চকরিয়ায় গিয়াসকে প্রার্থী করায় কলাগাছ রোপণ করে প্রতিবাদ

উপজেলা নির্বাচন

চকরিয়া প্রতিনিধি

সোমবার , ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ at ১০:২১ পূর্বাহ্ণ
115

দ্বিতীয় পর্বে আগামী ১৮ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী হিসেবে দলের উপজেলা সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন চৌধুরীর নাম ঘোষণার পর তৃণমূলের নেতাকর্মীরা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কসহ উপজেলা জুড়ে কলাগাছ রোপণ করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাদের দাবি, ক্রীড়া সংগঠক ও শ্রমিক নেতা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ফজলুল করিম সাঈদীকেই তারা দলের একক প্রার্থী হিসেবে চান। তারা অভিযোগ করেন, বন উজাড় মামলায় ৬ মাসের কারাদণ্ড প্রাপ্তসহ বহু অভিযোগ রয়েছে গিয়াস উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে। ফলে তারা শ্রমিকনেতা ফজলুল করিম সাঈদী বা পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহেদুল ইসলাম লিটুকে একক প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ার দাবি করেন।
এদিকে দুপুরে স্থানীয় একটি হোটেলে জরুরি বৈঠকে মিলিত হন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক, পৌরসভা আওয়ামী লীগ, উপজেলা যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ ও শ্রমিকলীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি শওকত হোসেন। সভায় বক্তব্য দেন চকরিয়া পৌরসভা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতিক উদ্দিন চৌধুরী, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি শহীদুল ইসলাম শহীদ, সাধারণ সম্পাদক কাউছার উদ্দিন কছির, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক ও পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বাবলা দেবনাথ, পৌরসভা শ্রমিকলীগের সভাপতি জহিরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল ধলু, উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আরহান মাহমুদ রুবেল, মাতামুহুরী সাংগঠনিক ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মিজবাহ উদ্দিন বেলাল প্রমুখ।
বৈঠকে নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক হিসেবে প্রায় ১৩ বছর এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ৮ বছর দায়িত্ব পালন করছেন গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী। কিন্তু দলের কোনো কর্মসূচি পালনের সময় তৃণমূলের নেতাকর্মীরা তার কাছ থেকে কোনো সহয়তা পাননি।
নেতৃবৃন্দ আরো অভিযোগ করেন, রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে যারা দিনের পর দিন সময় দিয়েছেন, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় বছরের পর বছর জেলের ঘানি টেনেছেন তাদেরকে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। তাই তৃণমূলের মতামত ছাড়াই গিয়াসকে একক প্রার্থী ঘোষণা করায় আমরা মেনে নিতে পারছি না।
উপজেলা যুবলীগের সভাপতি শহীদুল ইসলাম শহীদ বলেন, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তৃণমূলের আশা-আখাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হয়নি। তাই যুবলীগের কোনো নেতাকর্মী গিয়াসের পক্ষে মাঠে কাজ করবে না। প্রয়োজনে দল থেকে বহিষ্কার করা হলেও তাতে আমরা অনড় থাকব।’
উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি শওকত হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক বাবলা দেবনাথ বলেন, দলীয় কর্মসূচিতে শুধুমাত্র বর্তমান এমপি জাফর আলমই যা সহায়তা করার করতেন। গিয়াস উদ্দিন এক টাকাও দলের জন্য ব্যয় করেননি। তাই তাকে আমরা কোনো ভাবেই মানতে পারি না। আমরা জেল-জুলুম নির্যাতনের শিকার ফজলুল করিম সাঈদীর পক্ষে মাঠে কাজ করব।
এ ব্যাপারে গতরাত পৌনে নয়টার দিকে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে গিয়াস উদ্দিন চৌধুরীর ব্যবহৃত মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে স্বজনরা জানিয়েছেন, তিনি বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন।

x