চকরিয়ায় পানিতে ভাসছে কয়েক লাখ মানুষ

খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট, ঢলের পানির তোড়ে ভাঙনের কবলে তৃতীয় মাতামুহুরী সেতু

ছোটন কান্তি নাথ, চকরিয়া

রবিবার , ১৪ জুলাই, ২০১৯ at ২:৪০ অপরাহ্ণ
238

টানা বর্ষণ ও উজান থেকে ঢলের পানি মাতামুহুরী নদীতে আসা অব্যাহত থাকায় এখনো ভাসছে কক্সবাজারের চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার ২৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার অন্তত চার লাখ মানুষ। এই অবস্থায় বন্যাদুর্গত মানুষগুলো বেশি সমস্যায় পড়েছেন খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে।

কোথাও কোথাও ঘরের চাল পর্যন্ত পানিতে ডুবে থাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে হাজারো মানুষ। মাঝখানে পানি অনেকটা নেমে গেলেও ফের টানা ভারী বর্ষণে পানিবন্দী হয়ে পড়ে এসব মানুষ। অভ্যন্তরীণ সড়কগুলো ডুবে থাকায় এবং ভেঙে যাওয়ায় সরাসরি উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে দুই উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের। এতে চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিনাতিপাত করছেন ভুক্তভোগী মানুষগুলো।

তবে সরকারিভাবে গতকাল শনিবার সকাল থেকে বন্যাদুর্গত এলাকায় জিআর চাল, শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানি বিতরণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে সরকারিভাবে। এতে বন্যাদুর্গতরা অনেকটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন।

চকরিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফজলুল করিম সাঈদী ও ইউএনও নূরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমান এবং পেকুয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) উম্মে কুলসুম মিনু ও ইউএনও মো. মাহবুব-উল করিম ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।

এদিকে বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেছেন কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য জাফর আলম। তিনি গতকাল শনিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কাকারা, বদরখালী, ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেন এবং দুর্গতদের সঙ্গে কথা বলে। এ সময় তিনি বন্যাপরবর্তী ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার উন্নয়নে কী পদক্ষেপ নেবেন তা সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে ধারণা নেন।

এ প্রসঙ্গে সংসদ সদস্য জাফর আলম বলেন, ‘এবারের একটানা ৮দিন ধরে ভারী বর্ষণ ও মাতামুহুরী নদীর ঢলের পানিতে চকরিয়ায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই বন্যাপরবর্তী ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে বৃহৎ পরিসরে সহায়তা ও এলাকার উন্নয়নে জোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’

এমপি জাফর আলম বলেন, ‘আমার নির্বাচনী এলাকা চকরিয়া ও পেকুয়ার একজন মানুষও যাতে অভুক্ত না থাকে সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে চকরিয়ার জন্য ৪০ মেট্টিক টন চাল ও পেকুয়ার জন্য ২০ মেট্টিক টন চাল সরকারিভাবে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি বিতরণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।’

পার্বত্য অববাহিকার উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানির তোড়ে চকরিয়ার বিএমচর ইউনিয়নস্থ মাতামুহুরী তৃতীয় সেতুর পশ্চিমাংশের এপ্রোচসহ বিশাল এলাকা ভাঙনের কবলে পড়েছে। এতে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে সেতুটির। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আজ রবিবার থেকে সেতুর ক্ষতিগ্রস্ত পয়েন্টে জরুরী বরাদ্দে কাজ শুরু করবেন।

এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী তয়ন কুমার ত্রিপুরা বলেন, ‘ভাঙনের কবলে পড়ে হুমকির মুখে পতিত হওয়া বিএমচরের বেতুয়াবাজারের মাতামুহুরী সেতুর ক্ষতিগ্রস্ত এপ্রোচসহ আশপাশের বসতি রক্ষায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আগামীকাল (আজ) থেকে জরুরী বরাদ্দে কাজ শুরু করা হবে। এছাড়াও চকরিয়ার যেসব স্থানে পাউবোর বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাও জরুরীভিত্তিতে মেরামত করে দেয়ার কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।’

x