য কনসালটেন্টগণ নিয়মিত এন্ডোসকপি, কলোনোসকপি, ইআরসিপি, ব্যান্ড লাইগেশনসহ লিভার ও পরিপাকতন্ত্রের প্রসিডিউরগুলো সম্পন্ন করছেন। সমপ্রতি যুক্ত হয়েছে অত্যাধুনিক পিসিআর ল্যাব, মাইক্রোবায়োলজি ল্যাব। যার সাহায্যে জেনেটিক টেস্টসহ সকল জীবাণুর নিশ্চিত উপস্থিতি নির্ণয় করা হয়। এ ছাড়া ব্লাড ব্যাংক বা রক্ত পরিসঞ্চালন বিভাগ চালুর প্রক্রিয়াও বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। ল্যাবের সুপরিসর ওয়েটিং স্পেসসহ বিশাল দুটি ফ্লোরে নানান বিভাগের প্রায় ৮০ জন কনসালটেন্ট নিয়মিত চেম্বার করেন। একটা হাসপাতালে একজন রোগী আরামদায়ক পরিবেশে ভাবনাহীন চিকিৎসা সেবা নেয়ার সকল ব্যবস্থা এখানে সংযোজিত আছে। এখানকার নান্দনিক ইমারতের দৃষ্টিনন্দন সাজ আর সুপরিসর করিডোরের শীতাতপ ছোঁয়া রোগ প্রশমনের সাথে সাথে আগত জনগণের অবসাদ ও ক্লান্তির প্রশমন ঘটাবে নিঃসন্দেহে।
দৈনিক আজাদী : সামাজিক দায়বদ্ধতা ও চিকিৎসা সেবা দু’টি বিষয়কে আপনি কিভাবে দেখেন?
ডা. এটিএম রেজাউল করিম : সামাজিক দায়বদ্ধতা ও সাশ্রয়ী সেবা দেয়ার জন্য ল্যাবে পরীক্ষায় ২০% ছাড়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এখাতের বিপুল ডিসকাউন্ট চট্টগ্রামের আপামর জনসাধারণকে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান করছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে চট্টগ্রামের বিভিন্ন জায়গায় ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, দুঃস্থদের সাহায্য করাসহ নানান প্রকল্প পরিচালনা করা হয়। সেবার সাথে সামাজিক দায়বদ্ধতার বিষয়টি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। যেখানে সেবা আছে সেখানে দায়বদ্ধতা। আর যেখানে দায়বদ্ধতা সেখানে সেবা অবশ্যই থাকবে। সমাজ, রাষ্ট্রকে উন্নত করতে হলে এ সেবা ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে হবে।
সকলের সহযোগিতা ও সমর্থন যদি অব্যাহত থাকে আগামীতে পার্কভিউ হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক চট্টগ্রামের বেসরকারি অঙ্গনে স্বাস্থ্য সেবাখাতকে আরো একধাপ এগিয়ে নিতে পারবে।
দৈনিক আজাদী : আপনাকে ধন্যবাদ।
ডা. এটিএম রেজাউল করিম : দৈনিক আজাদী এবং আপনাকেও ধন্যবাদ।

x