ঘুমিয়ে ছিলেন তূর্ণা নিশীথার চালক ও সহকারী

দুর্ঘটনা তদন্তে ৫ কমিটি

আজাদী প্রতিবেদন

বুধবার , ১৩ নভেম্বর, ২০১৯ at ২:৫০ পূর্বাহ্ণ
611

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার মন্দবাগ রেলওয়ে স্টেশনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগে তূর্ণা নিশীথার লোকোমোটিভ মাস্টার ও সহকারী মাস্টারসহ তিনজনকে বরখাস্ত করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর গতকাল দুপুরে সিআরবি রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সদর দপ্তরে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের উপ পরিচালক (জনসংযোগ) তৌষিয়া আহমেদ আজাদীকে জানান, ঘটনার
মঙ্গলবার সকালে রেলপথ মন্ত্রী দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসলে সাংবাদিকদের জানান ‘তূর্ণা নিশীথা ট্রেনের লোকোমোটিভ মাস্টার সিগন্যাল ভঙ্গ করে উদয়নকে ধাক্কা দিলে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় তূর্ণা নিশীথার লোকোমাস্টার তাছের উদ্দিন, সহকারী লোকোমাস্টার অপু দে ও ওয়ার্কিং গার্ড আব্দুর রহমানকে বরখাস্ত করা হয়েছে। মন্ত্রী এসময় সাংবাদিকদের বলেন, এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানার জন্য জেলা প্রশাসন ও রেলপথ মন্ত্রণালয় থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। এখানে উদয়ন এক্সপ্রেসের কোনো ত্রুটি দেখছি না।
এদিকে রেলওয়ের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন তূর্ণা নিশীথার চালক (লোকোমাস্টার) তাহের উদ্দিন ও সহকারী অপু দে ঘুমিয়েছিলেন। তাদের গাফিলতির কারণে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনার পর রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দুর্ঘটনার কারণ চালকের অসচেতনতাকে দায়ী করেছেন। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের পাহাড়তলী বিভাগীয় অফিসের পরিবহন বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান অটো ব্রেক দিয়ে দুজনেই হয়তো ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। তারা যদি জেগে থাকতো তাহলে তিনটি সিগন্যাল ছিল। তারা ট্রেন থামননি কেন প্রশ্ন করেন পরিবহন বিভাগের ঐ কর্মকর্তা। তারা অটো ব্রেক দিয়ে যে ঘুমিয়ে ছিলেন-তাতেই প্রমান হয়।
তবে রেলওয়ে উর্ধতন কর্মকর্তা যারাই গতকাল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছেন এবং সিআরবি এবং পাহাড়তলীতে ছিলেন তারা সবাই বলেছেন চালক ও সহকারী চালকের অবহেলার কারণেই এই দুর্ঘটনা। তারা ঘুমিেেয় ছিলেন। না হলে এতো বড়ো দুর্ঘটনা ঘটতো না।
এদিকে দুর্ঘটনার পর থেকে তূর্ণা-নিশীথা এক্সপ্রেস ট্রেনের লোকোমাস্টার ও গার্ড পলাতক রয়েছে বলে জানা গেছে। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সোমবার দিনগত রাত ৩টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার মন্দবাগ রেলওয়ে স্টেশনে উদয়ন এক্সপ্রসেকে ধাক্কা দেওয়ার ঘটনার পর থেকেই তাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। পলাতক লোকোমাস্টার, সহকারী লোকোমাস্টার ও গার্ডকে খোঁজা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রেল সচিব মোফাজ্জেল হোসেন। তিনি বলেন, তাদের খোঁজা হচ্ছে, গ্রেফতারের পর আইনের আওতায় আনা হবে।
পাঁচটি তদন্ত কমিটি গঠন
ট্রেন দুর্ঘটনায় ১৬ জন নিহতের ঘটনার কারণ তদন্তে রেল মন্ত্রণালয় ৪ সদস্যের উচ্চ পর্যায়ে একটি তদন্ত কমিটিসহ মোট ৫টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এরমধ্যে বাংলাদেশ রেলওয়ের পক্ষ থেকে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অপরদিকে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অধীনে সরকারি রেলপথ পরিদর্শক নিজে পরিদর্শন করে মন্ত্রণালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন পেশ করবেন এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকেও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
রেলপথ মন্ত্রণালয় থেকে গঠিত উচ্চ পর্যায়ের ৪ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটির কর্মকর্তারা হলেন-আহ্বায়ক মো. রফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব (আইন ও ভূমি), মু. আবুল কালাম, প্রধান সংকেত ও টেলিযোগাযোগ, বাংলাদেশ রেলওয়ে, সদস্য, রাশিদা সুলতানা গনি, যুগ্ম মহাপরিচালক (অপারেশন), বাংলাদেশ রেলওয়ে, সদস্য এবং মীর আলমগীর হোসেন, উপসচিব রেলপথ মন্ত্রণালয় সদস্য। এই কমিটিকে আগামী ৫ কার্যদিবসের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন পেশ করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এদিকে বাংলাদেশ রেলওয়ের পক্ষ থেকে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভাগীয় প্রধান পর্যায়ের কর্মকর্তাগণের সমন্বয়ে ৪ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির কর্মকর্তারা হলেন, আহবায়ক মো. নাজমুল ইসলাম, চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট (পূর্ব), সদস্যরা হলেন, মো: মিজানুর রহমান, চিফ মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার (পূর্ব), মো: সুবক্তগীন, প্রধান প্রকৌশলী, (পূর্ব), এবং অসীম কুমার তালুকদার, চিফ সিগন্যাল এন্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ার (পূর্ব)। উক্ত কমিটিতে যথাসম্ভব দ্রুত তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এদিকে বিভাগীয় কর্মকর্তাগণের সমন্বয়ে গঠিত ৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির কর্মকর্তারা হলেন-আহবায়ক মো: নাসির উদ্দিন, বিভাগীয় ট্রান্সপোর্ট অফিসার, চট্টগ্রাম। সদস্যরা হলেন- মো: জাহিদ আরেফিন তন্ময়, বিভাগীয় সিগন্যাল এন্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ার, চট্টগ্রাম, মো: হামিদুর রহমান, বিভাগীয় প্রকৌশলী-১, চট্টগ্রাম, ফয়েজ আহম্মদ খাঁন, বিভাগীয় মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার/লোকো, চট্টগ্রাম এবং ফাতেমা বেগম, বিভাগীয় মেডিক্যাল অফিসার, চট্টগ্রাম। উক্ত তদন্ত কমিটিকে আগামী ২ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

x