চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগে ৫০ অনুপ্রবেশকারী

নেই গুরুত্বপূর্ণ কেউ নির্বাচনে অংশ নেয়া ১২ বিদ্রোহী প্রার্থীকে ক্ষমা

শুকলাল দাশ

রবিবার , ৩ নভেম্বর, ২০১৯ at ৩:৩৯ পূর্বাহ্ণ
4087

চট্টগ্রাম উত্তর ও দক্ষিণ জেলায় বিতর্কিত-অনুপ্রবেশকারীর সংখ্যা ৫০ জন বলে জানা গেছে। তবে এই তালিকায় কোনো মন্ত্রী-এমপি নেই বলেও চট্টগ্রামের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতারা জানিয়েছেন। আওয়ামী লীগ পরপর তিনবার ক্ষমতায় আসার পর বৃহত্তর চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের কিছু শীর্ষ নেতা অনৈতিক সুবিধা নিয়ে দলের ভেতরে সুবিধাবাদী-বিতর্কিতদের স্থান দিয়েছেন। তাদের কর্মকাণ্ডে বিতর্কিত হচ্ছে দল। শেষ পর্যন্ত তাদেরকে শনাক্ত করে বের করে দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন দলের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সারা দেশে দলের মধ্যে অনুপ্রবেশকারী-সুবিদাবাধীদের একটি তালিকা তৈরি করে তা বই আকারে প্রকাশ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতাদেরকে চিঠি দেয়া হচ্ছে। বিতর্কিত ও অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে প্রকাশিত বইয়ের ফটোকপি জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তারা এখন জেলার নেতাদের কাছে পাঠাবেন বলে জানা গেছে।
চট্টগ্রাম বিভাগে দলের মধ্যে বিতর্কিত-অনুপ্রবেশকারী-হাইব্রিডদের তালিকা হাতে পাওয়ার কথা জানিয়ে আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (চট্টগ্রাম বিভাগ) ও পানি সম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম জানান, চট্টগ্রামে বিতর্কিত-অনুপ্রবেশকারী-হাইব্রিডদের তালিকা পেয়েছি। এটা নিয়ে এখন যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। তবে তালিকায় গুরুত্বপূর্ণ কেউ নেই বলে জানান তিনি।
উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেয়া ১২ বিদ্রোহীকে ক্ষমা : চট্টগ্রামে উপজেলা নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করা ১২জন বিদ্রোহী প্রার্থী শো-কজের জবাবে অঙ্গীকারসহ ক্ষমা চেয়েছেন। ভবিষ্যতে দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে কোন কাজ করবেন না বলে দলীয় সভাপতির কাছে অঙ্গীকারনামাসহ ক্ষমা চাওয়ায় তাদেরকে মাফ করে দেয়া হয়েছে বলে চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতারা জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে এ কে এম এনামুল হক শামীম
আজাদীকে জানান, উপজেলা নির্বাচনে যারা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন তাদেরকে মাফ করে দেয়া হয়েছে। তারা শো-কজের জবাব দিয়েছেন। ভবিষ্যতে আর দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে কোন কাজ করবেন না বলে অঙ্গীকারনামা দিয়ে ক্ষমা চেয়েছেন।
বৃহত্তর চট্টগ্রামে (চট্টগ্রাম ও কঙবাজার) উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে নৌকার প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ১২জন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন বিদ্রোহী হিসেবে। দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচন করে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি, লোহাগাড়া ও চন্দনাইশে তিন বিদ্রোহী প্রার্থী চেয়ারম্যানও নির্বাচিত হয়েছেন।
দলীয় পদে থাকার পরও দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে উপজেলা নির্বাচন করেছেন ফটিকছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান হুসেইন মোহাম্মদ আবু তৈয়ব, লোহাগাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান জিয়াউল হক চৌধুরী বাবুল, চন্দনাইশে এলডিপি থেকে এসে আওয়ামী লীগে যোগ দেয়া নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বার।
এদিকে বাঁশখালী উপজেলায় দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের কৃষি ও শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মো. খোরশেদ আলম। বোয়ালখালীতে দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মোহাম্মদ আবদুল কাদের সুজন ও উপজেলা আওয়ামী লীগের এডহক কমিটির সহ সভাপতি শ্রমিক নেতা এসএম নুরুল ইসলাম। উপজেলা নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান নুর হোসেন।
কঙবাজার সদর উপজেলা, টেকনাফ, রামু, মহেশখালী ও চকরিয়া উপজেলার পাঁচ আওয়ামী লীগ নেতাকেও শো-কজ করা হয়েছিল। তারাও অঙ্গীকারনামা দিয়ে ক্ষমা চেয়েছেন। তারা হলেন, রামুর নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান সোহেল সরওয়ার কাজল, কঙবাজার সদর উপজেলায় জেলা আওয়ামী লীগ সদস্য নুরুল আবছার, টেকনাফে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি জাফর আলম, মহেশখালীতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি শরীফ বাদশা ও চকরিয়ায় উপজেলা আওয়ামী লীগ সহসভাপতি ফজলুল করিম সাঈদী।
দলীয় সিদ্ধান্ত না মেনে নির্বাচন করায় চট্টগ্রাম ও কঙবাজারের ১২ জনের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য শো-কজ করা হয়।
শো-কজের জবাবে বিদ্রোহী প্রার্থীরা ভবিষ্যতে দলের বিরুদ্ধে গিয়ে কোন কার্যকলাপ করবেন না মর্মে অঙ্গীকারনামা দিয়ে ক্ষমা চেয়েছেন। তাই এবারের মতো বিদ্রোহীদের মাফ করে দেয়া হয়েছে বলে জানান কেন্দ্রীয় নেতারা।

x