গ্রামীণ মেলায় আকর্ষণ এখন রবিউলের নিউ কাশ্মীরী আচার

মীর আসলাম : রাউজান

সোমবার , ১৩ জানুয়ারি, ২০২০ at ৫:৩৮ পূর্বাহ্ণ
8

গ্রামীণ মৌসুমী মেলায় সাজিয়ে বসা অন্যান্য পন্যের স্টলের মধ্যে এখন অন্যতম আকর্ষণ রবিউলের আচার। মেলায় লম্বা কাঁচের বাঙের খোপে খোপে সাজিয়ে রাখা রবিউলের স্টলে থাকে ৩০ পদের আচার। টক মিষ্টি ঝাল দিয়ে তৈরী আচারের মৌ মৌ সুগন্ধের এই স্টলে কাছে টানে আচার প্রিয় মানুষকে। নানা বয়সী মানুষের ভিড় করে পছন্দের আচারের স্বাদ নিতে। সম্প্রতি রাউজানের বিজয় মেলায় রবিউলের স্টলের বেষ্টনীর বাইরে কেউ দাড়িঁয়ে আচারের স্বাদ গ্রহন করে অনেকই। আবার কেউ কৌটায় করে নিয়ে যায় নিজেদের বাসা বাড়িতে স্বজনদের উপহার দিতে।
আচার বিক্রেতা রবিউল হোসেন বলেছেন স্বাস্থ্য সম্মত পরিবেশ ও পদ্ধতিতে আচার তৈরী করেন তিনি। ঘানি ভাঙ্গা শরিষার তেল আর ননা পদের মসল্লা ব্যবহার করেন আচার তৈরীতে। ব্যবহার করেন নানা রাসায়নিক কোনো উপকরণ।
রাউজান উপজেলার গশ্চি গ্রামের এক গরীব পরিবারে জন্ম আচার বিক্রেতা রবিউলের। তার পিতা ওই গ্রামের নাদির উজ্জামান। রবিউল জানায় গত প্রায় দুই দশক থেকে তিনি আচার তৈরী করে রাউজান, ফটিকছড়ি, রাঙ্গুনিয়া, বোয়ালখালী,হাটহাজারীসহ শহরের বিভিন্ন মৌসুমী মেলায় স্টল সাজিয়ে বিক্রি করে আসছেন। তারা এই ব্যবসায় চলে স্ত্রী সন্তান নিয়ে সুখের সংসার। দুই সন্তানকে শিখাচ্ছেন লেখাপড়া।
শিশু কালের কাহিনী শুনিয়ে তিনি বলেন, অভাবের সংসারে তার লেখাপড়া তেমন করা হয়নি। গ্রামীণ মক্তবে পড়ার সময়ে তিনি বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন সিলেটে।
সেখানে তার সাথে পরিচয় হয় শফিকুল ইসলাম নামের এক আচার বিক্রেতার। সেই সময় শফিকুলের তৈরী রুহানী আচার ছিল সিলেটবাসীর প্রিয়। প্রায় দেড় বছর ওস্তাদ শফিকুলের আশ্রয়ে থেকে আচার তৈরীর পদ্ধতি রপ্ত করেন। ওস্তাদের অনুমতি নিয়ে দুই হাজার ১০ সালে সিলেট থেকে ফিরে আসেন নিজ বাড়ীতে। এরপর নিজে হাত দেন আচার তৈরীর কাজে। প্রথম থেকে ছোট পরিসরে তৈরী করা আচার হাটবাজার ও খেলা মেলায় বিক্রি করে সফলতা পায়। রবিউল বলেছেন পাহাড়ী ও গ্রামীণ হাট বাজারে ঘুরে তিনি সংগ্রহ করেন উৎপাদিত ফলমূল। এসব ফলমূল সংগ্রহ করে নিজের ঘরে বসে তৈরী করেন বিভিন্ন স্বাদের আচার। তার আচারের নাম নিউ কাশ্মীরী আচার। মেলায় সাজিয়ে রাখা রবিউলেরর স্টলে দেখা যায় বড়ই, চালতা,তেঁতুল,আমড়া, আমলকি,রসুন, কামরাঙ্গা, জলপাই, হরিতকি, খেজুরসহ ৩০ পদের আচার।