চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের বড় দুর্বলতা অন্তর্কলহ : কাদের

দূষিত রক্ত বের করে বিশুদ্ধ রক্ত সঞ্চালন করতে হবে।। ‘আখতারুজ্জামান বাবুর ত্যাগ আ. লীগ ভুলতে পারবে না’

আজাদী প্রতিবেদন

বৃহস্পতিবার , ১৪ নভেম্বর, ২০১৯ at ৩:০৫ পূর্বাহ্ণ
754

‘শেখ হাসিনার অ্যাকশন শুরু হয়ে গেছে। যারা অন্তর্কলহ করবে, অপকর্ম করবে, দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি, ভূমি দখল, মাদক ব্যবসা করবে, সেসব অপকর্মকারীদের স্থান আওয়ামী লীগে নেই’ বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি। গতকাল বুধবার দুপুরে নগরীর রাহাত্তারপুলের কে বি কনভেনশন সেন্টারে আওয়ামী লীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘চট্টগ্রামে মাঝে মাঝে যখন তুচ্ছ কারণে অবাঞ্ছিত, অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে, তখন মনে বড় কষ্ট লাগে। বড় দুঃখ পাই। সামান্য কারণে একে অন্যের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। চট্টগ্রামে মাঝে মাঝে যখন দেখি আওয়ামী লীগই আওয়ামী লীগের শত্রু তখন কষ্ট লাগে, দুঃখ পাই। চট্টগ্রামে মাঝে মাঝে যে কলহ দেখি, এটাই চট্টগ্রামের নেতৃত্বের বড় দুর্বলতা।’ চট্টগ্রামে আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর স্মরণসভায় বক্তব্যে এভাবে নিজের মনোকষ্টের কথা প্রকাশ করলেন তিনি।
ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাদের দূষিত রক্তের দরকার নেই। দূষিত রক্ত বের করে দিতে হবে। বিশুদ্ধ রক্ত সঞ্চালন করতে হবে। গুটিকয়েক খারাপ লোকের জন্য গোটা আওয়ামী লীগ বদনামের ভাগিদার হবে না। গোটা আওয়ামী লীগের ভালো লোকদের ত্যাগ বৃথা যেতে পারে না।’
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী আরও বলেন, ‘খারাপ আচরণ উন্নয়নকে ম্লাান করে দিতে পারে। আমরা ট্র্যাডিশন চাই, সেটা হচ্ছে সিনিয়র জুনিয়রদের স্নেহ করবে, জুনিয়র সিনিয়রকে সম্মান করবে। এখানে আমরা ডিজিটাল চাই না। আওয়ামী লীগকে গণতন্ত্র অক্ষুন্ন রাখতে হবে, সেটাই ট্র্যাডিশন। মানুষের মাঝে থেকেই পরিবর্তনের ধারা এগিয়ে নিতে হবে।’
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী
নওফেল, সিটি মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এমএ সালাম, আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম চৌধুরী ও আবু রেজা মুহাম্মদ নেজাম উদ্দিন নদভী, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী, মহানগর সহ-সভাপতি আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু, দক্ষিণ জেলা সহ-সভাপতি মোহাম্মদ ইদ্রিস, দক্ষিণ জেলার সহ-সভাপতি আবুল কালাম চৌধুরী, এড: এ কে এম সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, এম আবু সাঈদ, উত্তর জেলা সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, দক্ষিণ জেলার যুগ্ম সম্পাদক শাহজাদা মহিউদ্দিন, নগর সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ, দক্ষিণ জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক এড: জহির উদ্দিন, প্রদীপ দাশ, মোছলেহ উদ্দিন মনসুর, উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুল আলম, রাউজান উপজেলা চেয়ারম্যান এহেছানুল হায়দার চৌধুরী বাবুল, অধ্যাপক আবদুল মান্নান, উপজেলা চেয়ারম্যান মো. ফারুক, শফিক আদনান।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা পরিবর্তন চাই, কিন্তু সেই পরিবর্তন চাই না যে পরিবর্তন আওয়ামী লীগকে আদর্শের শিকড় থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। তিনি বলেন, আখতারুজ্জামান বাবু শুধু ব্যবসা করলে দেশের এক নাম্বার ব্যবসায়ী হতে পারতেন। কিন্তু রাজনীতিকে টাকা তৈরির মেশিন ভাবেননি তিনি। রাজনীতিকে তিনি পণ্য মনে করেননি। অনেকে রাজনীতিকে কেনা-বেচার পণ্য মনে করেন, বাবু ভাই সেটা করেননি। তিনি জনগণের পাশে ছিলেন। শেখ হাসিনার প্রতি তার ভালোবাসার প্রমাণ আমরা পেয়েছি। বাবু ভাইয়ের মৃত্যুর পর চট্টগ্রাম শোকের দরিয়া হয়ে গিয়েছিল। তিনি মানুষকে ভালোবেসে যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, মানুষ তার মৃত্যুর পরও তাকে ভালোবেসে তার ভালোবাসার প্রতিদান দিচ্ছে।
ওবায়দুল কাদের বলেন, আমার মনে আছে, চাকসু নির্বাচনের সময় আমাদের কাছে টাকা-পয়সা ছিল না। ছাত্রলীগকে জেতাতেই হবে এই পণ নিয়ে আমরা এসেছিলাম। ১৪ দিনের মত আমি চট্টগ্রামে ছিলাম। বাবু ভাইয়ের সার্সন রোডের বাসায় আমি যেতাম, আমাদেরকে তিনি কখনো বুঝতে দেননি যে, আমাদের টাকার কোনো সংকট আছে। গোটা চাকসু নির্বাচনে সমস্ত অর্থ তিনি একা জোগান দিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, দল পরিচালনার ক্ষেত্রে তিনি যেমন সহযোগিতা দিতেন, তেমনি আমাদের নেত্রীর সংকটকালেও তিনি পাশে ছিলেন। নেত্রীকে সব ধরনের সহযোগিতা তিনি জীবনের শেষদিন পর্যন্ত দিয়ে গেছেন। চট্টগ্রামে মহিউদ্দিন চৌধুরী যখন মেয়র নির্বাচন করেন, তখন প্রচণ্ড রোদের মধ্যে লিফলেট নিয়ে ঘরে ঘরে, দোকানে দোকানে ক্যাম্পেইন করেছেন তিনি। আজকে আমরা পোস্টার লাগাতে, লিফলেট বিতরণ করতে লজ্জাবোধ করি। কিন্তু বাবু ভাইয়ের সেই অহংবোধ ছিল না, অহমিকা ছিল না।
মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, বাবু ভাইয়ের মন্ত্রী হওয়ার ইচ্ছা ছিল, নেত্রীরও ইচ্ছা ছিল। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাস তিনি বেশিদিন বেঁচে থাকেননি। নেত্রী আমাকে বললেন, বাবু ভাইকে আমি কিছু দিতে পারলাম না। বাবু ভাইকে মন্ত্রী করতে পারলে আমার ভালো লাগতো। কিন্তু তিনি বেঁচে থাকেননি। বাবু ভাইয়ের কথা স্মরণ করে তার রক্তের উত্তরসূরি সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদকে নেত্রী আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির সদস্য করেছিলেন এবং তাকে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও দিয়েছিলেন। পরে নিজের যোগ্যতা, সততা দিয়ে জাবেদ পূর্ণমন্ত্রী হয়েছেন। নেত্রী তাকে প্রতিমন্ত্রী থেকে মন্ত্রী করার আগে আমাকে বলেছেন, চট্টগ্রাম থেকে জাবেদকেও পূর্ণমন্ত্রী করতে হয়। তার সততা আছে। জাবেদ পূর্ণমন্ত্রী হয়েছে তার সততা দিয়ে।
বাবু ভাইদের মত নেতাদের ত্যাগের কারণে সমস্ত প্রতিকূলতা, প্রতিবন্ধকতা ও ষড়যন্ত্রের মধ্যেও আওয়ামী লীগ রাষ্ট্র ক্ষমতায় টিকে আছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগ যখন মহাবিপর্যয়ের মুখে তখন দলকে পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন বাবু ভাই। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রক্তের সঙ্গে আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু কখনো বেঈমানি করেননি।
৭৫’ পরবর্তী সময়ে চট্টগ্রামের মাটিতে আওয়ামী লীগের পতাকা উড্ডীন রেখেছেন। সমস্ত রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করেছেন, সমস্ত লোভ-লালসাকে প্রত্যাখ্যান করে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখাদের মধ্যে একজন ছিলেন বাবু ভাই। তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী ছিলেন।
নিজের ছাত্র জীবনের বাবু ভাইয়ের সংস্পর্শে আসার সুযোগ হয়েছে উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বাবু ভাইয়ের সাথে বহুদিন কাজ করার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। কোনো মানুষ সাহায্য, সহযোগিতার জন্য তার কাছে গেলে, খালি হাতে ফিরতে দেখিনি। আমি পারবো না- এই কথাটি তিনি কখনো বলেননি। এ অঞ্চলে অনেক মানুষ আছে, যারা বাবু ভাইয়ের কারণে উপকৃত হয়েছে। শুধু চট্টগ্রাম নয়, সারা বাংলাদেশের অনেক মানুষ আছে যারা বাবু ভাইয়ের কারণে উপকৃত হয়েছে। ব্যাংকার হবার স্বপ্ন দেখেননি যিনি, বাবু ভাই তাকে ব্যাংকের পরিচালক বানিয়েছেন।
তিনি বলেন, শিল্পপতি হিসেবে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন না, দেশ ও মানুষকে ভালোবাসতেন বিধায় তিনি একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচয় দিতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। বাবু ভাই কর্মীদের নেতা ছিলেন, আন্দোলন সংগ্রামে ছিলেন। তিনি শেখ হাসিনার সাথে, আওয়ামী লীগের সাথে, বঙ্গবন্ধুর রক্তের সাথে কখনো বেঈমানি করেননি।
সভায় আখতারুজ্জামান চৌধুরীর ছেলে ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ বলেন, ‘আজকে আপনাদের দেখে মনে হচ্ছে আমার আব্বা আপনাদের মাঝে বেঁচে আছেন। এটাই বড় পাওয়া একজন রাজনীতিবিদের জন্য। আমার আব্বা ব্যক্তি জীবনে সফল ব্যবসায়ী ছিলেন, ব্যবসার জন্য তিনি রাজনীতি করেননি। পঁচাত্তরের পর আওয়ামী লীগ করার মানুষ পাওয়া যায়নি তখন আব্বা পুরো চট্টগ্রামে দলকে সুসংগঠিত করেছিলেন। সারাদেশে দলের জন্য কাজ করেছেন। আজ অনেকে দল করতে চায়। দেশ আজ গর্ব করার মত জায়গায় পৌঁছেছে। স্বাধীনতা বিরোধী চক্র চায় আমাদের ধ্বংস করতে, তারা বসে নেই। আজকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ টিকে আছে দলীয় নেতাকর্মীর কারণে।
শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, ৭৫ পরবর্তী দুঃসময়ে যখন অনেকে ক্ষমতার উচ্ছিষ্টের লোভে দল ছেড়ে চলে গেছেন, তখন আখতারুজ্জামান বাবু দলের প্রতি আস্থা রেখে নিজের সর্বস্ব ঢেলে দিয়েেছন। ব্যারিস্টার নওফেল বলেন, দলের দুঃসময়ে অনেকে সাহস হারিয়ে ফেলেন। অনেক বড় বড় নেতাও দলের প্রতি আস্থা হারান। তবে বাবু চাচা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের প্রতি, বঙ্গবন্ধু কন্যার প্রতি আস্থা হারাননি। তিনি বলেন, আমার রাজনৈতিক যোগ্যতা এবং অভিজ্ঞতা তেমন বেশি নয়। তবে আমার সৌভাগ্য- এ ক্ষুদ্র সময়ে আমি বাবু চাচার স্নেহ পেয়েছি। ‘১/১১ এর সময় আমার বাবা যখন গ্রেফতার হন, আমি তখন লন্ডনে। হঠাৎ একদিন সেখান আমাদের সকলের সুপরিচিত আইনজীবী ব্যারিস্টার মনোয়ার সাহেব আমাকে বললেন, তোমাকে বাবু ভাই দেখা করতে বলেছেন। তখন আমি বাবু চাচার বাসায় গিয়েছি। তিনি আমাকে অভয় দিয়ে বলেছিলেন, এখন যে দুঃসময় দেখছো, এরচেয়ে কঠিন সময় আমরা পার করে এসেছি। এরচেয়েও কঠিন দুঃসময় বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার উপর দিয়ে গেছে। এগুলো কিছুই না। যারা ক্ষমতায় এসেছে, বসেছে, তারা বেশীদিন টিকতে পারবে না। সেদিন তার কথায় সাহস পেয়েছিলাম।’
নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেন, ৭৫ পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করতে আখতারুজ্জামান বাবু ভাই নিরলসভাবে কাজ করেছেন। আমরা যারা এখন রাজনীতি করছি তাদের বাবু ভাইয়ের কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার আছে। মেয়র বলেন, বিত্তবানরা দলকে নিজের পৈতৃক সম্পত্তিতে পরিণত করে যাচ্ছেন। কিন্তু বাবু ভাই বিত্তশালী ছিলেন কিন্তু সাধারণ মানুষকে আপন করে কাছে টেনে নিতে পারতেন। যেটি এখন রাজনীতিতে হারিয়ে গেছে। বিত্তবানরা এখন দলকে নিজের পৈতৃক সম্পত্তিতে পরিণত করে যাচ্ছেন।
আওয়ামী লীগের উপ প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন বলেন, বাবু ভাইয়ের মতো এতো উদার চরিত্রের নেতা আমি খুব কমই দেখেছি। ছাত্র জীবনে একবার বাবু ভাইয়ের সান্নিধ্যে যাওয়ার আমার সুযোগ হয়েছিল। দূর থেকে মানুষটিকে যেভাবে দেখতাম-কাছে গিয়ে দেখি উনার মতো এতো বিশাল হৃদয়ের নেতা খুব কমই আছে।
আওয়ামীলীগের উপ দপ্তর সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, বাবু ভাই তাঁর অর্জিত সম্পদ দলের জন্য ব্যয় করেছেন। টাকা দিয়ে তিনি রাজনীতি করেননি। বাবু ভাই যে মানের নেতা ছিলেন তিনি চাইলে রাজনীতি করে নিজের বিত্তকে আরো বাড়াতে পারতেন। কিন্তু তিনি সেটা করেননি। তিনি এই চট্টগ্রামের রাজনীতির অভিভাবক ছিলেন।
উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এমএ সালাম বলেন, বাবু ভাইয়ের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে আমরা তার কর্মী হিসেবে কাজ করেছি। দলের দুঃসময়ে আমাদেরকে অর্থ দিয়ে পরামর্শ দিয়ে শক্তি সাহস যুগিয়েছেন। স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে আমি দীর্ঘদিন বাবু ভাইয়ের সান্নিধ্যে থেকে কাজ করেছি। তিনি যত বড় বিপদই আসুকনা কেন-কোন কিছুতেই ভেঙ্গে পড়তেন না। দলের কর্মীদের পাশে থেকে সাহস দিতেন। এটাই তার বড় গুণ। ৭৫’ পরবর্তী সময়ে এই চট্টগ্রামে যখন নেতৃত্ব দেয়ার মতো কেউ ছিলনা। তখন বাবু ভাই আমাদেরকে গোপনে ডেকে দলের জন্য কাজ করার নানান পরামর্শ দিতেন। দলের জন্য বাবু ভাইয়ের ত্যাগ আওয়ামী লীগ কখনো ভুলতে পারবে না।
সভাপতির বক্তব্যে দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমেদ বলেন, বাবু ভাই একজন ধনাঢ্য ব্যক্তি হলেও তার বাড়িতে সর্বসাধারণের অবাধ যাতায়াত ছিল। গণমানুষের নেতা ছিলেন আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু ভাই। তিনি ব্যবসায়ীদের সংগঠনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এবং তাদেরও নেতা ছিলেন। দলের ঐক্যের প্রতীক আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু সর্বক্ষেত্রে সফল মানুষ ছিলেন। আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের প্রায় পুরোটা সময় বাবু ভাইয়ের সান্নিসধ্যে থেকে কাজ করেছি। বাবু ভাই আমাকে স্নেহ করতেন। আমি তাকে সম্মান করতাম। নেতা মানতাম। দলের সকল-দুর্যোগ-ক্রান্তিকালে দুজনে পাশাপাশি থেকে দলের জন্য কাজ করেছি। তিনি আমাকে যেভাবে বলতেন-আমি সেইভাবে দলের জন্য কাজ করেছি। আমাদের মধ্যে কখনো বিন্দু পরিমাণে ভুল বুঝাবুঝি হয়নি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নগর আওয়ামী লীগ নেতা আবদুচ ছালাম, রূপালী ব্যাংকের পরিচালক সাংবাদিক আবু সুফিয়ান, কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামী লীগের সদস্য রিজিয়া রেজা চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি চেমন আরা বেগম, সাধানরণ সম্পাদক শামীমা হারুণ লুবনা, সহ সভাপতি শাহিদা আকতার জাহান, সাতকানিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল মোতালেব, আনোয়ারা উপজেলা চেয়ারম্যান তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরী, বাঁশখালী উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল গালিব সাদলী, অ্যাডভোকেট আবদুর রশিদ, নুরুল আবসার চৌধুরী, মফিকুল ইসলাম ফারুক, মশিউর রহমান চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার ইসলাম আহমদ, দিদারুল আলম চেয়ারম্যান, খালেদা আকতার চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহবায়ক মো. ফারুক, দক্ষিণ জেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি হাবিবুর রহমান চেয়ারম্যান, চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, শাহজাদা মহিউদ্দিন, আবদুল কাদের সুজন, খোরশেদ আলম, আবু আহমেদ জুনু, বিজন চক্রবর্তী।

x