চট্টগ্রামে ট্যাক্স নেটে আসছে লক্ষাধিক নতুন করদাতা

এক বছরে ২৫০০কোটি টাকা বেশি ট্যাক্স আদায়ের আশা

হাসান আকবর

শুক্রবার , ৮ নভেম্বর, ২০১৯ at ৪:০৩ পূর্বাহ্ণ
447

ট্যাক্স জমা দেয়ার শেষ দিন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে আয়কর বিভাগের ব্যস্ততাও বাড়ছে। পাড়া মহল্লায় বাড়িতে বাড়িতে চলছে আয়কর বিভাগের অনুসন্ধান। এবার অন্তত আড়াই হাজার কোটি টাকা বাড়তি ট্যাক্স আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে আয়কর বিভাগ। একই সাথে গত বছরের তুলনায় এবার চট্টগ্রামে অন্তত এক লাখ নয়া করদাতাকে ট্যাক্স নেটে আনা হবে। অভ্যন্তরীণ খাত থেকে কর আদায়ের পরিমাণ বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়কর বিভাগ নানা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।
চট্টগ্রামের আয়কর বিভাগের পদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো চট্টগ্রামেও আয়কর প্রদানের প্রবণতা কম। চট্টগ্রামের জীবনযাত্রার মান এবং অর্থনৈতিক অবস্থায় আরো বেশি সংখ্যক মানুষ ট্যাক্স দেয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে বহু মানুষই রয়েছেন ট্যাক্স নেটের বাইরে। চট্টগ্রামে বর্তমানে মাত্র আড়াই লাখের মতো মানুষ আয়কর প্রদান করে। অথচ চট্টগ্রামে কর দেয়ার মতো লোকের সংখ্যা আরো অনেক বেশি। যথাযথ সচেতনতা ও পদক্ষেপের অভাবে এই বিপুল সংখ্যক মানুষ ট্যাক্স প্রদান না করেও নিজেদের মতো চলছেন। বাড়ি আছে, গাড়ি আছে কিংবা লাখ লাখ টাকার ব্যবসা বাণিজ্য আছে এমন বহু মানুষই আয়কর প্রদান করেন না। এরা আয়কর বিষয়টিকে গুরুত্বও দেন না। নিজেদের আয়ের
পুরোটাই কালো টাকা হয়ে গেলেও সেদিকে তাদের কোন নজর নেই। এ অবস্থায় তাদেরকে বুঝিয়ে এবং সচেতন করে ট্যাক্স নেটে আনার কাজ করছে আয়কর বিভাগ। প্রতিটি পাড়া মহল্লায় বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে চালানো হচ্ছে অনুসন্ধান। যেসব বাড়ির মালিকের আয়কর নথি নেই তাদের তালিকা করে নোটিশ প্রদানের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। চলতি বছরই চট্টগ্রামে করদাতার সংখ্যা সাড়ে তিন লাখে উন্নীত করা হবে বলেও সূত্র আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।
সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বলেন, আয়কর মেলার আয়োজন, কর প্রদান সহজিকরণ, বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর প্রদানের বাধ্য বাধকতায় করদাতার সংখ্যা বাড়ছে। আগে ট্যাক্স না দিয়ে বহু কাজ করা গেলেও এখন ক্রমে ক্ষেত্র সংকুচিত হচ্ছে। বাংলাদেশে কর্মরত বহু বিদেশি নাগরিক কোটি কোটি টাকা আয় করে নিজ দেশে নিয়ে যেতেন। কোন ট্যাক্স দিতেন না। এখন সময় পাল্টে গেছে। বিদেশী নাগরিকদেরও ট্যাক্স নেটের আওতায় আনা হচ্ছে। এদের কাছ থেকেও আদায় করা হচ্ছে লাখ লাখ টাকার ট্যাক্স। বিভিন্ন কোম্পানির কাছ থেকে উৎসে আয়করের পাশাপাশি কর্মকর্তাদের বেতন ভাতার উপরও ট্যাক্স আরোপ করে আদায় করা হচ্ছে। আগামী ৩০ নভেম্বর শেষ হওয়া বিগত অর্থবছরের আয়করের হিসেব শেষ না হলেও আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়- এবার ১২ হাজার কোটি টাকার আয়কর আদায় করা হবে। গত বছর আয়কর আদায় হয়েছিল সাড়ে নয় হাজার কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে আড়াই হাজার কোটি টাকা আয়কর বৃদ্ধির বিষয়টিকে কর বিভাগের বেশ অগ্রগতি বলেও মনে করছেন কর্মকর্তারা। চট্টগ্রামে আগামী ১৪ থেকে ২০ নভেম্বর আয়কর মেলা অনুষ্ঠানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে একজন কর্মকর্তা বলেন, সপ্তাহব্যাপী এ মেলায় অন্যান্য বছরের মতো এবারও কয়েকশ’ কোটি টাকার ট্যাক্স আদায় হবে। গত ২০১০ সাল থেকে এ মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শুরুর দিকে কিছুটা কম হলেও এখনতো উৎসবমুখর পরিবেশে মেলায় ট্যাক্স প্রদান করা হয়। অনেকেই নিজেদের ট্যাক্স নিয়ে মেলার জন্য অপেক্ষা করেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, অনেক খাতেই ট্যাক্স আদায়ের পরিমাণ কমে গেছে। কিন্তু আয়কর বাড়ছে। দেশের মানুষ আয়কর প্রদান করলে অভ্যন্তরীণ খাত থেকে আয় বাড়বে। যা সরকারের বাজেট বাস্তবায়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আয়কর বিভাগের ওই শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, দেশের প্রচলিত শুল্ক আইনানুযায়ী দেশের যে কোন ব্যক্তি বার্ষিক ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার বেশি আয় করলে বর্ধিত আয়ের উপর ট্যাক্স প্রদান করতে হবে। মহিলা ও ৬৫ বছরের ঊর্ধে যে কোন ব্যক্তির জন্য আয়করের নির্দিষ্ট সীমা হচ্ছে ৩ লাখ টাকা। প্রতিবন্ধীদের জন্য ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ও গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার জন্য ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা। অর্থাৎ বছরে উক্ত সীমার বেশি আয় করলে তাকে নির্দিষ্ট হারে ট্যাক্স প্রদান করতে হয়। কিন্তু বাংলাদেশের হাজার হাজার মানুষ করমুক্ত আয়সীমার বহু বেশি টাকা আয় করলেও ইনকাম ট্যাক্স প্রদান করেন না। তাঁদের চিহ্নিত করে ট্যাক্স নেটে আনার কাজ চলছে বলেও আয়কর বিভাগ সূত্র জানিয়েছে।

x